যে গ্রামে গর্ত আর গর্ত

যে গ্রামে গর্ত আর গর্ত

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৫ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২৯ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ায় ইটভাটার জন্য ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। এতে জমির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। 

অভিযোগ রয়েছে, এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ এই মাটিকাটার তৎপরতা। মাটির টপ সয়েল ধ্বংসের সঙ্গে মাঠের পর মাঠ মাটি খনন করায় হুমকির মুখে পড়েছে আবাদি জমি।  

পরিবেশ অধিদফতর বলছে, বগুড়ায় যে সব ইটভাটা রয়েছে বেশির ভাগের পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। ভূমি দস্যুরা ১০-১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে ফাঁদে ফেলে অন্য কৃষকদেরও জমি বিক্রি করতে বাধ্য করছে।  প্রথম পর্যায়ে টপ সয়েল তোলার চুক্তি থাকলেও পরে কৃষকরা মাটিকাটা ভূমিদস্যুদের গ্রাসে পরিণত হচ্ছেন। এভাবেই চলছে আবাদি জমি ও পরিবেশ ধ্বংসের প্রক্রিয়া। 

মাটি কাটায় গর্তে পরিণত হয়েছে ফসলি জমিবগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সান্নু জানান, তার এলাকায় যে সব ইটভাটা রয়েছে তার সবগুলোই অবৈধ। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার সঙ্গে পরিবেশ দূষণও হচ্ছে।  

মাদলার ভ্যানচালক মেহেদুল জানান, মালিপাড়া ও খাউরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাতে আবাদি জমি ১৫-২০ ফুট গভীর পর্যন্ত খুঁড়ে শত শত ট্রাকে করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটিতে নেয়া হচ্ছে। 

জালশুকা পূর্বপাড়া এলাকায় মাটিকাটার ফলে সেখানকার আবাদি জমি জলাশয়ে পরিণত হওয়ার সঙ্গে জমির মাটিও ধসে যাচ্ছে। 

বগুড়ার কাহালু উপজেলার আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, মদানাই এলাকায় বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি ১৫-২০ ফুট গভীর করে মাটিকাটা হচ্ছে। 

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমি আইন অনুযায়ী ভূমির আকার পরিবর্তন নিষিদ্ধ।

মাটি কাটায় গর্তে পরিণত হয়েছে ফসলি জমি

পরিবেশ অধিদফতর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামন জানালেন, ইটভাটার জন্য আবাদি জমির মাটিকাটার বিষয়টি নজরে এসেছে। 

ইটভাটা ও পরিবেশ আইন আইন অনুযায়ী পতিত জমি বা পতিত জলাশয় এলাকা তথা জেলা প্রশাসন নির্ধারিত এলাকা ব্যতিত অন্য কোনো স্থান থেকে মাটিকাটা অবৈধ। 

বগুড়ার ডিসি ফয়েজ আহাম্মদ জানান, অবৈধভাবে আবাদি জমির মাটিকাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। 
 
এ বিষয়ে সাধারণ লোকজনকে তাদের আবাদি জমির মাটি বিক্রি না করতে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/এআর