Alexa আগস্টের মধ্যেই ৪১তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

আগস্টের মধ্যেই ৪১তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

জর কর্নার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৩১ ২৪ জুন ২০১৯   আপডেট: ২০:৩৩ ২৪ জুন ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আগামী আগস্টের মধ্যেই ৪১তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এটি হবে সাধারণ (জেনারেল)। 

এই বিসিএসে নেয়া হবে ২ হাজার ১৩৫ জনকে। ৪১তম বিসিএসের বিষয়ে চাহিদাপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হয়েছে। আর এখন কেবল সুবিধাজনক সময়ে এই বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি করবে পিএসসি।

পিএসসি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসি নির্দেশনা পেয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চাহিদাপত্র তারা হাতে পেয়েছে। এই বিসিএসে সবচেয়ে বেশি নেয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে।

আরো দেখুন>>> ৫০ হাজার টাকা বেতনে সোসিও ইকোনোমিক ব্যাংকিং এসোসিয়েশনে চাকরির সুযোগ

এই ক্যাডারে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এর মধ্যে বিসিএস শিক্ষাতে প্রভাষক ৯০৫ জন, কারিগরি শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক ১০ জন নেয়া হবে। শিক্ষার পরে বেশি নিয়োগ হবে প্রশাসন ক্যাডারে। প্রশাসনে ৩২৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। পুলিশে ১০০, বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৩০ জনকে নেয়া হবে।

পররাষ্ট্রে ২৫ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহাহিসাব রক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার (কর) ৬০ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন নেয়া হবে।

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন নেয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ে সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে সহকারী প্রকৌশলী ৩৬ জন, সহকারী বন সংরক্ষক ২০ জন।

সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে ২ জন, বিসিএস মৎস্যতে ১৫ জন, পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন।

পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনসহ মোট ২ হাজার ১৩৫ জন কর্মকর্তাকে এই বিসিএসে নিয়োগ করা হবে।

বিসিএসের বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪১তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। এখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

৪১তম বিসিএস বিশেষ হবে না উল্লেখ করে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, অনেকে ধারণা করেছিলেন ৪১তম বিসিএস বিশেষ হবে, কিন্তু সেটি হচ্ছে না।

কবে নাগাদ এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে জানতে চাইলে মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘আমাদের হাতে কয়েকটি বিসিএসের কাজ আছে। এগুলো শেষ করে এ বছরে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।’

পিএসসির চেয়ারম্যান জানান, ৪১তম বিসিএসে ২ হাজার ১৩৫ জনকে (ক্যাডার) নেয়া হবে। তবে একেকটি বিসিএস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রার্থী নন–ক্যাডারে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ভালো ভালো পদে নিয়োগ পাচ্ছেন। সেই হিসাবে, একেকটি বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় পাস করলে নিশ্চিত চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

৪০তম বিসিএসের জন্য গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। ৪০তম বিসিএসের আবেদন গ্রহণ শুরু হয় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে। এতে আবেদন করেন ৪ লাখ ১২ হাজার ৫৩২ জন প্রার্থী। এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ৩ মে। এতে প্রায় ৮৩ হাজার পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এই বিসিএসে মোট ১ হাজার ৯০৩ জন ক্যাডার নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে।

আগামী মাসের মধ্যেই ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার এবং ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে কমিশন। ঈদের আগেই ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। দুইজন পরীক্ষক এবং ক্ষেত্রবিশেষ তিনজন পরীক্ষকের খাতা মূল্যায়নের কারণে একটু বিলম্ব হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন উত্তীর্ণ হন। গত বছরের ৮ আগস্ট এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়।

ঈদের আগেই ৩৭তম বিসিএস নন-ক্যাডারের তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে বলে জানিয়েছে পিএসসি। গত ১৩ মার্চ ৫৭৮ জনকে প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগের সুপারিশের পর দ্বিতীয় তালিকাটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১২ জুন ৩৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৩১৪ জন ক্যাডার পান।

বাকি ৩ হাজার ৪৫৪ জনকে নন-ক্যাডারে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। পদ পাওয়া সাপেক্ষে তাদেরকে পর্যায়ক্রমে নিয়োগের সুপারিশ করবে পিএসসি। পিএসসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নন-ক্যাডারে আবেদনকারীদের বেশিরভাগ এবার চাকরি পেতে পারেন। অপেক্ষমাণদের চাকরির লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডেইলি বাংলাদেশে/আরএজে