আরো ১০ ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার বরখাস্ত

কর্মস্থলে অনুপস্থিতিসহ নানা অনিয়ম

আরো ১০ ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০২ ২ জুন ২০২০   আপডেট: ১৬:৩১ ৩ জুন ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরো ১০ ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এদের মধ্যে চারজন ইউপি চেয়ারম্যান ও ছয়জন মেম্বার রয়েছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এ নিয়ে ৮৪জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

এদের মধ্যে ২৮জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৫১জন ইউপি মেম্বার, একজন জেলা পরিষদ সদস্য, তিনজন পৌর কাউন্সিলর ও একজন উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান।

সাময়িক বরখাস্ত চেয়ারম্যানরা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউপি’র মো. আনোয়ারুল হক, বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউপি’র হাজী মো. কাজল ভূইয়া, বরগুনা জেলার সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউপি’র মো. শাহনেওয়াজ ও নলটোনা ইউপি’র হুমায়ুন কবীর।

ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্ত মেম্বারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলাধীন মজলিশপুর ইউপি’র ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার হারিছ মিয়া ও ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার হাছান মিয়া, বরগুনা জেলার সদর উপজেলাধীন নলটোনা ইউপি’র ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. হারুন মিয়া, ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. হানিফ, ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার মোসা. রানী এবং ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার মোসা. ছাবিনা ইয়াসমিন (পলি)।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হক করোনা পরিস্থিতির সময় ত্রাণ কাজে সহায়তা না করে সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। 

একই জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. কাজল ভূইয়া স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অমান্য করে দীর্ঘদিন থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি, এপ্রিল মাসের ভিজিডি খাদ্যশস্য বিতরণ না করা, প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ এবং কারণ দর্শানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিজে জবাব না দিয়ে অন্যের মাধ্যমে দিয়েছেন। 

আরেক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলাধীন মজলিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার হারিছ মিয়া ও ৭নং ওয়ার্ডের হাছান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।  

বরগুনা জেলার সদর উপজেলাধীন এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহনেওয়াজের বিরুদ্ধে মৎস্য ভিজিএফ এর চাল ৮০ কেজির স্থলে ৬০ কেজি দেয়া, তালিকার বাইরেও অন্যাদের চাল দেয়াসহ দুইজন গ্রাম পুলিশকে চাল দেয়ার অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। 

একই উপজেলার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ও একই ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. হারুন মিয়া, ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. হানিফ, ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার মোসা রানী এবং ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার মোসা. ছাবিনা ইয়াসমিনের (পলি) বিরুদ্ধে জেলেদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, ভুয়া টিপসইয়ের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ স্থানীয় তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এসব চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অপরাধমূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় বলে সরকার মনে করে। কাজেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আলাদা কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদেরকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তার জবাব চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা  হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএইচআর/আরএইচ/এসআর