Alexa আমাজনে আগুন মানবসৃষ্ট! মত দিলেন বিশেষজ্ঞরা

আমাজনে আগুন মানবসৃষ্ট! মত দিলেন বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩৯ ২৫ আগস্ট ২০১৯  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ভৌগোলিকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম অরণ্য আমাজনের জঙ্গল। পৃথিবীর ২০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করে এটি। তাই দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই গভীর রেইন ফরেস্টকে পৃথিবীর ফুসফুসও বলা হয়। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে নিঃশব্দে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে এই ফুসফুস।

বিশ্বের বৃহৎ এই বনে এবারের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে সেখানে প্রতি মিনিটে একটি ফুটবল মাঠের আয়তন যতটুকু ততটুকু পরিমাণ বন পুড়ছে। প্রথমদিকে এটিকে প্রাকৃতিক দাবানল বলা হলেও এখন অনেকেরই ধারণা বনে কেউ আগুন লাগিয়েছে। অর্থাৎ মানবসৃষ্ট আগুন।

বনে প্রাকৃতিক দাবানলের ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাজনের পরিবেশের অবস্থা সম্বন্ধে জানলে দেখা যায় ভয়াবহ দাবানলের ঘটনা ঘটার মতো পরিবেশ আমাজনে নেই। কারণ আমাজন এলাকায় বছরের বেশিরভাগ সময়েই বৃষ্টি হয়ে থাকে। শুধুমাত্র বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে আমাজনের আবহাওয়া কিছুটা শুষ্ক হয়। তবে যে পরিমাণ শুষ্ক হয় এতে আগুন লাগার কথা নয়। এমনটাই মনে করছেন বিভিন্ন দেশের বন বিশেষজ্ঞরা।

তাহলে কেন আগুন লাগছে আমাজনে? তাও এক সপ্তাহে ১০ হাজারের বেশি জায়গায় ঘটেছে আগুন লাগার ঘটনা। বলা হচ্ছে এ বছরে আমাজনের বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পূর্বের সব রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই প্রশ্নের অনেকগুলো উত্তর দিয়েছেন বিভিন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী, গবেষকরা।

আগুন লাগানোর নেপথ্যে রয়েছে সোনা ?

খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার আমাজন বন। বিভিন্ন প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, আমাজন বনে প্রতি বছর বৈধ উপায়ে সোনার ক্রয় বিক্রয়ের থেকে অবৈধ উপায়ে ক্রয়-বিক্রয় হয় বেশি। শুধু বেশিই নয় বৈধ উপায়ে সোনার ক্রয় বিক্রয়ের থেকে ৬ গুণ বেশি সোনাই ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে অবৈধ উপায়ে। আর সোনার খোঁজে সন্ধানকারীরা অবিচারে পুড়িয়ে যাচ্ছেন আমাজনের বন।

অন্যদিকে ব্রাজিলের ডানপন্থি সরকারের সঙ্গে শিল্প কারখানার মালিক, সোনার খনি অনুসন্ধানকারীদের রয়েছে মিত্র সম্পর্ক। তিনি খনি খনন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ আদিবাসীদের ভূমি আইনের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এর ফলে সোনা অনুসন্ধানকারীরা পেয়েছেন মুখ্যম সুযোগ। আর সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে তারা। একারণে দায়ি করা হচ্ছে ব্রাজিলের নিষ্ক্রিয় আইন ব্যবস্থাকে।

সোনার খোঁজে আমাজন চষে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও। গবেষকরা বলছেন, সোনা অনুসন্ধানী লোকদের একদল আধুনিক সরঞ্জামসমৃদ্ধ হলেও স্থানীয় বিভিন্ন আদিবাসীদের বেশিরভাগই নিরক্ষর। কিন্তু তাদের আশা তারা একদিন সোনা পেয়ে সহজেই ধনী হয়ে যাবে। যার কারণে তারাও অকাতরে বন ধ্বংস করে চলেছেন।
তাই এবছরের আমাজনে ভয়াবহ দাবানলের পেছনে এই সোনার খনি অনুসন্ধানকারীদের হাত থাকতে পারে বা তারাই আগুন লাগাতে পারে এমনটা ধারণা করছেন অনেকে।

আদিবাসী কৃষকরা লাগাতে পারে আগুন-

শুধু সোনা অনুসন্ধানকারীরাই নয়। আমাজনে প্রায় ১০ লাখ এর বেশি আদিবাসীদের বসবাদ। আমাজনে বসবাসকারী আদিবাসীদের পশুর চারণভূমির জন্য ফাঁকা জমির দরকার হয়। আবার কৃষি কাজের ক্ষেত্রেও আদিবাসীদের ফাঁকা জমির প্রয়োজন হয়। তাই আদিবাসীরা তাদের কৃষির জমি অথবা পশুর চারণভূমির জন্য আমাজনে আগুন লাগাতে পারে বলেও ধারণা করছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

কার্বন ছাকনি হিসেবে পরিচিত চিরহরিত এই আমাজন এরকম ভয়াবহ দাবানলের ঘটনার পর তার কর্মক্ষমতা হারাবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সকল বিজ্ঞানী। পেনিসিলভেনিয়া স্টেট বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কিছুদিন আগেই বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যাবে পৃথিবীর এই ফুসফুস।

এই বন নিঃশেষ হয়ে গেলে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় নেমে আসবে।

পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি আমাজন। আমাজুন নদী বিশ্বে প্রচুর পরিমাণে পানির যোগান দেয়। তাছাড়া এখানে সবমিলিয়ে ১৬০০০ প্রজাতির বৃক্ষ আছে। পোকা মাকড় আছে ৪৮ লাখ প্রজাতির। ৪২৮ প্রজাতির উভচর, ৩৭৮ প্রজাতির সরিসৃপ, ৪২৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ৩০০০ প্রজাতির মাছ রয়েছে এই আমাজনে। তাই আমাজন ধ্বংসের প্রভাব পড়বে মোটামুটি সারা বিশ্বেই এ বিষয়ে নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই