আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনের প্রাইজমানি পাননি শাটলাররা

ব্যাডমিন্টনের হালচাল-২

আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টনের প্রাইজমানি পাননি শাটলাররা

এস আই রাসেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৯ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:৫৮ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের আয়োজনে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। টুর্নামেন্ট দুই মাস আগে শেষ হলেও দেশি-বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রাইজমানি এখনো দেয়া হয়নি। 

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গেই পদকজয়ীদের হাতে প্রাইজমানির অর্থ তুলে দেয়ার নিয়ম। ১৯টি দেশের অংশগ্রহণে এ টুর্নামেন্টের বিজয়ী বিদেশি শাটলাররা গলায় শুধু পদক ঝুলিয়েই নিজ নিজ দেশে ফিরে যান। তবে এই সপ্তাহেই প্রাইজমানি পৌঁছে যাবে জানালেন বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক।

ইয়োনেক্স সানরাইজ ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ৪ বছরের চুক্তি করে। সে থেকেই তারা এ টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। যা পরে আরো চার বছর বাড়ানো হয়। 

বরাবরের মতো এবারও তাদের কিছু শর্ত ছিল। যার অন্যতম–টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের ইয়োনেক্সের টি-শার্ট পরে ম্যাচ চালাতে হবে। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের টি-শার্ট খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না এবং ইউনেক্সেরর নির্ধারিত শাটল দিয়েই টুর্নামেন্ট চালাতে হবে।

এক বিশেষ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন ইউনেক্সের কোনো শর্তই পূরণ করেনি। স্থানীয় বাজার থেকে কেনা ইউনেক্সের ‘কপি’ টি-শার্ট পরে টেকনিক্যাল কর্মকর্তারা খেলা চালান। ফেডারেশনের বাইরে স্টলে টি-শার্ট বিক্রি করা হয়েছে, টুর্নামেন্টে ব্যবহার করা হয়নি আসল শাটল। 

টুর্নামেন্ট পর্যবেক্ষণ করতে ঢাকায় আসা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা ইউনেক্সের এশিয়া অঞ্চলের কার্যালয়ে ছবিসহ এসব অনিয়মের প্রতিবেদন জমা দেন। পরিণতি টুর্নামেন্টের জন্য বরাদ্দকৃত স্পনসরমানি ২২ হাজার মার্কিন ডলার আটকে দেয় ইউনেক্স। পদকজয়ী খেলোয়াড়রা তাই পাচ্ছেন না প্রাইজমানি।

প্রাইজমানি না পাওয়ায় শাটলার সালমান বলেন, ফেডারেশনের কোনো অভিভাবক নেই। কোনো নিয়ম নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই করছে।  সামান্য টাকা কতবার চাওয়া যায়। সামনের সপ্তাহ বলে আজ প্রায় ২ মাস। কবে দেবে তাও জানি না।

আরেক শাটলার শাপলা বলেন, সামান্য টাকা দেয়নি তাই আর খোঁজ নিচ্ছি না। তারা দিলে দেবে না দিলে কী আর করার। আর আশা করছি না কিছুই।

আরেক নারী শাটলার এলিনা বলেন, আমাদের কাছে অ্যাকাউন্ট নম্বর চেয়েছিল ফেডারেশন। কিন্তু আমরা তো দেশে তাই অ্যাকাউন্ট নম্বর দেয়া হয়নি। বলেছে ডেকে দেবে। কিন্তু দিচ্ছে না। তাই আর খোঁজ নেয়া হয়নি।

সূত্র জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইউনেক্স এই টুর্নামেন্টের জন্য ৪০০ টি-শার্ট, শাটলারদের জন্য ব্যাগ, জুতা ও অন্যান্য সরঞ্জাম এবং শাটলকক পাঠায়। এসব জিনিসপত্র ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস বিভাগ থেকে বিনা শুল্কে ছাড়িয়ে আনতে চেয়েছিল ফেডারেশন। সেটি সম্ভব না হওয়ায়।  স্থানীয় বাজার থেকে টি-শার্ট কিনে সেখানে ইউনেক্সের লোগো বসিয়ে খেলা চালানো হয়। 

খেলাও হয় অন্য শাটল  দিয়ে। শেষ দিনে অবশ্য দিল্লি থেকে ইউনেক্সের আসল ১৫০ টি-শার্ট এনে টুর্নামেন্টের খেলা চালানো হয়। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি ওই বিপণন কর্মকর্তা।

যদিও কয়েকদিন আগে ইউনেক্সের দেয়া ক্রীড়া সামগ্রী ছাড়িয়ে নেয়া হয়েছে। তবে তা ফেডারেশনের কোনো কর্মকর্তা গ্রহণ করেননি। করেছেন কোচ গৌতম।

এসব অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বাহার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, টি-শার্ট আসতে দেরি হওয়ায় বাজার থেকে কিছু কিনেছিলাম। ইউনেক্সের এই টি-শার্ট সব জায়গায় পাওয়া যায়। কিন্তু ইউনেক্সের কর্মকর্তারা যখন এসব নিয়ে অভিযোগ করেন, তখন সেগুলো বাদ দিয়ে দিল্লি থেকে আনা টি-শার্ট পরিয়ে খেলা চালিয়েছি।

প্রাইজমানির ব্যাপারে তিনি বলেন, টাকা ইউনেক্স থেকে দিয়ে দিয়েছে। প্রসেসিং হয়ে আসতে দুই-একদিন লাগে। এই সপ্তাহের মধ্যেই সবার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এম