Alexa আসামে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গাড়িবহরে হামলা

আসামে বাংলাদেশ হাইকমিশনের গাড়িবহরে হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাশের বিরুদ্ধে আসাম রাজ্যজুড়ে অব্যহত রয়েছে আন্দোলন। চলমান এ সহিংসতা এবং কারফিউর পটভূমিতে রাজ্যটির গুয়াহাটিতে বাংলাদেশ হাই-কমিশনের গাড়ীবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার বিমানবন্দর থেকে নগরীতে যাওয়ার সময় সহকারী হাইকমিশনারকে বহনকারী গাড়ীবহরে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীরা গুয়াহাটি হাইকমিশন থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরে দুটি সাইন পোস্ট ভেঙে ফেলে। 

এ ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব কামরুল আহসান ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ প্রতিবাদ জানান।

এ সময় তিনি, ভারতীয় সরকারকে হাইকমিশনের কর্মী ও সম্পত্তি রক্ষার আহ্বান জানান। অবশ্য ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এটি নেহায়েতই একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। বিষয়টি জানার পরই গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনের নিরাপত্তা কয়েকগুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেখানে সব কর্মী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা বিধানে সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত সরকার।

সাক্ষাৎকালে রিভা গাঙ্গুলি জানান, এটি একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। তবে এর ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটির মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ভারতের সংসদের উচ্চ কক্ষ রাজ্য সভায় বৃহস্পতিবার নাগরিকত্ব সংশোধন আইনটি পাশ হওয়ার পর থেকেই আসামের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়।

রাতভর বিক্ষোভের পর রাজ্যটিতে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সাথে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকেই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, ভারতের যথাযথ কর্তৃপক্ষ সহকারী হাই কমিশন এলাকা, কমিশনের কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় এরই মধ্যে ব্যবস্থা জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

গাড়ীবহরে হামলার ঘটনাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেখা হচ্ছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে। এবং বাংলাদেশ ও ভারত দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে বাংলাদেশ মনে করে।

এদিকে সংসদে সিটিজেন শিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বা সিএবি নামে পরিচিত এই বিতর্কিত বিলটির বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল। ভারতের বিভিন্ন মুসলিম দলের নেতারাও বিলটিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ