Alexa আমার দেখা শ্রীলংকা

আমার দেখা শ্রীলংকা

নাজমুস সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৫১ ২০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৩ ২০ জানুয়ারি ২০২০

সিগিরিয়া লায়ন রক থেকে সূর্যাস্ত দেখতে সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন

সিগিরিয়া লায়ন রক থেকে সূর্যাস্ত দেখতে সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন

উপমহাদেশের দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলংকায় যাওয়াটা হুট করেই। আমরা মূলত মালদ্বীপ থেকে শ্রীলংকা যাই। দেশটা খুবই নিরিবিলি এবং পরিচ্ছন্ন। আমার মনে হয়েছে, দেশটির মানুষের আচরণে ভদ্রতা-সভ্যতার বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শ্রীলংকাই সেরা। নিকট প্রতিবেশী এত সুন্দর একটা দেশে অন্তত একবার ভ্রমণ করা উচিত।

কলম্বো বিমানবন্দরে পৌঁছেই আমরা রওনা দিই সিগিরিয়ার উদ্দেশ্যে। পথে অবশ্য ‘পিনাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফ্যানেজ’-এ থেমেছিলাম। এটা মূলত হাতির আশ্রম; সেখানে প্রবেশ করতে এক হাজার রুপি দিতে হয় জনপ্রতি। এ যেন হাতিদের জন্য এক জলসাঘর। এক পাল হাতি জলে আর পাথুরে ডাঙ্গায় নানা রকম অদ্ভুত কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকে। শ্রীলংকায় এলে অসাধারণ সুন্দর স্থানটিতে আসতে ভুলবেন না। এখানে এলে হাতির প্রতি শুধু ভালোবাসা জন্মাবে না, জায়গাটার প্রেমেও পড়বেন নিশ্চিত।

সিগিরিয়া পৌঁছাতে বিকেল ঘনিয়ে গেল। এদিন আমরা সিগিরিয়া রকের বিপরীতে অবস্থিত পিদুরাঙ্গালা মাউন্টেন ভ্রমণে যাই। সেখানকার বিশ্ব ঐতিহ্য সিগিরিয়া লায়ন রক থেকে সূর্যাস্ত দেখতে সারা বিশ্ব থেকেই পর্যটকরা ছুটে আসেন। এখানে হাজার বছরের পুরনো বৌদ্ধ মন্দির আছে। দেড় ঘণ্টার মতো পাথুরে পাহাড় বেয়ে (২০০ মিটার) আমরা পৌঁছে যাই চূড়ায়। উঠার পথে পাথর কেটে সিঁড়ি করা আছে বেশিরভাগজুড়ে। ওপরে গিয়ে প্রথম ঢাল থেকে সিগিরিয়া রকের চমৎকার একটা দৃশ্য পাওয়া যায়।

পিনাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফ্যানেজ

সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর চলে যাই একদম উপরের ঢালে। বাতাসে উড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা! চূড়া থেকে যতদূর চোখ যায়, শুধু বন আর বন। সীমানা ঘেঁষে কয়েকটা পাহাড়ের সারিও আছে। ঠিক মাঝখানে সিগিরিয়া আর পিদুরাঙ্গালা। সিগিরিয়ার সূর্যাস্ত আসলেই মুগ্ধ হওয়ার মতো। এমন নিরবিচ্ছিন্ন আকাশে সূর্যাস্তের উৎসব আবেগে ভারি করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

সিগিরিয়া রক ফোর্ট্রেস দেখতে যাই পরদিন ভোরেই। প্রথমে মিউজিয়াম দেখে সিগিরিয়া পার্কের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাই রক ফোর্ট্রেস। পাথর আর লোহার সিঁড়ি দিয়ে এর চূড়ায় যেতে প্রায় ৪৫ মিনিটের মতো লাগে। মাঝপথে পাথরে খোদাই করে সিংহ দরজা বানানো আছে। আরো কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে এর বিভিন্ন জায়গায়। অনেক রোদ থাকায় বেশিক্ষণ চূড়ায় থাকা হয়নি।

এরপর যাই নুয়ারা এলায়ার। পথে অবশ্য শ্রী মুথুমারিয়াম্মান মন্দির আর রাম্বোডা ঝরনা দেখেছিলাম। পাহাড়ের ঢালের একটা রেস্টুরেন্টের ভেতর দিয়ে রাম্বোডা ঝরনায় যেতে হয়। সাড়ে তিনশ ফিট উঁচু এই ঝরনা। এখান থেকে একটা টি অ্যাস্টেট ঘুরতে চলে যাই। চা যে কত ধরনের আর ফ্লেভারের হতে পারে, তা বলে শেষ করা যাবেনা!

মনোমুগ্ধকর শ্রীলংকা

কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

শ্রীলংকার ভৌগোলিক অবস্থান এর কারনে আবহাওয়া বেশ চমৎকার। চারদিকে সমুদ্র থাকার কারণে এর আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। এখানে অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। তাই পর্যটকদের এই সময়টা এড়িয়ে চলাই ভালো। শ্রীলংকা ভ্রমণ করার জন্য বছরের সবচেয়ে ভালো সময় হলো ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস।

উপমহাদেশের দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে যেতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বাধ্যতামূলক নয়। শ্রীলংকা গিয়েই ৩০ দিনের অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেয়া যায়। তবে ঢাকাস্থ শ্রীলংকা দূতাবাসে গিয়ে আগে থেকেই ভিসা সংগ্রহ করে নেয়া ভালো। কারণ কলম্বো বিমানবন্দরে গিয়ে ভিসা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ঢাকা থেকে কলম্বোর সরাসরি ফ্লাইট আছে। সময়ভেদে জনপ্রতি রাউন্ড ট্রিপ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পড়বে। খরচ কমাতে চাইলে ভারত হয়েও যাওয়া যায়। এভাবে গেলে খরচ কম-বেশি ২০ হাজার টাকা লাগে। শ্রীলংকায় ৪০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে ভালো হোটেল পাওয়া যাবে সব জায়গায়। খাওয়া দাওয়া, যাতায়াত সবকিছুর খরচ অনেক কম। শ্রীলংকা ভ্রমণের জনপ্রিয় মাধ্যম হলো রেন্টাল কার। যে গাড়ি ভাড়া করবেন সে ড্রাইভারই আপনার ট্যুর গাইড। তবে ব্যাকপ্যাকাররা বাস ও ট্রেনেও শ্রীলংকা ঘুরতে পারেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে