Alexa আজহারীর মাহফিলে ধর্মান্তরিত ১১ জনই ভারতীয়

আজহারীর মাহফিলে ধর্মান্তরিত ১১ জনই ভারতীয়

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪৯ ২৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:৪৬ ২৭ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের হাজীপুর পাটোয়ারী বাড়িতে হিন্দু পরিচয়ে কলেমা পাঠ করে মুসলমান হওয়া সেই ১১ জন ভারতীয়কে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে তাদের আটক করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ।

শুক্রবার রাতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর কাছে হিন্দু পরিচয়ে কলেমা পাঠ করে তারা মুসলমান হন।

মা ইছাপুর ইউপির মেম্বার, নিজে ভারত-বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক, তিন সন্তান মাদরাসাতে পড়ে, বড় মেয়েকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তিন বছর আগে বোনের ছেলের কাছে বিয়ে দেয়ার পরেও মাহফিলে সবাইকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে মুসলমান হওয়ার ঘটনায় উপজেলার সব মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উপজেলার ৪ নম্বর ইছাপুর ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য নারায়ণপুর গ্রামের ডাক্তার আ. হাই বাড়ির মোসাম্মৎ ফাতেমা বেগমের ছেলে মনির হোসেন কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে চলে যায়। সেখানে গিয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে প্রতারণার আশ্রয়ে পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়ার চাচাতো ও জেঠাতো বোনকে বিয়ে করে। মনির হোসেনের প্রথম স্ত্রী রেখা অধিকারীর সংসারে মরিয়ম বেগম, শেফালী বেগম, মারিয়া আক্তার, নুসরাত জাহান, জান্নাত আক্তার এবং দ্বিতীয় স্ত্রী সুজাতা অধিকারীর সংসারে আ. করিম, আয়েশা আক্তার ও আবদুল্লাহর জম্ম হয়।

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ভারত থাকাবস্থায় মনির হোসেন তার বড় মেয়ে শ্যাফালী বেগমকে বাংলাদেশে বোন পারভিন বেগমের ছেলে পারভেজ হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেয়। কয়েক মাস আগে মনির হোসেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশে ফিরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার শুভাঢ্যা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। পরে সেই ইউপি থেকে মুসলমান হিসেবে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের জন্ম নিবন্ধন করান। আর নিজের জন্মনিবন্ধন করান রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউপি থেকে।

রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউপি মেম্বার মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, মনির হোসেন ইছাপুর ইউপির সংরক্ষিত মেম্বার ফাতেমা বেগমের বড় ছেলে এবং দক্ষিণ নারায়ণপুরের আ. হাই ডাক্তার বাড়ির মজিবুল হকের ছেলে হলেও কয়েক মাস ধরে হরিশ্চর গ্রামের হাফেজ আয়াত উল্লাহর বসত ঘরে ভাড়া থাকতো। তার দুই মেয়ে জান্নাত ও আয়েশা আক্তার হরিশ্চর দাখিল মাদরাসায় ৫ম শ্রেণিতে পড়ে। ছেলে আব্দুল্লাহ বর্তমানে নূরানি মাদরাসাতে পড়ে।

গ্রামের লিটন হাজারীসহ কয়েকজন বলেন, ১১ জনের মুসলমান নিবন্ধন থাকার পরও মিজানুর রহমান আজহারী মাহফিলে মনির হোসেনকে শংকর অধিকারী, তার স্ত্রী রেখা অধিকারী ও সুজাতা অধিকারী, সন্তান মরিয়মকে মিতালী, শেফালীকে শ্যাফালী বেগম, মারিয়াকে রূপালী, নুসরাতকে কোয়েল, জান্নাতকে শ্যামলী, আ. করিমকে রাজা, আয়েশাকে সুমা, আবদুল্লাকে রাজেশ এবং নাতি আ. রহমানকে সূর্য নাম দেখিয়ে ধর্মান্তর ঘোষণা দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, আমি ভারতে থাকাবস্থায় শংকর অধিকারী পরিচয় দিতাম। দেশে ফিরে আগের পরিচয় দিয়ে একটি অটোরিকশা চালিয়ে দুই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে জীবন-যাপন করছি।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও রায়পুর এল এম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা যে আগে থেকেই মুসলমান ছিল এ বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। মাহফিলের পরে বিষয়টি আলোচনা আসার পরে বিস্মিত হয়েছি। পুলিশ ওদের আটক করে হেফাজতে রেখেছে। বিভিন্ন সংস্থা তদন্ত করছে।

উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, মা ইউপির সংরক্ষিত মেম্বার, সন্তানরা মাদরাসায় পড়ে, বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে, জম্মনিবন্ধনে সবার পরিচয় মুসলমান হওয়ার পরেও কীভাবে মাহফিলে গিয়ে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করে। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের নির্দেশনা পাওয়ার পরে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

রামগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর ১১জনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/এআর