আড়াই বছর ধরে সচিবের কাজ করছেন চেয়ারম্যান

আড়াই বছর ধরে সচিবের কাজ করছেন চেয়ারম্যান

যশোর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:০৩ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:১৮ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে যশোরের মণিরামপুরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউপি মশ্মিমনগর। অধিক জনবহুল হলেও এ ইউপিতে আড়াই বছর ধরে স্থায়ী কোনো সচিব নেই। ফলে সেবা নিতে এসে জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। 

পরিষদের কাজকর্মে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। সচিব না থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জনসেবার পাশাপাশি পরিষদের দাফতরিক কাজ করেন। 

শনিবার ছুটির দিন থাকলেও সরেজমিনে তাকে কাঁঠালতলা বাজারে নিজ কার্যালয়ে দাফতরিক কাজ করতে দেখা গেছে। 

ভোটে জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সেবার কাজ সচল রাখতে চেয়ারম্যান নিজেই সচিবের কাজগুলো করেন বলে জানান।

সাত হাজার ৫৯২ বর্গ কিলোমিটারের মশ্মিমনগর ইউপির মোট জনসংখ্যা ৩০ হাজার ১১৫ এবং ভোটার সংখ্যা ২৪ হাজার। প্রতিদিনই ট্রেড লাইসেন্স, জন্মসনদ, মৃত্যুসনদ, ওয়ারিশ কায়েম সনদ, নাগরিক সনদপত্রসহ নানা কাজে ইউনিয়ন পরিষদে আসেন স্থানীয়রা। এসব কাজের দায়িত্ব ইউপি সচিবের হওয়ায় তাকে না পেয়ে ফিরে যেতে হয় পরিষদে আসা লোকজনকে।

উপজেলার চালুয়াহাটি ইউপি সচিব বিল্লাল হোসেন সপ্তাহে সোমবার ও বুধবার দুই দিন মশ্মিমনগর ইউপিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি অপ্রতুল।

ইউপির নোয়ালী গ্রামের আব্দুল গফুর গাজী বলেন, আমার ছেলের কলেজে ভর্তির জন্য জন্মসনদ লাগবে। চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছি। তিনি বলেছেন সচিব নেই। সোমবার পরিষদে যেতে।

সচিব বেল্লাল হোসেন বলেন, বড় দুই ইউপির দায়িত্ব পালন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব না। মশ্মিমনগর ইউপিতে স্থায়ী সচিব একান্ত প্রয়োজন।

চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, আড়াই বছর ধরে আমার পরিষদে স্থায়ী সচিব নেই। ফলে বিভিন্ন ফাইলপত্র তৈরি করতে দাফতরিক কাজগুলো আমাকেই করতে হয়। এজন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ব্যক্তিগত অফিসে বসে ফাইলপত্রের কাজ করি। জন্মসনদসহ যে কাজে সচিবের স্বাক্ষর লাগে সেটা তার অপেক্ষায় রেখে দিই।

চেয়ারম্যান আরো বলেন, সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে মেয়ের জন্য জন্মসনদ চাইতে আসেন মশ্মিমনগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম। সচিব না থাকায় তাকে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ বিলে স্বাক্ষরের জন্যও সচিবের অপেক্ষায় থাকতে হয়। ফলে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সচিব বাদে পরিষদ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। স্থায়ী সচিবের জন্য ডিসি বরাবর আবেদন জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

যশোরের ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, আড়াই বছর ধরে মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদে সচিব নেই, এমনটি আমার জানা নেই। পাশের একজনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া আছে।

বড় ইউনিয়ন, সপ্তাহে দুই দিনে একজনের দ্বারা সব কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না এমনটি জানালে ডিসি বলেন, দ্রুত অন্য একজনকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/আরআর