আল্লাহ যে ব্যক্তিদের দোয়া সব সময় কবুল করে থাকেন

আল্লাহ যে ব্যক্তিদের দোয়া সব সময় কবুল করে থাকেন

ধর্ম ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪২ ১৪ জুন ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৪ ১৪ জুন ২০২০

অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। অসুস্থতা মানুষের গোনাহকে কমিয়ে দেয়। মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়।

অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। অসুস্থতা মানুষের গোনাহকে কমিয়ে দেয়। মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়।

পবিত্র কোরআন-হাদিসে মানুষকে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি দোয়া করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দোয়াই ইবাদতের মূল।

আর বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দোয়ার বিকল্প নেই। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি অবশ্যই তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব।’ (সূরা: আল গাফির, আয়াত: ৬০)।

এ কারণে যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো প্রয়োজনে আমরা মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করতে পারি।

এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের দোয়া মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা সব সময় কবুল করে থাকেন। তারা হলেন-

> অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া: অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে। অসুস্থতা মানুষের গোনাহকে কমিয়ে দেয়। মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। হাদিসে এসেছে- ‘কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে গেলে তার কাছে নিজের জন্য দোয়া চাওয়া। কেননা অসুস্থ ব্যক্তির দোয়া বা মিনতি ফেরেশতাদের দোয়া মিনতি করার মতা।’ (ইবনে মাজাহ)।

> রোজাদার ব্যক্তির দোয়া: রোজাদারের দোয়া আল্লাহ কবুল করেন। ইসলামিক স্কলাররা বলেছেন, রোজা মুখে দোয়া মানুষের জন্য সোনালী সময়। হাদিসে এসেছে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রোজাদার ব্যক্তি যখন ইফতারের সময় তার রোজা ভাঙে বা ইফতার করে। সে সময় রোজাদারের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না।’ (ইবনে মাজাহ)।

হজরত আব্দুল্লাহ বিন আম‌র ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইফতারের সময় রোজাদারের অবশ্যই একটি দোয়া আছে, যা ফিরিয়ে দেয়া হয় না (কবুল হয়)। ইবনে আবু মুলাইকা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইফতারের সময় বলতে শুনেছি-

اللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকা ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরলি।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার দয়া ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি যা সব কিছুর ওপর পরিব্যাপ্ত, যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করেন।’ (ইবনে মাজাহ)।

> সন্তানের জন্য বাবার দোয়া: সাধারণত মায়েরাই বাচ্চার জন্য বেশি দোয়া করে থাকেন। মায়ের তুলনায় বাবারা দোয়া কম করে থাকেন। কিন্তু কোনো বাবা যদি সন্তানের জন্য বদ-দোয়া করেন আল্লাহ তায়ালা তা ফেরত দেন না। হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন-
- নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া,
- মুসাফিরের দোয়া আর
- সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)।

> কারো অনুপস্থিতিতে অন্য ব্যক্তির দোয়া: কোনা ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করেন, তবে আল্লাহ তায়ালা সে দোয়া কখনও ফেরত দেন না। হাদিসে এসেছে- হজরত উম্মে দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, আমার স্বামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি তার কোনো ভাইয়ের জন্য তার পেছনে (তার অনুপস্থিতিতে) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তবে ফেরেশতা সে দোয়া (কবুলে) ‘আমিন’ বলেন। (আর কান্নাকাটি করে দোয়া করলে) নিজের জন্যও এ দোয়া কবুল হয়।’ (মুসলিম)।

> মজলুম ব্যক্তির দোয়া: যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীর দ্বারা জুলুমের স্বীকার হয়, অত্যাচারিত হয় ওই ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে লোক তার প্রতি অত্যাচারকারীর বিরুদ্ধে দোয়া করল সে প্রতিশোধ গ্রহণ করল।’ (তিরমিজি)।

> মুসাফিরের (সফরকারী) দোয়া: যে ব্যক্তি সফরে থাকে আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল করেন। হাদিসে এসেছে- যে ব্যক্তি কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীর দ্বারা জুলুমের স্বীকার হয়, অত্যাচারিত হয় ওই ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তারা হলেন- নির্যাতিত (মজলুম) ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া আর সন্তানের প্রতি বাবার বদ-দোয়া। (তিরমিজি)

বিশেষ সতর্কতা: কোনো সন্তানেরই উচিত নয়, বাবা-মার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা। কেননা বাবা-মা সন্তানের জন্য জান্নাত ও জাহান্নাম। সন্তান যদি বাবা-মার বাধ্য হয় তবে জান্নাত সুনিশ্চিত। আর যদি অবাধ্য হয় তবে জাহান্নাম সুনিশ্চিত।

আবার কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জুলুম করা হলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহর সঙ্গে পর্দা থাকে না। সে যে দোয়া করে আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করে নেন। সুতরাং কারো প্রতি জুলুম করা মারাত্মক অপরাধ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে