আইএস’র নজরে আসতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল তারা

আইএস’র নজরে আসতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৪১ ১২ আগস্ট ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কথিত আইএস এর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ঈদুল আজহার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল নব্য জেএমবি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে এবং নওগাঁতে একটি মন্দিরে বোমা হামলা করে। তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা ছিল হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শরীফে আরেকটি হামলা করা।

গতকাল মঙ্গলবার অপারেশন এলিগ্যান্ট বাইট চালিয়ে সিলেটের মিরাবাজার, টুকের বাজার ও দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবি’র ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

এরা হলো- শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জা (২৪)। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারের পর বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মো. মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের (সিটিটিসি) একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মঙ্গলবার সিলেট থেকে পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নব্য জেএমবি’র ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতাররা নব্য জেএমবি’র সামরিক শাখার সদস্য। তারা কথিত আইএস এর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গেল ঈদুল আজহা এর পূর্বে দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে তারা গত ২৪ জুলাই ঢাকার পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে, ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের মন্দিরে বোমা হামলা করে। 

তিনি আরো জানান, গত ২৩ জুলাই হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শরীফে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে তারা পল্টন ও সাপাহারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম হয়। কিন্তু সিলেটে পুলিশের কড়া নজরদারির কারণে ব্যর্থ হয়।

‘জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা আরো জানায়, নব্য জেএমবি’র শুরা সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান এর নেতৃত্বে তারা সিলেটের শাপলাবাগের একটি বাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলো। তাদের মধ্যে শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান কফি শপে (বারিস্তা) কপি মেকার হিসেবে কাজ করে।

মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান ২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করে। সে ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলো। সে সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষক এবং সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সিলেটের শাপলাবাগের বাসাটি ভাড়া নেয়। 

তিনি আরো জানান, সানাউল ইসলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র। রুবেল আহমেদ ২০১৬ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ব্লু বার্ড সিলেট শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়। সে সিলেটে টুকেরবাজারে সার, বীজ ও কিটনাশকের ব্যবসা করে। আব্দুর রহিম জুয়েল রেন্ট এ কারের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করত। তার গাড়ি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলো। সায়েম মির্জা সিলেটের মদন মোহন কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/এসআই