আম্ফানে প্লাবিত পটুয়াখালী

আম্ফানে প্লাবিত পটুয়াখালী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০১:৪২ ২১ মে ২০২০  

পটুয়াখালী শহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জোয়ারের পানি

পটুয়াখালী শহরের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জোয়ারের পানি

পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে জেলা শহর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপকুলীয় অঞ্চল প্রবল বেগে আঘাত হানে আম্ফান, তাণ্ডব চালায় মধ্যরাত পর্যন্ত। ঝড় আর বাতাসের বেগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে নদ-নদীর পানি। প্রশাসনের পদক্ষেপে উপকূলবাসী রক্ষা পেলেও জোয়ারে তলিয়ে গেছে কলাপাড়া, পায়রা বন্দর, রাঙ্গাবালী নিচু এলাকার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের পানি জেলা শহরে ঢুকে পড়েছে। এতে পৌর এলাকার নিউমার্কেট, পুরান বাজার, কাঠ মহল, কাঠপট্টিসহ নিম্নাঞ্চলে ২-৩ ফুট পানি বেড়েছে। অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতর পানি ঢুকেছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য জানা যায়- ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তাণ্ডব থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষা করতে সাতশ আশ্রয়কেন্দ্র ও সাড়ে তিনশ মেডিকেল টিম  প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, কলাপাড়া ও গলাচিপা উপজেলায় নৌকা উল্টে ও গাছের ডাল মাথায় পড়ে শিশুসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

রাঙ্গাবালীর ইউএনও মোহম্মদ মাশফাকুর রহমান জানান, বুধবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪২ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জোয়ার বৃদ্ধি পাওয়ায় চরকাশেম, চরআণ্ডা, মাঝেরচর, বিবির হাওলা, গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, উত্তর চালিতা বুনিয়া, চরলতাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কিছু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হলেও কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

কলাপাড়ার ইউএনও হাসনাত মোহম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, বুধবার সকালে পায়রা বন্দর এলাকায় নদীতে ট্রলার উল্টে সিপিপির এক স্বেচ্ছাসেবীর মৃত্যু হয়েছে। জোয়ারে চারি পাড়া, বানাতি পাড়া, পশুরিবুনিয়া, ১১ নম্বর হাওলা, ধনজুপাড়া, নয়া কাতা, চৌধুরী পাড়া, হাসনা পাড়া, মনজু পাড়া প্লাবিত হয়েছে। ১৭০টি সাইক্লোন শেল্টার ও ২৭টি আবাসিক হোটেল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ ও ২০ হাজার গবাদিপশু আশ্রয় নিয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর