Alexa আশুগঞ্জে সিগন্যাল বাতি ছাড়াই চলছে ট্রেন

আশুগঞ্জে সিগন্যাল বাতি ছাড়াই চলছে ট্রেন

সন্তোষ চন্দ্র সূত্রধর, আশুগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:১৬ ৩১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২২:১৮ ৩১ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা পাচ্ছেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীরা। বন্দর নগরী হওয়ার কারনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে নেই কোন নিরাপত্তাকর্মী। যার কারনে প্রায়ই স্টেশনে ঘটে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা। চুরি হচ্ছে রেলওয়ে স্টেশনের সিগন্যালের মূল্যবান তার ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন। অপরাধীদের যেন অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে স্টেশনটি।

অন্যদিকে ২১ জন জনবলের বিপরীতে স্টেশনটিতে আছে মাস্টারসহ মাত্র চারজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। লোকবলের অভাব ও সিগন্যালের তার চুরির কারনে আড়াই মাস যাবত বন্ধ রয়েছে স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থা।

স্টেশনটিতে স্বল্প সময়ে যাত্রাবিরতির কারণে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের উঠতে ও নামতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিভিন্ন সমস্যার কারনে ‘এ’ ক্যাটাগরির এই স্টেশনটি ‘ডি’ ক্যাটাগরির সেবার মানে পরিনত হয়েছে।

আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন

আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের অন্যতম শিল্প ও বন্দরনগরী আশুগঞ্জ রেল স্টেশনে যাত্রী চাহিদা থাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-নোয়াখালী-চাঁদপুর রেলরুটে চলাচলকারি ৩টি আন্তনগর ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি মেইল ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রা বিরতি রয়েছে। প্রতিদিন এ স্টেশন দিয়ে বিভিন্ন রুটে হাজারো যাত্রী যাতায়াত করে। স্টেশনে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় স্টেশন ও সেতু এলাকায় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ। দিনে ৪ জন বিভিন্ন বিভাগে কাজ করলেও রাতের বেলায় পুরোপুরি অরক্ষিত হয়ে পড়ে স্টেশনটি। লোকবলের অভাবে স্টেশনটির সব বিভাগ ঝিমিয়ে পড়েছে। এতে করে কমেছে যাত্রী সেবার মান।

স্টেশনটি থেকে দৈনিক প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় হলেও এই টাকা নিয়েও বিপাকে পড়তে হয় কর্মকর্তাদের। এছাড়া এই স্টেশন থেকে বছরে কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার।

আশুগঞ্জ রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ১৪ হাজার ২৩৪ জন যাত্রীর কাছ থেকে আয় হয়েছে ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৭ টাকা। আগষ্ট মাসে ১৪ হাজার ৯০৮ জন যাত্রী থেকে আয় হয়েছে ১৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫ টাকা।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই স্টেশন থেকে চলাচল করেছে এক লাখ ২১ হাজার ৮৭৭ জন। তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮২৬ টাকা আয় হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চলাচল করেছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৫৭১ জন যাত্রী। তাদের কাছ থেকে আয় হয়েছে দুই কোটি ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ১৩৩ টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চলাচল করেছে এক লাখ ৯৩ হাজার ৯১ জন যাত্রী। তাদের কাছ থেকে আয় হয়েছে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ১১৩ টাকা।

স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, স্টেশন মাস্টার চারজনের বিপরীতে রয়েছে একজন, গুডস সহকারী তিনজনের বিপরিতে রয়েছে একজন, বুকিং সহকারী চারজনের বিপরিতে রয়েছে একজন ও সিলম্যান রয়েছে একজন। তবে পোর্টার পদে তিন জন থাকার কথা থাকলেও কেউ নেই। পয়েন্টসম্যান তিন জন থাকার কথা থাকলেও এখানে কেউ নেই। টালিক্লার্ক তিন জনের বিপরিতে কেউ নেই। সব মিলিয়ে ২১ জনের পদ থাকলেও এখানে কর্মরত আছে মাত্র ৪ জন। যার কারনে যাত্রী সেবার মান কমেছে। এছাড়াও রাতে স্টেশনে নিরাপত্তাকর্মীসহ কোন লোকবল না থাকায় ঘটছে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা।

আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন

স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী রফিকুল মিয়া জানান, আশুগঞ্জ স্টেশনের গ্রেডিং ও যাত্রী সেবার মান উন্নয়নে স্থানীয় জনগণ আন্দোলন করেছিল। তখন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সব বিষয় সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল। স্থানীয় জনগণের চাহিদা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধান করবে বলে আশা করি।

ইয়াসমিন বেগম নামে অপর এক যাত্রী বলেন, নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় এ স্টেশন ব্যবহার করতে ভয় লাগে।

আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. নুর নবী জানান, বিভিন্ন সময়ে সিগন্যাল ব্যবস্থার তার চুরি ও জনবল না থাকার কারনে আড়াই মাস যাবত সিগন্যালিং ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা না থাকায় তিনি নিজেও শংকিত উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, আখাউড়া রেলওয়ে থানাকে এ বিষয়টি লিখিতভাবে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। এছাড়া জনবলের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকবার চিঠি পাঠিয়েও কোনো কাজ হচ্ছেনা।

এই বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে ওসি শ্যামল কান্তি দাশ জানান, আশুগঞ্জ স্টেশনের মাস্টারের কাছ থেকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ চেয়ে দেয়া একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সেটি পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দিনের বেলায় আমাদের তিনজন পুলিশ স্টেশনে কাজ করেন। জনবল স্বল্পতার কারনে রাতে সেখানে পুলিশ দেয়া যাচ্ছে না। তবে কিছু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেখানে কয়েকজন পুলিশ সদস্য দেয়ার চেষ্টা চলছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এস