অ্যান্টার্কটিকায় দেখা যাচ্ছে ‘সবুজ বরফ’!

অ্যান্টার্কটিকায় দেখা যাচ্ছে ‘সবুজ বরফ’!

বিজ্ঞান ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৫৭ ২০ মে ২০২০   আপডেট: ১৯:৫৮ ২০ মে ২০২০

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফের ফাইল ছবি

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের বরফের ফাইল ছবি

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ মানেই একটি সাদা প্রান্তরের প্রতিচ্ছবি। তবে ব্যতিক্রমী দৃশ্য মিলেছে এ মহাদেশে। মহাদেশটির হিমশীতল অংশে ‘সবুজ বরফ’ দেখা যাচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায় বলা হচ্ছে, গরম বাড়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘সবুজ বরফ’ গঠিত হয়েছে। দিনদিন বরফের মাঝে শৈবালের উৎপাদন বাড়ছে। এমনকি, মহাকাশ থেকে সেই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

ব্রিটিশ গবেষক আর্নেস্ট স্কেলটন অনেক আগে অভিযানে অ্যান্টার্কটিকায় শৈবালের উপস্থিতির কথা জানান। তবে এটি পুরোপুরি অজানা ছিল।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও দ্যা ব্রিটিশ অ্যান্টারটিকার দলের জরিপ অ্যান্টার্কটিকার পেনিসোলা উপকূলে শৈবালের পুষ্প সমৃদ্ধ প্রথম মানচিত্র তৈরি করে। এখন সেই মানচিত্র থেকে দ্যা ইউরোপিয়ান স্পেইস এজেন্সি সেনটিনেল ২ স্যাটেলাইট দুই বছর ধরে উপকূল পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহ করছে।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ম্যাট ডেইবি বলেন, আমাদের কাছে এখন অ্যালগামের (শৈবাল) পুষ্প বাড়ার স্থান সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। যখনই ভবিষ্যতে শৈবালে পুষ্প বাড়তে থাকবে, তখনই সেটি দেখতে পাবো।

অ্যান্টার্কটিকায় মোস এবং লাইচেনগুলি প্রভাবশালী আলোক সংশ্লিষ্ট জীব হিসেবে বিবেচিত। তবে নতুন মানচিত্রে এক হাজার ৬৭৯ আলাদা অ্যালগাম পুষ্প পাওয়া গিয়েছে। যা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে।

ডেবিই আরো বলেন, অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে থাকা অ্যালগাম এতোটাই মূল্যবান যা যুক্তরাজ্যের আট লাখ ৭৫ হাজার প্রাইভেটকারের কার্বন শোষণ করে। এটিকে মনে হচ্ছে অনেক। তবে বৈশ্বিক কার্বন শোষণে এটি অপর্যাপ্ত।

তিনি বলেন,  অ্যালগাম বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন গ্রহণ করে। এখন বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণে এটি তেমন মারাত্বক ক্ষতিকর নয়।

অ্যান্টার্কটিকায় শুধুমাত্র সবুজ বরফের আভা নয়, লাল ও কমলা রঙের বরফের আভা খোঁজার পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা। যদিও মহাকাশ থেকে তেমন মানচিত্র প্রদান করা অনেক কষ্টের।

সূত্র-রয়টার্স

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ