Alexa ‘আমাকে একটা হুইল চেয়ার দিবেন? আমি গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাব’

‘আমাকে একটা হুইল চেয়ার দিবেন? আমি গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাব’

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:১৫ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০০:১৭ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

‘আমাকে একটা হুইল চেয়ার দিবেন? আমি গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাব। আমার স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়’। এ আকুতি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দূর্গাপুর ইউপির ভেলুর খামার গ্রামের পিতৃহারা ১২ বছরের প্রতিবন্ধী শিশু জিসাদ হাসান জাহিদের।

প্রতিবন্ধী জিসাদ হাসান জাহিদের বাবা মিজানুর রহমান পাঁচ বছর আগে মারা যাওয়ার পর জাহিদের মা জাহানারা বেগম বাড়ির পাশেই একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে মুদি দোকান করে প্রতিবন্ধী জাহিদসহ তিনি তার জীবন চালাচ্ছেন। 

মুদি দোকানের এই কষ্টের উপার্জন দিয়ে তিনি দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী জাহিদকে লেখাপড়া করার জন্য ভর্তি করিয়েছেন স্থানীয় ছোঁয়া রেসিডেন্সিয়াল নামের একটি বেসরকারি স্কুলে। এখানে প্রতিবন্ধী জাহিদ এখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে।

জাহিদের মা জাহানারা বেগম বলেন, আমার ছেলে জিসাদ হাসান জাহিদ জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার পায়ের নিচের অংশ চিকন ও বাঁকা হওয়ায় হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটতে হয় তাকে। সে এখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। আমি মুদি দোকান করে জাহিদের লেখাপড়ার খরচসহ জীবিকা নির্বাহ করছি। এই কষ্টের পয়সা দিয়ে দুই মেয়েকে বিয়ে দেয়ায় আমি এখন নিঃস্ব। 

প্রতিবন্ধী ছেলে জাহিদের জন্য একটা হুইল চেয়ার কিনে দেয়ার সাধ্য আমার নেই। ছেলেটা আমার কাছে একটা হুইল চেয়ার চায়। সে বলে, ‘আমাকে একটা হুইল চেয়ার দিবেন? আমি গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাব। আমার স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়’। 

আমি পারছিনা তার হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করতে। আমার প্রতিবন্ধী এই ছেলেটার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য কেউ যদি লেখাপড়ার দায়িত্ব নিতো, তার জন্য একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করতো। আমি সেই ব্যক্তির কাছে আমি চিরঋণী হয়ে থাকব।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ