Alexa ইইউ পার্লামেন্টে ভারত সমালোচনা, আপত্তি জানিয়ে চিঠি

ইইউ পার্লামেন্টে ভারত সমালোচনা, আপত্তি জানিয়ে চিঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৪ ২৮ জানুয়ারি ২০২০  

ওম বিড়লা

ওম বিড়লা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পার্লামেন্টে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনামূলক একটি প্রস্তাব তোলার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ইইউ পার্লামেন্টে চিঠি পাঠিয়েছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জম্মু-কাশ্মীরে নেয়া কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এ প্রস্তাব পেশ করা হবে। 

চলতি মাসের ২৯ তারিখ ইইউ পার্লামেন্টে এই প্রস্তাবটির ওপর বিতর্ক শেষে ভোটাভুটি হবে বলে জানা গেছে। তবে আগে থেকেই ইইউ-এর তৎপরতার বিরুদ্ধে একে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। 

এর আগে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও উপ-রাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কইয়া নাইডু। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোকসভার স্পিকারের চিঠি।

সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৭৫১ জন সদস্যের মধ্যে ৬২৬ জন সিএএ ও জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ৬ টি বিরোধী প্রস্তাব পেশ করেছে। ইইউ পার্লামেন্টের বহু এমপি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারত সরকার যেভাবে সিএএ কার্যকর করেছে সেটি বিশ্বে বৃহত্তরভাবে রাষ্ট্রহীনতার আশঙ্কা তৈরি করবে। ফলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। 

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তার চিঠিতে ইইউ পার্লামেন্টের সভাপতিকে সম্বোধন করে বলেছেন, এ ধরণের প্রস্তাব একটি অস্বাস্থ্যকর নজির স্থাপন করবে। একটি আইনসভার পক্ষে অন্যের ওপরে রায় চাপিয়ে দেয়ে অনুচিত বলেও দাবি করেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এটি এমন অভ্যাস যা স্বার্থের কারণে অপব্যবহার করা যায়, তাই এটিকে পুনর্বিবেচনা করা হোক।

ওম বিড়লা আরো বলেন, ভারতের সংসদের উভয় কক্ষে যথাযথভাবে বিবেচনা করেই নাগরিকত্ব আইন পাস করা হয়েছে। এই আইনে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে যারা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছে তাদের সহজ উপায়ে নাগরিকত্ব দানের বিধান রয়েছে। কারো কাছ থেকে নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে এটি আনা হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রোববার সিএএ বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় ইইউ। আইনটি নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে  ছয়টি খসড়া প্রস্তাব পেশ করে ইইউ’র অধিকাংশ সদস্য। প্রস্তাবে সিএএ’কে বৈষম্যমূলক এবং ভয়ানক বিভাজনকারী বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করে, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। এটি কোনো ভাবেই কাম্য নয়। এছাড়া কাশ্মীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেও ভারত সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। 

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রাজনৈতিক গোষ্ঠী নর্ডিক গ্রিন লেফট এর পক্ষ থেকে কাশ্মীরের উপরে জারি রাজনৈতিক অবরুদ্ধকরণ এবং ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ জারির নিন্দা জানানো হয়। এছাড়া গতবছর ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে (৩৭০ ধারা) বাতিল করে দেয়ায়ও নিন্দা জানায় তারা। 

সূত্র- পার্সটুডে

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএমএফ