দুশ্চিন্তায় আম চাষিরা

দুশ্চিন্তায় আম চাষিরা

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫৫ ৩১ মে ২০২০   আপডেট: ১৬:৪২ ৩১ মে ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। ধানের পর আমের রাজধানী হিসেবেও পরিচিত পেয়েছে সীমান্তের এই জেলা। 

গত বছর জেলায় প্রায় সোয়া ৩ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়। যা বিক্রি হয়েছে ১১শ’ কোটি টাকারও অধিক। এ বছর কয়েক দফা ঝড় বৃষ্টিতে আমের কিছুটা ক্ষতি হলেও আম বাগানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের সম পরিমাণ আম উৎপাদন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। 

তবে করোনা পরিস্থিতিতে জেলার বাইরের পাইকাররা এখন পর্যন্ত না আসায় চলতি মৌসুমে আম পাড়া শুরু হলেও আমের বাজারজাত করা নিয়ে মহা দুশ্চিন্তায় চাষিরা। তবে পাইকারদের আসা যাওয়াসহ আপসের মাধ্যমে আম ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নওগাঁর উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, নওগাঁর আম স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় ও সুমিষ্ট হবার কারণে সারা দেশে জেলার গোপালভোগ, ন্যাংরা, আমরুপালী, নাকফজলী, ফজলী, আশ্বিনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আমের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা।

জেলার ১১ উপজেলায় আম বাগান করা হলেও পোরশা, সাপাহার, পত্মীতলায়, বদলগাছি উপজেলায় ব্যাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদন করা হয়ে থাকে। 

তিনি বলেন, এবার মুকুল কম আসা ও কয়েক দফা ঝড়ে আমের কিছুটা ক্ষতি হলেও মূল উৎপাদনে ঠিক থাকবে। কারণ এ বছর আরো ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে পাইকারদের আসা যাওয়া ব্যাংকে লেনদেনের সময় বাড়ানোসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান এবং আপসের মাধ্যমে আম ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ কারণে করোনা পরিস্থিতির অবনতি না হলে আম চাষিরা আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশা এই কৃষি কর্মকর্তার।

পোরশা মিনা বাজার এলাকার আমচাষি ও বাগান মালিক মাসুদ পারভেজ বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত জেলার বাইরের পাইকাররা না আসায় ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও বাজারজাত আদৌ সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় জেলার প্রায় ৫০ হাজার আম চাষি বাগান মালিকরা।  

সাপাহারের আম চাষি সাইদুর রহমান বলেন, এ সময়ে আমাদের অর্ধেক আম বাইরের পাইকারের কাছে বেচাকেনা হয়ে থাকে। এ বছর এখন কোনো পাইকার আসেননি। যদি বাইরের পাইকাররা আসতে না পারেন তাহলে আমাদের খরচ উঠবেনা। সেক্ষেত্রে আমাদের চরম ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান এই আম চাষি বাগান মালিক।

প্রশাসন ও পুলিশের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে আমের আড়তদার সমিতির সভাপতি কাত্তিক সাহা বলেন, এ বছরও বাইরের পাইকাররা আসবেন এবং ন্যায্যমূল্যেই চাষিরা আম বিক্রি করতেন পারবেন। পাইকারদের আসা যাওয়া ব্যাংকে লেনদেনের সময় বাড়ানোসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান এবং অ্যাপসের মাধ্যমে আম ক্রয় বিক্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ কারণে করোনা পরিস্থিতির অবনতি না হলে আম চাষিরা আমের ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাপাহারের ইউএনও কল্যাণ চৌধুরি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ বছরও আম কেনাবেচা হবে। বাইরের পাইকাররা যেন নির্বিঘ্নে আসা যাওয়া করতে পারেন তার সব ব্যবস্থা নেয়া হবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে এ বছর অ্যাপস এবং মোবাইলের মাধ্যমে আম কেনাবেচারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনের জেলার বাইরের কোনো পাইকার অর্ডার করলে সেখানে আম পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানান এই ইউএনও।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে