Alexa আগ্নেয়গিরির মধ্যে ছুটে চলার মত ঝুকিপূর্ণ কয়েকটি স্থান

আগ্নেয়গিরির মধ্যে ছুটে চলার মত ঝুকিপূর্ণ কয়েকটি স্থান

খাদিজা তুল কুবরা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৫ ১১ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৫:১৭ ১১ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কোথাও ঘুরতে যেতে কার না ভালো লাগে! প্রচণ্ড নিয়মমাফিক একঘেয়ে জীবনে হুটহাট একেকটা ভ্রমণ যেনো খরা রৌদ্র তাপের পর এক পশলা বৃষ্টির মতো হয়ে আসে। ভ্রমণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বেঁচে থাকাটা কত আনন্দের! পৃথিবীজুড়ে এমন কিছু অপরূপ সৌন্দর্য আছে সেগুলো না দেখতে পারলে বুঝি জীবনই বৃথা! তবে এমন কিছু জায়গাও আছে যেগুলো শুধুমাত্র আনন্দই না, দিবে ভয়ংকর অনুভূতি। আজ আমরা জানব ভ্রমণের জন্য পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত চারটি ভয়ংকর স্থানের নাম। যেগুলো শুধুমাত্র আনন্দই না, দিবে রোমাঞ্চকর অনুভূতি। 

১। চীনাদের নানা ধরণের ব্রিজ তৈরি করার রেওয়াজ বেশ পুরোনো। এরা প্রায়ই নানা জায়গায় যত সব অদ্ভুত ধরণের ব্রিজ বা সেতু তৈরি করে থাকে। চীনের কাচের তৈরি ব্রিজের কথা নিশ্চয়ই অনেকেই শুনেছেন। বিখ্যাত এই ব্রিজটি এত স্বচ্ছ যে মনে হয় আপনি শূন্যের উপরই হেটে যাচ্ছেন। তবে নিচের দিকে তাকালে আপনার না ভয় পেয়ে উপায় নেই। পাহাড় ঘেরা উঁচু স্থানে নির্মিত এই সেতুটিতে চড়তে রীতিমত ভড়কে যান ভ্রমণরত মানুষেরা। সেতুটা তৈরি করা হয়েছে একটি বিশাল খাদের উপরে। যেকারণে নিচের দিকে তাকালেই আঁতকে উঠতে হয়। তবে নির্মাতারা বলছেন, এই সেতুটি সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি সেতু, এতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই। চীনের হুনান প্রদেশের ঝাংজিজিয়ে ন্যাশনাল পার্কের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত এই সেতুটি। বিখ্যাত এই সেতুটি প্রায় ৪৬০ মিটার দীর্ঘ। ভয়ংকর এবং রোমাঞ্চকর অনুভূতি পাওয়ার উপযোগী ভ্রমণের জন্য চীনের এই জায়গাটি হতে পারে সবচেয়ে ভালো পছন্দ। 

জিপ ওয়ার্ল্ডে উড়ন্ত মানব ও গ্লাস সেতুতে ভাসমান নারীরা

২। পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান আছে যেগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে কি না মৃত্যুও ঘটতে পারে। কিন্তু ভ্রমণপিপাসু স্বপ্নাতুর মানুষকে কে আটকায়? পৃথিবী এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে এমন ভ্রমণ প্রিয় মানুষদের রোমাঞ্চকর অনুভূতি দিতে আছে দারুণ এক সুযোগ। এটি এমন একটি রাইড যেটিকে বলা হয় ভল্কানো বা আগ্নেয়গিরি ভ্রমণ। অর্থাৎ এটি জলন্ত আগ্নেয়গিরির উপর থেকে নিচে যাওয়ার মতো দারুণ ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভ্রমণ ব্যবস্থা। অথচ এত মৃত্যুর ঝুকি থাকা স্বত্বেও প্রতিবছর হাজার হাজার মানুয়াহ এ ধরণের রাইডের অনুভূতি নিয়ে থাকেন। এতে উপর থেকে নিচে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে স্লিপারের মতো একটি বোর্ড যেটি কে ভল্কানো বোর্ড বলা হয়। খুব অদ্ভুত একটি তথ্য হলো এইসব ভ্রমণকারীদের উপর থেকে নিচে নামার সময় গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। 

৩। কাচের সেতু অথবা জলন্ত আগ্নেয়গিরির পরও যদি আপনার ভ্রমণের আরো ইচ্ছে থাকে তাহলে চলে যেতে পারেন ইউনাইটেড কিংডমের ভেলোসিটি তে যেখানে জিপ ওয়ার্ল্ড নামক একটি পার্ক আছে যেখানে আপনি চাইলে সুপারম্যানের মতো অনুভূতি পেতে পারেন। শুনতে অদ্ভুত শুনালেও সত্যি যে সেখানে একটি শক্ত দড়ির সাহায্যে আপনাকে একটি পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা দেয়া হবে এবং সে মুহূর্তে আপনার গতিবেগ থাকবে প্রায় ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার। এত রোমাঞ্চকর অনুভূতির নিরাপত্তার জন্য বেশ শক্তপোক্ত হেলমেট এবং চশমা পড়িয়ে দেয়া হয় ভ্রমণকারীদের। এত দ্রুত গতির জন্যে চশমা না পড়লে সেটি চোখের জন্য বেশ ক্ষতির কারণ হয়ে যেতে পারে। 

৪। পৃথিবী অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে নরওয়ের বিখ্যাত ব্রুকেইল পাহাড়ে। এটি ভ্রমণপ্রিয় মানুষদের নিকট এতোই রোমাঞ্চকর যে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটকরা এতে ভিড় করে থাকেন। তবে সুন্দর কিছু এমনি এমনি পাওয়া যায়না এটাই ভয়ংকর সত্যি একটা কথা। সে কারণে এই পাহাড়টি চড়ার আগে পর্যটকদের বেশ দমই ফুরাতে হয়। প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা পাহাড়ের পথ পেরুনোর পর অবিশ্বাস্য সুন্দর এই অনুভূতি পাওয়া যাবে। তবে এতে মৃত্যুর ভয়ও কিন্তু প্রবল। কিছুদিন পূর্বেই অস্ট্রেলিয়ান এক নারীর মৃত্যু হয় এই পাহাড় চড়ার পথে। তবে সে যাইহোক যেকোনো পথেই তাই সাবধানতা সবার আগে থাকা উচিত, কারণ তবেই মিলবে সবচেয়ে সুখকর অনুভূতি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস