Alexa আরবের খেজুরে সম্ভাবনা

আরবের খেজুরে সম্ভাবনা

শামসুল হক ভূঁইয়া, গাজীপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৫৭ ১৩ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছোটবেলা থেকেই বেশ সৌখিন গাজীপুর সদরের পিরুজালী ইউপির আলিমপাড়ার নজরুল ইসলাম বাদল। শখের বসেই আরবের খেজুর চাষ করেন তিনি। আর তাতেই ধরা দিয়েছে সফলতা।

তিন বছরের পরিশ্রমে নজরুলের আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে অ্যারাবিয়ান খেজুর। কখনো খেজুর বিক্রি করছেন, কখনো বিক্রি করছেন গাছের চারা। নিজে স্বাবলম্বী হয়ে এসব খেজুর এখন দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে চান নজরুল ইসলাম বাদল।

নজরুল ইসলাম বলেন, আমার মনে একটি প্রশ্ন জাগে, দেশে কি বিদেশি খেজুর চাষ করা সম্ভব? ফেসবুকে থাইল্যান্ডের এক বন্ধুর পরামর্শে ২০১৪ সালে সৌদি, কুয়েত, ভারত, দুবাই, ওমান ও থাইল্যান্ড থেকে আজুয়া, মরিয়ম, বারহী ও বীজবিহীন প্রজাতির ১৮টি চারা এনে বাগান তৈরি করি। আমার পরিশ্রম আর বিনিয়োগের ফল আসতে শুরু করে ২০১৭ সালে।

তিনি বলেন, দেশে খেজুরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চাহিদা ও বাজার গবেষণা করে দেশেই খেজুরের বাগান করা হলে কৃষি অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

সৌখিন এ যুবক আরো বলেন, এখন আমার বাগানে ১০২টি ফলনযোগ্য গাছ রয়েছে। গত বছর এ বাগান থেকে তিনশ কেজি খেজুর পেয়েছি। এ বছরও সবগুলো গাছে থোকায় থোকায় খেজুর হয়েছে। এসব খেজুর দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে কলমের মাধ্যমে চারা সংগ্রহ ও বিক্রি করি। পাঁচ বছরে খেজুর ও চারা বিক্রি করে কোটি টাকার বেশি আয় করেছি।

নাজমুল বলেন, আমদানি করা খেজুরের অধিকাংশই নিম্নমান ও পুষ্টিহীন। আমার বাগানের খেজুরে কোনো রাসায়নিক নেই, স্বাদ-মানও ভালো।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহবুব বলেন, আমদানি নির্ভর খেজুর চাষ সম্প্র্রসারণ করতে পারলে দেশের কৃষি অর্থনীতি স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। আমদানি নির্ভরতাও কমবে। দেশের আবহাওয়ায় খেজুর চাষ খুবই সম্ভাবনাময়। বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে গবেষণা শুরু হয়েছে।

গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, আমরা নজরুল ইসলাম বাদলের খেজুর বাগান পরিদর্শন করে বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছি। দেশের আবহাওয়ায় মরুর খেজুর চাষ করে আশার সঞ্চার করেছেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

Best Electronics
Best Electronics