Alexa আজব কাণ্ড! মডেলের শরীরের ওপর খাবার পরিবেশন 

আজব কাণ্ড! মডেলের শরীরের ওপর খাবার পরিবেশন 

কানিছ সুলতানা কেয়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:২৭ ৩ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:৪৩ ৩ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অতিথি আপ্যায়নে সুস্বাদু খাবারের পাশাপাশি খাবার পরিবেশনও বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। খাবার পরিবেশনের বিভিন্ন প্রথা বা প্রচলন থাকলেও দিন দিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ভাবনা। এমনই একসময়ের ভাবনা থেকে প্রথা হয়ে দাড়ায় নগ্ন দেহের ওপর খাবার পরিবেশন করা। 

এই প্রথাটি প্রথম শুরু হয় জাপানে। সেখানকার বিভিন্ন খাবারের হোটেলগুলোতে এটি শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে সারা বিশ্বেই এটি সাড়া ফেলে। জাপানের এক ঐতিহ্যবাহী খাবার সুশি কি সাশিমি নগ্ন নারী দেহের ওপর পরিবেশন করা হতো। সুশি সাধারণত শ্যাম্পেনের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। পরে অবশ্য অন্য সব খাবারও এভাবে পরিবেশন করা হতো সেখানে। 

শরীরের ওপর খাবারসামুরাইদের আমল থেকে জাপানে এই প্রথাটি প্রচলিত। জাপানের ক্ষত্রিয় অথবা অভিজাত যোদ্ধা শ্রেণির মানুষেরা দশম শতাব্দী থেকে সামুরাই নামে পরিচিত ছিল। তারাই এই প্রথার নাম নিওতাইমোরি। যুদ্ধে জয়লাভ করার পর তা উদযাপন করার একটি পন্থা ছিল নিওতাইমোরি। সেখানেই নাকি এই প্রথার শুরু, যা আজ অবধি চলেছে। 

মডেল পুরুষ হলে এই আশ্চর্য ভোজন পন্থার নাম হয় নানতাইমোরি। আর নারী হলে একে বলা হয় নিওতাইমোরি। জাপানি ভাষায় নিওতাইমোরি কথাটির অর্থ হলো ‘নারীর শরীর থেকে পরিবেশন করা (খাদ্য)’ বা ‘বডি সুশি’। পুরুষের শরীরকে পাত্র করে তা থেকে সুশি পরিবেশন করাটাকে বলে নানতাইমোরি। 

খাবার সাজানো হচ্ছেনিওতাইমোরির জন্য মডেলদের রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিতে হয়। কাজটা কিন্তু একদমই সহজ নয়! নিওতাইমোরি মডেলদের সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়। তার ওপর আবার অতিথিদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা বারণ। নির্বিকার ভঙ্গিতে অতিথির সামনে শুয়ে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ। 

খাবার পরিবেশন করা হয় সবুজ পাতার ওপর। যাতে মডেলের শরীরের সংস্পর্শে না আসে। খাবার গড়িয়ে যাতে পড়ে না যায়। এজন্য সমতল খাবার শরীরের সমতল অংশে রাখা হয়। নান্দনিক এই নিওতাইমোরিকে কলাশিল্পের অঙ্গ হিসেবে দেখা হয়। এখানের কিছু নিয়ম রয়েছে। যা মডেলদের পাশাপাশি গ্রাহকদের শিখতে হয় এবং স্মরণ রাখতে হয়।  

শরীরের ওপর থেকে খাবার নিয়ে খাচ্ছেন ক্রেতারানিওতাইমোরি উপভোগ করার জন্য অতিথিদেরও অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। তার মধ্যে প্রথমেই আসে শৃঙ্খলাবোধ। এছাড়াও অতিথিদের সতর্ক থাকতে হয়। কোনো ধরনের অশ্লীল ইঙ্গিত করতে পারবেন না তারা। এমনকি মডেলদের সঙ্গে কথা বলাও নিষেধ। এছাড়াও খাবার খেতে শুধু চপস্টিকস ব্যবহার করতে পারবে। অনেক রেস্টুরেন্টে শুধু মুখ দিয়েই সুশি তুলে নেয়ার নিয়ম রয়েছে।  

সবাই যে নিওতাইমোরিকে সুনজরে দেখেছিল, এমন নয়। এটা নিয়ে অনেক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের কাছে এটা নারীর শরীরকে বস্তু বা পণ্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনার সমতুল্য। আবার অনেক দেশে এর ওপর নিষেধাজ্ঞাও আনা হয়েছে। সর্বশেষ চীনে নিওতাইমোরি নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৫ সালে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস