আট বছরের শিশুকে গলা টিপে হত্যা, সৎমায়ের রোমহর্ষক জবানবন্দি

আট বছরের শিশুকে গলা টিপে হত্যা, সৎমায়ের রোমহর্ষক জবানবন্দি

কুমিল্লা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৯ ২ জুন ২০২০   আপডেট: ২১:১৩ ২ জুন ২০২০

নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু আরাফাত

নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু আরাফাত

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তীরচর গ্রামে আরাফাত হোসাইন নামে আট বছরের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় আদালতে রোমহর্ষক জবানবন্দি দিয়েছে সৎমা সুমী আক্তার।

আদালত সূত্র জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানায়, শিশু আরাফাতকে গলা টিপে হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে বাড়ির গোয়াল ঘরে খড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এভাবেই ১০ ঘণ্টা গোয়াল ঘরে আরাফাতের মরদেহ পড়ে থাকে। সম্পত্তির লোভেই শিশুটিকে নির্মমভাবে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।

আরাফাত হত্যার ঘটনায় সৎমা সুমী আক্তার ও শিশুর বাবা মো. ফরিদ মিয়াকে আসামি করে মামলা করেছেন আরাফাতের মা ফেরদৌসী বেগম।

সোমবার চান্দিনা থানায় মামলাটি করা হয়। হত্যার ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাবা ও সৎ মাকে আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।

মঙ্গলবার কুমিল্লার আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় শিশুটির সৎমা সুমী আক্তার। পরে আদালত সৎমা ও শিশুটির বাবাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

চান্দিনা থানার ওসি মো. আবুল ফয়সল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শিশুটির সৎমা হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে মামলার আরো তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

গত রোববার রাত ১১টায় চান্দিনা উপজেলার তীরচর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শিশু আরাফাতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরাফাত চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউপির তীরচর গ্রামের মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে। সে তীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চান্দিনা থানার এসআই মো. হারুন মিয়া জানান, আদালত আসামি দুইজনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়েছে। ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি হাতে পেলেই মামলার তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ