Alexa আসামের নাগরিক নিবন্ধন ইস্যু বাস্তবে বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া

আসামের নাগরিক নিবন্ধন ইস্যু বাস্তবে বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া

প্রকাশিত: ১৬:৩১ ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩৬ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

‘এখানে-সেখানে শুরু হয়েছে বাঙাল খেদা। প্রবাসী বাঙালির সেইসব দীর্ঘলালিত শিকড় সমেত উপড়ে ফেলছে বাঙালিকে। বাঙালি প্রবাস থেকে হতমান্য হয়ে ফিরে আসছে স্ববাসে। 

অথবা আহত মান্য হয়ে সেখানেই পড়ে আছে বাপ-ঠাকুরদার বানানো (ভাঙা) প্রাসাদপুরীতে।‘ (ঢেউ গুনছি সাগরের – আশাপূর্ণা দেবী)। ভারতের আসাম প্রদেশে বাঙালি বিদ্বেষ নতুন কিছু নয়। প্রখ্যাত লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখায় আমরা অহমিয়াদের বাঙালি বিতারণের বর্ণনা পাই। কিছুদিন আগে আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের প্রথম খসড়া প্রকাশ হতেই সেই পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশংকার উদয় হচ্ছে। অহমিয়া বাঙালি দ্বন্দ্ব। নাগরিক নিবন্ধনের জন্যে আসামের ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে বাদ পড়েছে ১  কোটি ১৯ লাখ আবেদনকারী। কারা এরা? এদের মধ্যে মধ্যে প্রায় সত্তর শতাংশের বেশি হচ্ছে বাঙালি। হিন্দু ১২ লক্ষ এবং গোর্খা ১ লক্ষ। এতেই ফেঁসে গেছে বিজেপি। এদের মধ্যে সিংহভাগই তাদের ভোটার। আরএসএস তাদের অসন্তুষ্টির কথা সরাসরি বলেছে। মিছিল করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমির শাহের নাগরিক সংশোধনী বিল আনার প্রতিশ্রুতিকে তারা পাত্তা দিচ্ছে না। কারণ ভারতে সংবিধান অনুযায়ী ভারতে কোনো বিশেষ ধর্মবিশ্বাসের মানুষকে আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা দেয়া যায় না। আসামে তারা ধ্বনি তুলেছে– এন আর সি তুলে নাও। আর কে না জানে যে বিজেপি’র ক্ষমতা নেই আরএসএস’কে চটানোর।  

এদিকে তালিকা প্রকাশের পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেছেন, মূলত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিশ্ছিদ্র করা আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। আমি ওই প্রতিশ্রুতি পূরণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আসামে বসবাসরত বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কে এই সোনোয়াল?   

আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এর আগে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (আসু) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তারপরে অসম গণপরিষদে। বিজেপিতে  আসেন ২০১১ সালে। নাগরিক নিবন্ধনের দাবি জানিয়ে তিনি গৌহাটি আদালতে আবেদন করেন তার ছাত্রাবস্থায়। এরই পরিপেক্ষিতে ২০০৫ সালে দেয়া রায়ে হাইকোর্ট নাগরিক নিবন্ধন নবায়নের আদেশ দেন। বিষয়টির পক্ষে-বিপক্ষে মামলা, পাল্টা মামলা, আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে নিবন্ধনের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। আসামের কট্টরপন্থী রাজনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কথিত বাংলাদেশিদের উপস্থিতিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করছেন। খসড়া তালিকা প্রকাশকে তারা নিজেদের বিজয় হিসেবে ব্যাপারটা দেখেছিলেন। নির্বাচনে জেতার পরই সোনোয়াল ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার সরকারের প্রথম কাজই হবে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং বাংলাদেশের সঙ্গে আসামের ২৬৩ কিলোমিটার সীমান্ত সিল করে দেয়া। এর মধ্যে ৪০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া নেই, আসাম সরকার মনে করে, অনুপ্রবেশকারীরা এই পথ দিয়ে আসামে অনুপ্রবেশ করছে। গত ৩০ বছরে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ হয়েছে, যাদের বেশির ভাগই ‘বাংলাদেশি’ বলে ধরা হয়। ৭০ লাখ কথিত বাংলাদেশিদের মধ্যে মুসলিমের সংখ্যাই বেশি। এর মধ্যে তিন লাখ হিন্দু বাঙালিও আসাম থেকে বহিষ্কারের মুখে রয়েছেন।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ১৯৮৫ সালে প্রয়াত রাজীব গান্ধীর কংগ্রেস সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত ‘আসাম চুক্তি’ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে রেখেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর যেসব বিদেশি অবৈধভাবে আসামে অভিবাসী হিসেবে ঢুকেছে, তাদের শনাক্ত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে স্বদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ বছর পরও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় অহমীয়াদের মধ্যে জমছিল ক্ষোভ ও হতাশা। এ কারণে কট্টর অহমীয় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল অসম গণপরিষদ এবং বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে জেতার পর বিজেপি বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারেনি।  গত ১৫ বছর আসামের ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক ছিল না এমন ধারণাই বদ্ধমূল ছিল আসামের ভূমিপুত্রদের মনে। তবে মুখ্যমন্ত্রী সোনোয়াল এটাও বলেছেন, এক্ষেত্রে হিন্দু বা মুসলিমের কোনো প্রশ্ন নেই। ভারতের বৈধ নাগরিকত্ব থাকতে হবে। বিষয়টি রাজ্যস্তরীয় নয়, এটা জাতীয় ইস্যু। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে।

অহমিয়াদের বাঙালি বিদ্বেষ নতুন নয়। ১৯৪৮ সালের ১ লা মে আসামের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া অহমিয়া ও বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে একটি জাতিগত দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। গুয়াহাটিতে বাংলা-মালিকানাধীন দোকানগুলি লুট করা হয়েছিল অহমিয়াদের দ্বারা। ১৯৫৬ সালে, পূর্ববাংলার অবিভক্ত গোয়ালপাড়া জেলায় ব্যাপক অস্থিরতার সৃষ্টি  হয়, যখন রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন জেলার সাথে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য জেলা পরিদর্শন করে। প্রায় ২৫০ বাংলা ভাষা মাধ্যমের মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে রাতের অন্ধকারে অহমিয়া ভাষার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়। ১৯৬০ সালের জুন মাসে বাঙালি হিন্দুদের উপর হামলা শুরু হয়। এটি প্রথম গুয়াহাটির কটন কলেজে শুরু করে এবং তারপর রাজ্যের সমস্ত স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। কামরূপ জেলার গোরেশ্বরের ২৫ টি গ্রামে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা ঘটে। রিপোর্ট অনুযায়ী ৯ জন বাঙালি শহীদ হন এবং একশ'র বেশি আহত হন। হাজার হাজার বাঙালি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে বিতাড়িত হয় এবং পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গে স্থানান্তরিত হয়। এক অনুমান অনুযায়ী ৫,০০,০০০ বাঙালি অসম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়।

১৯৭২ সালে আসামে বড় বড় জাতিগত দাঙ্গা সংঘটিত হয়, যেখানে লক্ষ্য ছিল বেশিরভাগই বাঙালি। প্রায় ১৪,০০০ বাঙালি পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্য রাজ্য গুলিতে পালিয়ে যায়।

১৯৭৯ সালে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (AASU) নামে ছাত্রদের একটি সংগঠন গঠিত হয়। এ সংগঠনটি অত্যন্ত সুবিন্যস্ত। এদের আন্দোলনকে অসম আন্দোলন বলা হয়।, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত হিংসাত্মকরূপ ধারণ করেছিল। এ আন্দোলনের মূল ল্ক্ষ্য ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী ব্যক্তিকে আসাম থেকে বহিষ্কার করা। অবশেষে ১৯৮৫ সালে এই আন্দোলনের ফলে আসু (AASU) ও ভারত সরকারের সাথে এক চুক্তি সম্পাদিত হয়। এ চুক্তি মোতাবেক যারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত অর্থাৎ ২৬ মার্চের আগ পর্যন্ত আসামে বসবাসরত ছিলেন, তারা ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। এ চুক্তিকে সবাই মেনে নেয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজিব গান্ধী নিজে এ চুক্তি সম্পাদনের পৃষ্ঠপোষকতা করেন  এবং পার্লামেন্টে এ চুক্তিটি পাস করিয়ে নিয়ে আইনে রূপান্তর করেন। এরপর সমস্যা শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয়নি, কেননা রাজ্য সরকার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনে অবহেলা প্রদর্শন করে এবং অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোতে থাকে।

কিন্তু চুক্তি প্রণয়নে এই দীর্ঘসূত্রিতার পিছনে ছিল রাজনীতি যা আসামের আমনাগরিক ভাল চোখে নেয় নি। তাদের এই জাত্যাভিমানকে গত নির্বাচনে  উসকে দেয় সদ্য বিজেপিতে আসা আসাম গণপরিষদের পালটি খাওয়া নেতারা । আসাম দখলের লক্ষ্যে বিজেপি আলোকপাত করেছিল এই সংবেদনশীল ইস্যুতে।  কিন্তু ক্ষমতা দখলের পরে ইস্যু সামান্য পালটে গেছে। আগে ছিল বিদেশি অর্থাৎ অহমিয়া বাদে বাকি মানুষজনরা। কিন্তু ইস্যু এখন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশ অভিবাসী ইস্যু নিয়ে তারা প্রচার করেছিল যে আমরা ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সিল করে দেব। আর তাহলেই কোনো বাংলাদেশি  অভিবাসী ভারতে পা দিতে পারবে না। এই নেতাদের বক্তব্য এই যে, বাংলাদেশি অভিবাসী সমস্যা শুধু আসামের সমস্যা নয়, এটি গোটা ভারতেরই সমস্যা। আর এই বাংলাদেশি অভিবাসী সমস্যার জন্য তারা সরাসরি কংগ্রেসের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেছেন, শাসক কংগ্রেস দল অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে। আর তাই কংগ্রেস অনুপ্রবেশ বন্ধে কোনো চেষ্টা করেনি। তাই তারা এক সময়ের বাঙালি খেদাও আন্দোলনের নেতা সর্বানন্দ সোনোয়ালকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিল। ফলাফল? ১২৬টি আসনের মধ্যে ৯৭টিতেই জিতেছে বিজেপির জোট। বিপরীতে রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন কংগ্রেস তথা তরুণ গগৈর দল জিতেছে মাত্র ২১ আসনে।   

কাজেই সর্বানন্দ সোনোয়াল তো তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রাখবেনই সে যে ভাবেই হোক। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে কোপ পড়ছে মূলত বাঙালিদের ওপর এবং অনেকটাই বাঙালি মুসলমানদের ওপর। তিনি তথ্য তুলে বলছেন যে ১৯৭১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত হিন্দুদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির  হার ৮০.৯ শতাংশ। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৯৭.৩৯ শতাংশ। ওখানে হিন্দু-বাঙালির উপস্থিতি অতি নগণ্য। কাজেই এটা প্রমানিত যে বাংলাদেশি মুসলমানদের আগমনে এই অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

এরা এতদিন ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভাষায় ছিলেন ভারতীয় ‘ডি ভোটার’। ডাউটফুল ভোটার। ভোটার তালিকায় তাদের নামের পাশে দীর্ঘদিন যাবত ইংরেজি ‘ডি’ (সন্দেহজনক) শব্দ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবারে নাগরিকত্বের প্রশ্নে এই নাগরিকদের নির্মূল করার প্রয়াস চলছে। তাহলে এদের কি হবে ? পুশ ব্যাক টু বাংলাদেশ? সম্ভব নয়। কারন আমাদের সংবিধানের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ৫ নম্বর থেকে ১১ নম্বর, অর্থাৎ মোট সাতটি ধারায় নাগরিকত্বের প্রশ্নে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। ৫ ও ৬ ধারার তিনটে করে উপধারা আছে। ভারতের নাগরিকত্ব আইন মোট নয় বার সংশোধন করা হয়েছে। তাতেও এই নাগরিকত্ব প্রাপ্তির ব্যাপারে সমস্যার সমাধান হয় নি। সমস্যা সমাধানের বদলে জনমানসে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই অতিকথা যে, কাতারে কাতারে বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের জন্য দরজা খোলা রাখা শুধু অর্থহীনই নয়, এ দেশের অর্থনীতির জন্য এবং জনবিন্যাসের ভারসাম্যর পক্ষে  বিপজ্জনক। বিজেপি প্রত্যাশিত ভাবেই এই প্রশ্নে শুধু মুসলিম অনুপ্রবেশের বিপদ দেখছে। কিন্তু  পুশব্যাক সম্ভব নয়। সম্প্রতি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানিয়ে করা একটি জনস্বার্থ মামলা ভারতের সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সত্যমেব জয়তে’র করা এ সংক্রান্ত মামলাটি খারিজ করে দেয় এই বলে  ‘বিষয়টি ভারতীয় সংবিধানের ৩২ ধারার অন্তর্গত নয়। সেজন্য এটি আদালতের বিচারাধীন নয়।’ সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ থেকে দুই কোটি বেআইনি অনুপ্রবেশকারী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে।

কাজেই একটা কথা পরিস্কার যে বাঙালি বা বাংলাদেশি  বিতাড়ন কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করাই এখন অসম্ভব। অতএব নাগরিকত্ব নিবন্ধন নিয়ে যা হচ্ছে তা হচ্ছে একান্তভাবেই রাজনৈতিক। কিন্তু তা নিয়ে বিভিন্ন কাগজ যা হুল্লোড় করে শুরু করেছে তাতে মনে হচ্ছে আগামী কালই এই অনিবন্ধিত মানুষেদের তুলে আনা হবে ডিটেনশন সেন্টারে। লাফাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল– নো এন আর সি। কেউ আবার বলেছেন যে দিল্লির উচিত ঢাকাকে আশ্বস্ত করা। তিব্বত থেকে দুই লক্ষ অনুপ্রবেশকারী আজ ধর্মশালায় বাস করছে। সত্তর হাজার তামিল শ্রীলঙ্কান, চল্লিশ হাজার রোহিঙ্গা, বারো হাজার আফগান ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করছেন। এরা ভোট দিতে পারে না, পাসপোর্ট পায় না, অন্যান্য বেশ কিছু নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। কিন্তু এরা রুটি রুজির অধিকার থেকে বঞ্চিত নন। এ কথা সত্যি যে আসামে নব্য বিজেপিদের দৌলতে ফাটা বাঁশে লেজ আটকে গেছে বিজেপি দলের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র এরআরসি নিয়ে বক্তব্য বুঝতে পারছে না পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই। রাজনৈতিক বিরোধীরা বিকৃত ব্যাখ্যা দিচ্ছে। আতঙ্ক নেমে এসেছে পশ্চিমবঙ্গে। লাফাচ্ছে বাংলাদেশের মিডিয়া। কেউই বুঝতে পারছে না যে পুরো ব্যাপারটাই বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর/আরএম