আগামী ১০ বছরে বিশ্বে জনসংখ্যা বাড়বে প্রায় ১০০ কোটি

আগামী ১০ বছরে বিশ্বে জনসংখ্যা বাড়বে প্রায় ১০০ কোটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৭ ১২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:১৮ ১২ জুলাই ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে প্রতি বছরই বাড়ছে জনসংখ্যা। বর্তমান ৭৭০ কোটি জনসংখ্যার সঙ্গে আগামী ১০ বছরের মধ্যে যোগ হবে আরো ১০০ কোটি। অর্থাৎ আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যা সাড়ে আটশো কোটিতে উন্নীত হবে।

শনিবার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি শতকের শেষ দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ১১০০ কোটিতে। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, প্রজননের হার হ্রাস, নগরায়ন এবং বিস্তৃত পরিসরে অভিবাসীর মতো বিষয়গুলোকে কারণে বিশ্ব জনসংখ্যার গড় বয়স বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৭০ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে।

জাতিসংঘের বৈশ্বিক জনসংখ্যার প্রবণতা অনুসারে, ২০১১ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা সাতশো কোটিতে পৌঁছায় আর এখন সেটা ৭৭০ কোটি। অর্থাৎ গত প্রায় ৯ বছরে বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আরো ৭০ কোটি মানুষ যুক্ত হয়েছে। আগামী দশ বছরে তা ৮০ কোটিরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের পূবাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যা হবে ৯৭০ কোটি এবং ২১০০ সালে তা এক হাজার ৯০ কোটিতে গিয়ে ঠেকবে।

জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল পপুলেশন ট্রেন্ড’ অনুযায়ী, ১৯৭০ এর দশকের শুরুর দিকে নারীরা গড়ে ৪ দশমিক ৫টি সন্তান জন্ম দিতেন। তবে ২০১৫ সালে এসে এই হার দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫ এ। তবে বৈশ্বিক গড় আয়ু বেড়েছে। ১৯৯০ এর দশকে বিশ্বের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৬৪ দশমিক ৬ বছর। ২০১৯ সালে তা ৭২ দশমিক ৬ বছর।

এছাড়া নগরায়নের বিষয়টিও ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বে মোট জনসংখ্যার মধ্যে গ্রামের চেয়ে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। জাতিসংঘ বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ শহরে বসবাস করবে।

তারা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আয় বিতরণ, দারিদ্র্য এবং সামাজিক সুরক্ষাগুলোকে প্রভাবিত করে। এছাড়া তারা স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, স্যানিটেশন, জল, খাদ্য এবং শক্তিতে সর্বজনীন অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার প্রয়াসকেও প্রভাবিত করে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করি, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করি।’ বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করতে এ দিবসকে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘ। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালনা পর্ষদ এ দিনটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্বে সম্মিলিতভাবে ৫০০ কোটি জনসংখ্যা অতিক্রম করলে এটি চিহ্নিত হয়। ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই ৯০টিরও বেশি দেশে এটি প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়েছিল।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ