আতঙ্কে বিকাশ গ্রাহকরা! 
Best Electronics

আতঙ্কে বিকাশ গ্রাহকরা! 

ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৭ ১৬ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ২০:০৩ ১৬ মার্চ ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

“হ্যালো, সবুর ভাই আমার নম্বরে ৭০ হাজার টাকা পাঠাবেন প্লিজ। কাল এসে আমি ব্যালেন্স দিয়ে দেব।” দোকানে কাস্টমার থাকায় কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই পাঠিয়ে দেন টাকা। সন্দেহের প্রশ্নই আসে না। কারণ যে নম্বর থেকে কলটি এসেছে, তা ছিল বিকাশের এসআরএ’র সেভ করা নম্বর। কিন্তু কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক চক্র।

প্রতারকরা আগে থেকেই জানেন তার একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা রয়েছে। এরপরই নম্বর ক্লোন করে প্রতারণার কৌশল প্রয়োগ। এভাবেই প্রতারণার শিকার হন রাজধানী তুরাগের বাদালদি এলাকার বরিশাল ফার্মেসীর মালিক সবুর মিয়া। 

ফোনের মাধমে টাকা আদান-প্রদান সহজ হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটি খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবার কাছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। নানাভাবে এসএমএস পাঠিয়ে সরল সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ছোট বড় বিভিন্ন অংকের অর্থ। 

মেহেদি হাসান মিঠুন নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা এক ব্যক্তিকে কিছুদিন আগে মোবাইলে ভুয়া এসএমএস পাঠিয়ে ১৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা। পুলিশ ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। বিকাশ কর্তৃপক্ষও কোনো দায় নিতে রাজি নন। 

মিঠুন জানান, সবারই উদাসীন মনোভাব। তাদের কাছে এ টাকা যেন কিছুই না। কিন্তু আমাদের মত মানুষের কাছে পুরো মাসের কষ্টের উপার্জন। প্রতারকরা এভাবে আমাদের কষ্টের উপার্জন হাতিয়ে নেবে আর কেউ কিছু করতে পারবে না, এটা মেনে নেয়া যায় না। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুধু মিঠুনই নয় এমন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। সুলভ মূল্যে ফ্ল্যাট-প্লটের অফার, অপহরণ, মানবপাচার, চুরি, হ্যাকিং, সিম রিপ্লেস, ন্যাশনাল আইডি জালিয়াতি, বিকাশ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা, লটারিতে বিজয়ী বলে টাকা পাঠানোর অফার দেয়া হচ্ছে সচরাচর। প্রতারণার শিকার হয়ে কেউ পুলিশের সাহায্য চান। আবার হয়রানির আশংকায় অনেকে অভিযোগই করেন না। 

এসব চক্র যেসব মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে প্রতারণা করছে, সেগুলো রেজিস্ট্রেশন করা। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে, এদের কেন ধরতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী?

এদিকে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি বলছে- প্রতারক চক্র যেসব নম্বর ব্যবহার করছে, সেগুলোর রেজিস্ট্রেশন ভুয়া। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে  চক্রগুলোর সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং এর কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকে বলেও জানিয়েছে সিআইডি। 

ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিচয় গোপন রেখে বিকাশ ব্যবসায়ী আলিমকে আড্ডার এক ফাঁকে প্রশ্ন করা হয়। এখনতো ফিঙ্গারপ্রিন্ট, তাহলে কি রেজিস্ট্রেশন ভুয়া করার কোনো উপায় আছে?

উত্তর- হ্যাঁ, এগুলো বেশিরভাগ হয়ে থাকে ফুটপাতে। টেবিল ও ছাতা বসিয়ে যারা সিম বিক্রয় করেন, সেখানে। কারণ তারা অনেক সময় ভোটার আইডি এলোমেলো করে ফেলেন, আবার ভোটার আইডি ছাড়াই বিক্রি করেন সিম। তিনি আরো বলেন, যারা এগুলো করেন, তাদের টার্গেট থাকে রিকশাওয়ালা, গার্মেন্টস কর্মী, অসচেতন  নাগরিক, এক কথায় সাদাসিধে মানুষ। ভুল বলে একের অধিকবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েই প্রতারণার ফাঁদ পাতেন সহজে। 

এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, বিকাশ প্রতারণার সঙ্গে যদি কোনো এজেন্ট বা কোনো বিকাশের অসাধু কর্মকর্তা বা কোনো ওয়েলফেয়ার প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এদিকে প্রতারণা সম্পর্কে বিকাশের জনসংযোগ কর্মকর্তা শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানান, যদি আমাদের কোনো এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা- বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে, তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকই বলে দেয় কার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিতে হবে। 

মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশ কর্তৃপক্ষ বলছে- তাদের কোনো অসাধু কর্মকর্তা যদি এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। একইসঙ্গে কেউ এমন প্রতারণার শিকার হলে, তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান রাখেন তারা। 

কিন্তু অভিযোগ আছে, বিকাশের মহাখালি অফিসে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেও কোনো উপায় অন্তর না পেয়ে ফিরে যান অনেকে। 

শাহিন নামের উত্তরার একজন মোবাইল ব্যবসায়ী বলেন, আমার একাউন্টে পাঁচ হাজার টাকার একটা এসএমএস আসে। দুই মিনিট পর কল আসে একটি রবি নম্বর থেকে। বলা হয়, ভুলে টাকা গিয়েছে। দয়া করে ফেরত দেবেন প্লিজ। চেক করে দেখি আমার ব্যালেন্স ছিল ৭ হাজার টাকা এখন ১২ হাজার টাকা, আমি তার নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখি আমার ব্যালেন্সে আছে, মাত্র দুই হাজার টাকা। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় জিডি করে মহাখালি অফিসে অভিযোগ করি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই হয় না সেখানে। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোবাইল ফোনের সাহায্যে টাকা আদান-প্রদানের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতারণার জাল। সারাদেশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য গ্রাহক নানাভাবে প্রতারণার শিকার হলেও প্রতিকারে এগিয়ে আসছে না সংশ্লিষ্ট কেউই। প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের অজ্ঞতার কালিমা দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন নিজেদের দায়িত্ব। অপরদিকে, এ বিষয়ে পুলিশের কাছে নালিশ করেও কোনো কাঙ্খিত প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/টিআরএইচ/এস/এসবি/এলকে
 

Best Electronics