আখাউড়া স্থল বন্দরে রফতানি বাণিজ্যে ভাটা

আখাউড়া স্থল বন্দরে রফতানি বাণিজ্যে ভাটা

কাজী মফিকুল ইসলাম,আখাউড়া ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৩ ১২ জুন ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রফতানি বাণিজ্য কমে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থল বন্দর। নেই পণ্য বোঝাই ট্রাকের দীর্ঘ লাইন, শ্রমিকদের কোলাহল, ব্যবসায়ী-সিএন্ডএফ এজেন্টদের ব্যস্ততা।

চাকরি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেক শ্রমিক। যাদের চাকরি আছে তারাও অলস সময় পার করছেন। তাদের আশা, আমদানি-রফতানি গতিশীল করা হলে বন্দরটি আবার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে।

২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু করে দেশের পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার আখাউড়া স্থল বন্দর। এ বন্দর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাত প্রদেশে বাংলাদেশ থেকে পাথর, সিমেন্ট, মাছ, শুটকি, প্লাস্টিক সামগ্রিসহ ৪২ ধরনের পণ্য রফতানি করা হতো। ত্রিপুরার সঙ্গে অন্যান্য রাজ্যের রেল যোগাযোগ সহজ হওয়ায় পণ্য আনা-নেয়া অনেকটাই সহজ হয়েছে। এতে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছে সে দেশের ব্যবসায়ীরা। এর ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বন্দরের রফতানি বাণিজ্যে।

আখাউড়া স্থল বন্দরের ব্যবসায়ী মো. আব্বাস উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি এ বন্দরে ব্যবসা করছেন। এখানে সকাল-সন্ধ্যা ব্যবসায়ী-শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য ছিল। বর্তমানে রফতানি বাণিজ্য কমে যাওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন।

আখাউড়া স্থল বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় শতভাগ রফতানিমুখী এ বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ২০০ ট্রাক পণ্য রফতানি হতো। যা বর্তমানে ১০-১৫ ট্রাকে নেমে এসেছে। তাও কোম্পানীর গাড়িই বেশি। আগরতলায় সমন্বিত স্থলবন্দর চালু হওয়ায় ভারতের ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এছাড়া ত্রিপুরায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারণেও অনেকে পণ্য আমদানিতে অনিহা প্রকাশ করছে।

সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আহামেদ খলিফা বলেন, ২০১৬ সাল থেকে রফতানি কমতে থাকে। নিষিদ্ধ পণ্য বাদে সব ধরনের পন্য আমদানি-রফতানির অনুমতি দিলে বন্দর আবারো প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে। 

বাংলাদেশে স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের (অর্থ ও প্রশাসন) সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ফকির বলেন, আমরা এ বন্দর দিয়ে রফতানি বাড়াতে চাই। রফতানিকারকদের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর