Alexa আর্টিকেল ফিফটির সঙ্গে ব্রেক্সিটের কী সম্পর্ক জানেন কি?

আর্টিকেল ফিফটির সঙ্গে ব্রেক্সিটের কী সম্পর্ক জানেন কি?

নিয়াজ মাহমুদ সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০০ ৪ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পহেলা ডিসেম্বর, ২০০৯। পুরো ইউরোপ আধুনিক যুগের অগ্রভাগ থেকেই লিবারালিজমের স্বাধীন চর্চা করে আসছে। যা সবারই মোটামুটি জানা! উন্মুক্ত এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের চর্চায় ইউরোপ বরাবরের মতোই পারদর্শী। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ এর ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ২৮ জাতীয় জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নে পরিচয় করানো হয় সাংবিধানিক স্বার্থ রক্ষায় জাতিগুলোকে দেয়া স্বাধীনতার এই অমীয় বাণী আর্টিকেল ফিফটি।

এটি লিসবন চুক্তি নামেও পরিচিত। গণভোটে যুক্তরাজ্যবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পক্ষে রায় দেয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় লিসবন চুক্তির আর্টিকেল-ফিফটি। তবে এই স্বাধীনতা, আমরা স্বাধীনতা বলতে যা বুঝি, তা নয়,।এই চুক্তি তথা সাংবিধানিক ধারা মূলত ছেড়ে যাওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। এই ধারা অনুযায়ী যেকোনো জাতি তথা দেশ সম্পূর্ণ স্ব-ইচ্ছায় স্ব-প্রণোদিত হয়ে জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে, তবে শর্তসাপেক্ষে। অবশ্যই জোট কর্তৃপক্ষকে যৌক্তিক কারণ দর্শানো বাধ্যতামূলক এবং সাংবিধানিক সকল বিধি-নিষেধ মেনে তবেই ছাড়! 

উল্লেখ্য, এখনো পর্যন্ত কোনো সদস্য রাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করেনি। তবে গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্কের আওতাধীন রাষ্ট্র থেকে আলাদা একটি বিশেষ অঞ্চল, ১৯৮২ সালের গণভোটে বিপক্ষে ৫২ থেকে পক্ষে ৪৮ শতাংশ ভোটে ২৮ জাতীয় জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এসেছিলো। তবে তা অবশ্যই একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে আলোচনা সাপেক্ষে এবং সকল সাংবিধানিক বিধি-নিষেধ ও শর্ত পূরণের পর।

আদালত আবার ২০১৮ এর ডিসেম্বরের প্রথম দিকে রায় দেয়, প্রত্যাহারকারী সদস্য রাষ্ট্র একতরফাভাবে ইইউ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনাও তারা করতে পারবে। যা ওই সময় ভাবিয়ে তুলেছিলো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল, কেননা এই একটি রায়ই ব্রেক্সিট থামিয়ে দিতে যথেষ্ট ছিলো। ২৯ মার্চ, ২০১৭ যুক্তরাজ্য সরে আসার এই প্রক্রিয়া শুরু করলেও নানা জটিলতায় তা এখনো সম্ভব হয়ে ওঠেনি!

অনেকেই একটি ভুল ধারণা পোষণ করে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বোধ হয় পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক জোট! আর বাণিজ্যিক স্বার্থের টানাপোড়েনেই বোধ হয় এই ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে টালমাটাল চলছে। কথাটা আংশিক সত্য কেননা ইউরোপীয় ইউনিয়ন সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক জোট না হলেও সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক জোট! কিন্তু এই আর্টিকেল ফিফটিই দিচ্ছে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে নিজের স্বার্থে বেরিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা। আবার একই সঙ্গে পূর্বে সদস্য হিসেবে ভোগ করা সব সুবিধাসমূহ থেকে নির্মোহ থাকার শর্তও রয়েছে এই আর্টিকেলে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস