Alexa আজও আঁতকে ওঠে উপকূলবাসী

‘সুপার সাইক্লোন’ সিডর

আজও আঁতকে ওঠে উপকূলবাসী

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৩২ ১৩ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:৩৭ ১৩ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার পাথরঘাটায় ‘সুপার সাইক্লোন’ সিডর আঘাত হানে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর। এক যুগ পরও তাড়িয়ে বেড়ায় ভয়াল স্মৃতি। আজও আঁতকে ওঠে উপকূলবাসী।

স্মরণকালের ভয়াবহ সেই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে পাথরঘাটার মানুষের জীবন। কেউ হারিয়েছেন আপনজন, কেউবা নিজের আশ্রয়-শেষ সম্বল। ১২ বছর পার হলেও থামেনি ভুক্তভোগীদের কান্না।

বরগুনায় সিডরের তাণ্ডবে প্রাণ হারায় এক হাজার ৩৪৫ জন মানুষ। স্বাভাবিকের চেয়ে ১০-১২ ফুট উচ্চতায় উপকূলে আছড়ে পড়ছিল ঢেউ। পানির চাপে ভেঙে যায় পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর নদীর বেড়িবাঁধ। ভেসে যায় এক লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৫টি বাড়ি। তলিয়ে যায় ৩৭ হাজার ৬৪ একর জমির ফসল।

ওই সময় কবর দেয়ার জায়গাও ছিল না। তাই বরগুনা সদরের গর্জণবুনিয়ায় সড়কের পাশে ১৯টি কবরে ২৯ জনকে দাফন করা হয়। ২ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে গণকবরটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাত ৮টা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর। আগের দিন বিকেলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সঙ্কেতের খবর দেয় আবহাওয়া বিভাগ। রাতে সাইক্লোন শেল্টারসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয় উপকূলের মানুষ। ঝড় হয়নি দেখে পরদিন সকালে ঘরে ফেরে সবাই। বিকেল থেকেই বাড়তে থাকে ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি। সন্ধ্যায় ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে সিডর। কয়েক ঘণ্টার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চল। এরপর প্রায় এক মাস দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিলো, বিচ্ছিন্ন ছিল বিদ্যুৎ সংযোগও। সঠিক সময়ে ত্রাণ না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ভুগতে হয়েছে সহায়-সম্বল হারানো মানুষগুলোকে।

১২টি বছর পার হলেও কাটেনি সেই দুঃস্বপ্নময় রাতের স্মৃতি। আজও প্রিয়জন হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে চোখের জল ফেলেন শতশত মানুষ। এমন দুঃসহ দিন যেন আর কখনো না আসে এ কামনাই করেন স্বজন-সম্বল হারানো মানুষেরা।

বরগুনা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, সেদিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ফিরে আসতে পারেনি সাড়ে চারশ জেলে। ডুবে গেছে অর্ধশতাধিক ট্রলার। তাদের খোঁজে আজও সাগরপাড়ে দাঁড়িয়ে কাঁদেন স্বজনরা।

বরগুনার ডিসি মো. মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে পুনর্বাসনের আওতায় আনতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। উপকূলের বাসিন্দাদের দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম এবং স্বাবলম্বী করতে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর