আত্মীয়র দেয়া বর্ণনায় উঠে এলো পূর্ণিমার ডুবে যাওয়ার করুণ কাহিনী

আত্মীয়র দেয়া বর্ণনায় উঠে এলো পূর্ণিমার ডুবে যাওয়ার করুণ কাহিনী

রাজশাহী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:৪৯ ৯ মার্চ ২০২০  

ছবি: সুইটি খাতুন পূর্ণিমা

ছবি: সুইটি খাতুন পূর্ণিমা

জীবনভর পাশে থাকবেন বলে সুইটি খাতুন পূর্ণিমাকে কথা দিয়েছিলেন আসাদুজ্জামান রুমন। কিন্তু নিয়তি তাদের আলাদা করে দিলো। স্বামী-সংসার নিয়ে হাজারো স্বপ্ন মুহূর্তেই মিশে গেলো পদ্মায়। শুক্রবার মাঝ পদ্মায় মর্মান্তিক নৌকাডুবিতে বর আসাদুজ্জামান রুমন ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরলেও ফিরতে পারেননি পূর্ণিমা। স্বামীকে জড়িয়ে ধরেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।

পূর্ণিমার সঙ্গে একই নৌকায় ছিলেন তার আত্মীয় টুলু বেগম। নৌকাডুবিতে তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরেন। তিনিই জানালেন কীভাবে তলিয়ে গেছেন পূর্ণিমা। তিনি জানান, নৌকাডুবির পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি পরনের শাড়ি খুলে ফেলেন। এরপর ভাসমান চরাট ধরে ভাসছিলেন। ওই সময় তিনি পূর্ণিমাকে হাবুডুবু খেতে দেখেন। কপালের টিকলি দেখে তিনি তাকে চিনতে পারেন। তিনি পূর্ণিমাকেও পরনের শাড়ি খুলে ফেলতে বলেন। এরপর শাড়ি খোলারচেষ্টাও করছিলেন পূর্ণিমা। কিন্তু পরক্ষণেই তলিয়ে যান।

ওই নৌকার যাত্রী ছিলেন টুলু বেগমের স্বামী আবদুর রাজ্জাক। তিনিও প্রাণ নিয়ে ফিরেছেন। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ছোট ডিঙি নৌকায় যাত্রী উঠেছিল বেশি। ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর ঢেউয়ে নৌকায় পানি উঠে যাচ্ছিল। কয়েকজন পুরুষ যাত্রী পানিতে নেমে নৌকা জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় নৌকাটি কাত হয়ে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বর আসাদুজ্জামান রুমন জানান, নববধূসহ তিনি যে নৌকায় ছিলেন আচমকা সেটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর দমকা হাওয়ায় উল্টে গিয়ে তলিয়ে যায় নৌকাটি। ওই সময় তিনিসহ কয়েকজন যাত্রীকে উদ্ধার করে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ট্রলার। তবে অন্য নৌকাটি কীভাবে তলিয়ে গেছে তা তিনি জানেন না।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস