আট মাস ধরে বিচারক নেই, ঝুলে আছে হাজারো মামলা

আট মাস ধরে বিচারক নেই, ঝুলে আছে হাজারো মামলা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৭ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আট মাস ধরে বিচারক নেই। ফলে বিচারক সংকটে ঝুলে আছে হাজার হাজার মামলা। এতে চকরিয়া-পেকুয়ার সাত লাখ মানুষের মধ্যে দেওয়ানি বিচার নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। 

দ্রুত বিচারক নিয়োগ পেলে এবং ঝুলে থাকা মামলা নিস্পত্তি হলে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ কমে আসবে বলে জানান আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ আগস্ট থেকে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বিচারক পদটি শূন্য রয়েছে। মো.আব্বাস উদ্দিন ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর সিনিয়র সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করেন। গত বছরের ২৭ আগস্ট বদলি হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত হন। এর পর থেকে দীর্ঘ আট মাস ধরে বিচারক পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে মামলার জট সৃষ্টি হয়েছে।

সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বর্তমানে ৪ হাজার ২৫৮টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মামলার সংখ্যা বেশি। বিচারক না থাকায় এসব মামলা নিস্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে, ভুক্তভোগীদের মাঝে অশান্তি বিরাজ করছে।
 
চকরিয়ার শাহ আলম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ২০১৫ সালের জমির খতিয়ান সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি মামলা দায়ের করি। বর্তমানে মামলাটি বিচারিক প্রক্রিয়ার রয়েছে। বিচারক না থাকায় মামলাটি নিস্পত্তি হচ্ছেনা।

আরেক ভুক্তভোগী রেহানা আক্তার নামের এক গৃহবধূ জানান, দুই বছর আগে স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। মোহরানা আদায়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। আদালত মাসিক কিস্তিতে নিদিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দেয়ার রায় দেন। পরে বিবাদী পক্ষ দুই মাসের কিস্তির টাকা জমা দিলেও গত আট মাস ধরে বিচারক না থাকায় টাকা গ্রহণ ও তোলা যাচ্ছেনা। 

পেকুয়ার বাসিন্দা আহমদ হোসেন জানান, ২০১২ সালে করা একটি মামলা অনেকটা শেষ পর্যায়ে আসলেও দীর্ঘ ৮ মাস থেকে এ আদালতে বিচারক না থাকায় মামলার কার্যক্রম চলছে না।  

চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তরুণ আইনজীবী মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বলা হলেও চকরিয়া-পেকুয়ার ক্ষেত্রে যেন তার উল্টো। আদালতে বিচারক না থাকায় বিচার কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে। 

তাছাড়া ভূমি দস্যুরা জোরপূর্বক জমি দখলে মেতে উঠেছে। বিচারক সংকটের কারণে জমি-জমা সংক্রান্ত আইনী প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যাচ্ছেনা। এতে দখলবাজরা বেপরোয়া হয়ে জমি জবর-দখলে মেতে উঠেছে। চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বর্তমানে চার হাজারের অধিক মামলা চলমান রয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেক মামলা নিস্পত্তির অপেক্ষায়।  

তিনি বলেন, বিচারকের পদ শূন্য থাকায় মামলার বাদী-বিবাদীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একাধিকবার জেলা জজের সঙ্গে দেখা করে শূন্য পদে বিচারক পদায়নের জন্য অনুরোধ করেছি। এখন পর্যন্ত বিচারক পদায়ন করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, চকরিয়ায় একটি নারী আদালত ও যুগ্ন জেলা জজ আদালত স্থাপনের দাবি করছি। এখানে যদি নারী ও জেলা যুগ্ন আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয় তবে চকরিয়া-পেকুয়ার সাত লাখ মানুষ উপকৃত হবে।

চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও চকরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মো. গোলাম ছরওয়ার বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব দফতরে একাধিক বার আবেদন করেছি। এখনো আদালতে বিচারক না থাকায় বিচার প্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আমরা দ্রুত বিচারক নিয়োগের জন্য জেলা জজের কাছে আবারো আবেদন জানাচ্ছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে