Alexa আজ নড়াইল হানাদার মুক্ত দিবস

আজ নড়াইল হানাদার মুক্ত দিবস

নড়াইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৭:৩৪ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৫১ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ ১০ ডিসেম্বর। নড়াইল পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে জেলার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ও পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই দিন স্বাধীনতাকামীরা সড়কে লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করে।

১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর শহরের মাছিমদিয়ায় রাজাকারদের হাতে কলেজছাত্র ও মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান, ৯ ডিসেম্বর শহরের রূপগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে পাকিস্তানি রিজার্ভ ফোর্স, পুলিশ ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান শহীদ হন। ওই সময় তাদের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল তেজে হানাদারদের ওপর আক্রমণ করেন। ওই দিন নড়াইল সদর, লোহাগড়া ও খড়রিয়া মুক্তযোদ্ধা ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে শহরে ত্রিমুখী আক্রমণ শুরু করে।

এদিন রাতে রূপগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (ওয়াপদা) অবস্থিত পাকিস্তানি ও রাজাকার বাহিনীর সবচেয়ে বড় ক্যাম্পের দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর দিক থেকে ঘেরাও করেন দেড় শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।  

ভোর ৪ টা থেকে রূপগঞ্জ জামে মসজিদ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আমির হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন রানার নেতৃত্বে বর্তমান উৎসব কমিউনিটি সেন্টার এলাকায়, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাঈদুর রহমান সেলিম, জিন্দার আলী খান, মো. কুবাদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী মালেক মোল্লার দোতলায়, সদর উপজেলা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার শরীফ হুমায়ুন কবির, হালিম মুন্সি, সাইফুর রহমান হিলু ও শেখ আজিবর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা শক্রপক্ষের ওপর গুলি বর্ষণ শুরু করে। এক পর্যায়ে পাক বাহিনীর দুই সেন্ট্রি গুরুতর আহত হলে তারা ভয় পায়। 

পরে ১০ ডিসেম্বর সকাল ১১ টায় পাকিস্তানি মিলিটারি বাহিনীর অধিনায়ক বেলুচ কালা খান ২২ পাকিস্তানি সেনা, ৪৫ রাজাকার ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ মক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। শত্রুমুক্ত হয় নড়াইল। এর আগে ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া থানা ও ১০ ডিসেম্বর কালিয়া থানা শক্রমুক্ত হয়।

এদিকে প্রতিবারের ন্যায় এবারো নড়াইল মুক্ত দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, গণকবর ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, শোভাযাত্রা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে গণসংগীত ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান। 

এছাড়া ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শহরের রূপগঞ্জ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতিকর্মীদের অংশগ্রহণে নড়াইল মুক্ত হওয়ার ধাপগুলো মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে প্রদর্শন করবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/আরএজে