Alexa আক্কেলপুরের মেয়রসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক

আক্কেলপুরের মেয়রসহ চারজনের বিরুদ্ধে তদন্তে দুদক

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:০৪ ১৪ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:০৭ ১৪ নভেম্বর ২০১৯

পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর

পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসরসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুটি দুর্নীতি মামলা হয়েছে। আর এসব মামলার তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। 

বুধবার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক এম.এ রব হাওলাদার দুটি মামলার শুনানি শেষে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেন। এর আগে ওই আদালতে পৃথক মামলা করেন এনায়েতুর রহমান আকন্দ ও মজিবর রহমান। 

মামলার আসামিরা হলেন- পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর, আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিক ফারুক আলম চৌধুরী ও জামশেদ আলম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের স্পেশাল পিপি নন্দকিশোর আগরওয়ালা।

প্রথম মামলার তথ্যানুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী গ্রন্থাগারিক ফারুক আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ উঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটি সত্যতা পাওয়ায় তাকে বরখাস্ত করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় কাগজসহ অবহিত করলে ২০১১ সালের ২০ জানুয়ারি শিক্ষা বোর্ড শাস্তির পরিবর্তে অভিযুক্ত গ্রন্থাগারিককে যোগদানের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পাদনের জন্য ফারুক আলম চৌধুরীকে এক বছর ছুটি দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

বোর্ডের ওই বেআইনি সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে কলেজ পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত নাজমুল হুদা উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত শিক্ষা বোর্ডের ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। যা ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকে। কিন্তু ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় কলেজের বর্তমান সভাপতি গোলাম মাহফুজ চৌধুরী, অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান ও অপর সদস্য জামশেদ আলম নিয়ে সভা ডেকে গ্রন্থাগারিককে বেতন দেন। এছাড়া তারা অবৈধ গ্রন্থাগারিক ফারুক চৌধুরীর কাছ থেকে এমপিও’র সরকারি টাকা সরকারি তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

অপর মামলার তথ্যানুযায়ী, মজিবর রহমান একজন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার। তার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স রোজী চাউল কল। আক্কেলপুর পৌরসভার গেইটসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজে অংশ নিতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। এতে ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর দরপত্র বাক্সে দাখিল করেন তিনি। ওই দরপত্র অনুযায়ী ওই কাজের সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে চূড়ান্ত রিপোর্টে মজিবর রহমান প্রথম স্থান পান।

যাবতীয় কাগজ সঠিক থাকা সত্ত্বেও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী মিথ্যা কারণ দেখিয়ে তার দরপত্র বাতিল করেন। পরে অর্থের বিনিময়ে সাহা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে বেশি মূল্যে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেন মেয়র। এতে সরকারের ৩০ হাজার টাকার অধিক রাজস্ব ক্ষতি হলেও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন তিনি। একইভাবে আরো দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বেশি মূল্যে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ সম্পন্নের দায়িত্ব প্রদান করে। এতে সরকারের আরো দুই লাখ ২৯ হাজার ৭৭০ টাকার রাজস্ব ক্ষতি করেছেন। 

আক্কেলপুর পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বলেন, উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে সম্মানহানি করতে মামলা করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ