Alexa আখের লালি তৈরিতে মাতোয়ারা বিষ্ণপুর 

আখের লালি তৈরিতে মাতোয়ারা বিষ্ণপুর 

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১১ ২২ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ঋতু পরিবর্তনের পালায় শুরু হয়েছে শীতকাল। সেই সঙ্গে গ্রাম বাংলায় শুরু হয়েছে পিঠা-পুলির উৎসব। আর শুরু হয়েছে আখ থেকে লালি আর গুড় তৈরির কাজও। লালি আর গুড় হলো এক ধরনের মুখরোচক খাবার, যা শীতকালে চাউলের গুড়া দিয়ে তৈরি যেকোনো পিঠার সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ছায়াঘেরা অপরূপ প্রাকৃতিক শোভায় ভরপুর বিষ্ণপুর গ্রামে আখের লালি তৈরিতে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিষ্ণপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার লালি তৈরিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। একদিকে কৃষকরা জমি থেকে আখ কেটে জমা করছেন, অন্যদিকে আখ থেকে রস সংগ্রহ করছেন। সেই সঙ্গে সংগ্রহ করা রসগুলো জাল দিয়ে তৈরি করছেন লালি। আবার কেউ কেউ গুড়ও তৈরি করছেন। তবে স্থানীয়রা বলেন, বিষ্ণপুর গ্রামে লালি-ই সবচেয়ে বেশি তৈরি করা হয়। 

জানা গেছে, এলাকার বেশীরভাগ অনাবাদি জমিতে আখ চাষ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্বল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এ চাষের পরিধি।  এলাকার স্থানীয় কৃষকরা জমি থেকে পরিপুষ্ট আখ সংগ্রহ করছেন। সংগ্রহ করা আখগুলো মেশিন বা লোহার ঘানির মাধ্যমে চেপে তৈরি করছেন রস। এরপর মাটির চুলায় বড় ড্রামের মাধ্যমে রসগুলোকে জাল দিয়ে তৈরি করছেন লালি। লালি তৈরি হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে তা পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে রাখছেন। আবার কেউ কেউ গুড়ও তৈরি করছেন। পরিবারের সদস্যরা এসব কাজে সার্বিক সহযোগিতা করছেন। দিন রাত চলছে তাদের কাজ। এরইমধ্যে এ এলাকার লালি ও গুড় জেলায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। 

আখ থেকে রস নেয়া হচ্ছে

কৃষক মো. সাগর মিয়া বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে আখ চাষ করছি। আখের রস থেকে লালি তৈরি করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ভালো আয়ও করা যায়। সারাদেশেই এর চাহিদা রয়েছে।

কারিগর মো. জুয়লে মিয়া বলেন, জমির মালিক থেকে আখ কিনে লোহার ঘানিতে রাখা হয়। ঘানির সঙ্গে বাঁশ আর লাঠি দিয়ে মহিষকে দড়ির সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয়। লাঠি দিয়ে মহিষকে আস্তে আস্তে আঘাত করলে সে চারদিকে অনবরত ঘুরতে থাকে। এতে লোহার ঘানি থেকে আখের রস বের হয়। কিছুক্ষণ পর রসগুলো জমিয়ে মাটির চুলার ওপর পাতলা কড়াইতে ঢেলে দেয়া হয়। আগুন দিয়ে জ্বাল দেয়ার প্রায় তিন ঘণ্টা পর তা উঠিয়ে পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে কলসিতে রাখা হয় বিক্রির জন্য।

তিনি আরো বলেন, দেশের বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে প্রতি লিটার ৮০ টাকা করে কিনে নিয়ে যান। শীত মৌসুমে একটানা তিন মাস লালি তৈরি করা হয়। আমাদরে বাপ-দাদা এ কাজ করেছে। তাই আমরাও করছি। 

মোহাম্মদ আলী বলনে, এটা আমাদের পূর্বের পেশা। এ এলাকার লালির গুণগত মান খুবই ভালো। সরকার যদি আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করতো তাহলে ভালো হতো। এ কাজে অল্প পুঁজিতে ভাল ব্যবসা করা সম্ভব। 

এছাড়া ভ্রাম্যমাণ লালি বিক্রেতা আব্দুল খালেক, মুরাদ  বলেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমে এখান থেকে লালি কিনে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করি। এখানকার লালির বিভিন্ন এলাকায় ভালো কদর রয়েছে।  

বিজয়নগরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম বলেন, লালি কারিগরদের জন্য সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ পেলে অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর