Alexa আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন নিল মানব পাচারকারী

আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন নিল মানব পাচারকারী

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:৪৩ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:০৭ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯

আদালতের বারান্দায় মা রিজিয়া বেগমের সঙ্গে শিশু আলাউদ্দিন

আদালতের বারান্দায় মা রিজিয়া বেগমের সঙ্গে শিশু আলাউদ্দিন

মানবপাচার মামলায় গত ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়া শিশু প্রকৃত আলাউদ্দিন নয়। কোর্টে হাজির হওয়া শিশুটির নাম রফিকুল ইসলাম ওরফে জয়নাল উদ্দিন। 

সে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া এতিম খানার প্রাক্তন ছাত্র। তার বড় ভাই মানবপাচারকারী আলাউদ্দিন সেজে কোর্টকে বোকা বানিয়ে জামিন নিয়েছে সে। এরপর থেকে আদালত পাড়ায় বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। রফিকুল ইসলামের গ্রাম রামুতেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। 

গণমাধ্যমে “মানবপাচার মামলায় জামিন পেল সেই শিশু আলাউদ্দিন” শিরোনামে ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ হলে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 

মানবপাচার মামলার আসামি আলাউদ্দিন হচ্ছেন রামু উপজেলার চাকমারকুল ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের শাহামদেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো.ইলিয়াছের ছেলে। সে বহুল আলোচিত মানবপাচার গডফাদার আব্দুল কাদেরের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বলে জানান এলাকাবাসী। ভুয়া জামিনে বেরিয়ে যাওয়া মানবপাচারকারী আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে থানা আদালতে মামলা রয়েছে। 

স্থানীয় সার্ভেয়ার সরওয়ার কামাল বলছেন, মানবপাচার মামলার পর এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে কাগজপত্র জালিয়তি মাধ্যমে ঘরবাড়ি বিক্রি করে আত্মগোপনে চলে যান আলাউদ্দিন ও তার পরিবার। 

বহুল আলোচিত মানব পাচারকারী ঢাকাইয়া কাদেরের সহযোগিতায় তার মা রিজিয়া বেগম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে হাইকোর্ট থেকে ছেলে রফিককে দিয়ে আত্মগোপনে থাকা আলাউদ্দিনের জামিন নেন। জামিনের পর ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে কাদের বাহিনীর এ সদস্য। নিজের ভীত মজবুত করার জন্য তার মা ও সহোদর রফিককে দিয়ে ত্রুটিপূর্ণ ঠিকানা ব্যবহার করে এলাকার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে দরখাস্ত দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মানবপাচার মামলার আসামি আলাউদ্দিনের বয়স আদালতের নথিতে ২২ বছর লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু আদালতকে ভুল বুঝিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে শিশু হিসেবে তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম ওরফে জয়নালকে দিয়ে প্রতারণা করে প্রক্সির মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন নেন আলাউদ্দিন। জামিনের পর ছবি সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ হলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। 

সংবাদে প্রকাশিত ছবি নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। এতে দেখা যায় আদালতে দেখানো শিশু রফিকুল ইসলাম ওরফে জয়নাল মানবপাচারকারী আলাউদ্দিনের ছোট ভাই। তার প্রমাণ মিলে আদালতে প্রদর্শন করা কাগজ পত্রের দফতরগুলো দেখে। তার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের ওয়ারিশ সনদ, রামু ভূমি অফিসের নামজারি খতিয়ান, কক্সবাজার বাইতুশ শরফ জাব্বারিয়া এতিম খানায় ভর্তির কাগজপত্র ও স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং মসজিদের ইমামের দেয়া প্রত্যায়ন ও এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী সে রফিকুল ইসলাম ওরফে  জয়নাল।

সাবেক মেম্বার শফি উল্লাহ বলেন, প্রতারণা করতে এ রফিক কখনো তার নাম জয়নাল হিসেবে ব্যবহার করে। বহু অপকর্মের হোতা আলাউদ্দিন ও তার প্রক্সি দাতা রফিকুল ইসলামকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নিযার্তন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-২, চট্টগ্রাম আদালতে মানবপাচারের অভিযোগে মামলা করেন নুরুল ইসলাম। এই মামলায় মানব পাচারকারী গডফাদার আব্দুল কাদেরকে প্রধান আসামি করে তার সহযোগী আলাউদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন লোহাগড়ার উজারভিটা এলাকার আব্দুল গণির ছেলে নুরুল ইসলাম।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ