অমুসলিম মনীষীদের চোখে রাসূল (সা.) (শেষ পর্ব)

মুহাম্মদ জুনায়েদ হোসেন

প্রকাশিত: ১৭:১৯ ১০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৭:২৮ ১০ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কোনো ব্যক্তি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন ও ইসলামের প্রাথমিক যুগের ব্যাপারে যতই চিন্তা-ভাবনা করবে ইসলামের অমুসলিম মনীষীদের চোখে আমাদের প্রিয়নবী (সা.) এর সাফল্যসমূহের ব্যাপকতায় সে ততই বিস্মিত হবে।

এ জি লিওনার্দ:

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্বকে এ কথা বলেছেন যে, খোদা কোনো সত্তাগত অস্তিত্ব নয় বরং “আল্লাহু” সমস্ত সৃষ্টি জগত এবং গোটা মানব জাতির স্বষ্টা। এ ছিল একটি মতাদর্শ, একটি বিশ্বাস, একটি এমন মহা-বিপ্লব যা দ্বারা এ বিশ্ব প্রথমবারের মতো পরিচিত হয়েছিলো। আর চিরদিন সে ওই এক আল্লাহ দোজাহানের স্রষ্টার ইবাদত করতে থাকবে।

বি স্মীথ:

আল্লাহর ব্যাপারে ইসলামের ধারনা কী, এটা বুঝতে হলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একত্ববাদী আকীদার প্রতি লক্ষ্য করুন আর এতে করে মুসলমানদের পূর্ণ ইতিহাস আপনার সামনে এসে  যাবে। মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন ইবাদত করলে তা শুধুমাত্র আল্লাহর এবং কারো সন্তুষ্টি চাইলে তাও শুধুমাত্র আল্লাহর। সদা-সর্বদা আপন আল্লাহকে স্বরণ কর, সর্বক্ষণ মসজিদে, বাড়ীতে, বাজারে, সমুদ্রে, মরুতে, নীরবে প্রকাশ্যে এবং গোপনে- সর্বক্ষন, সবজায়গায় আপন প্রভূর বড়ত্ব আর মাহাত্ম বর্ণনার শিক্ষা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অনুসারীদের দিয়েছেন। খৃষ্টপূর্ব যুগের বিশিষ্ট গ্রীক ট্রাজেডিকার পোরিপেডিজ বলেছিলেন, ‘আমায় বলে দাও লোকেরা কেমন খোদাকে মানে আমি তাদের সমস্ত ইতিহাস তোমাদের বলে দেবো।’

জন অষ্টিন:

এক বছরের কিছু বেবী সময় হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মদিনার শাসন দন্ড পরিচালনা করেছিলেন যা সমগ্র পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছিল মহা আলোড়ন। 

টর আদ্রো:

আমরা যদি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সুবিচার করি, তাহলে একথা আমাদের ভোলা উচিত নয় যে, আমরা খ্রীষ্টানরা সজ্ঞানতাবে অথবা অবচেতনতাবে স্বীকার করি, বাইবেলের স্বগীয় বাণীতে আমরা যে অদ্বিতীয় ও সুউচ্চ চরিত্রের দর্শন পাই, মুহাম্মাদ (সা.) সেই ধরনের চরিত্র। বিশ্বের সমস্ত জ্ঞানীরা মিশেও মুহাম্মাদ (সা.) এর পেশকৃত একত্ববাদী বিশ্বাসের পূর্ণতার উপর বিন্দু বিসর্গও সংযোজিত করতে পারবে না। একজন নাস্তিকও যখন এ বিশ্বাসের উপর চিন্তা ভাবনা করবে তখন এর ওজন এবং সত্যতা অনুভব না করে থাকতে পারবে না। মুহাম্মাদ (সা.) এর বর্ণনা পদ্ধতির কোনো তুলনা হয় না। মুহাম্মাদ (সা.) পৃথিবীর সেই অল্পসংখ্যক সুখী ব্যক্তিদের একজন, যারা তাদের জীবদ্দশাতেই এক মহান সত্যের প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন করে মহাগৌরবের অধিকারী হয়েছেন। তিনি ছিলেন নগণ্য ও পতিতদের ক্ষমাশীল আশ্রয়দাতা। 

আর ডি সি বোডলে:

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে যুগে ইসলামের প্রচার করছিলেন এ যুগটিকে এমন লাগে যেমন প্রত্যেকটি মানুষ উম্মদ-পাগল। আর উন্মাদের এ রাজ্যে একটি মাত্র প্রজ্ঞাময় লোক মুহাম্মাদ (সা.)।

এ ডার্মিংহাম:

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিক দিয়ে দুনিয়ার একমাত্র পয়গাম্বর যার জীবনটা একটি খোলা বইয়ের মতো। তার জীবনের কোনো একটা দিকও রহস্যাবৃত্ত বা গোপন নয় বরং আলোকিত নূরানী। সুস্থ বুদ্ধি বিহীন মানুষেরাই মুহাম্মাদ (সা.) এর উপর কোনো রকম মানসিক রোগের অপবাদ লাগায়। এখানে তুলনা করা উদ্দেশ্য নয় বরং বাস্তবকে প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য। যে, ওল্ড টেষ্টামেনের নবীরা কতইনা জালালী মেজাজ সম্পন্ন ছিলেন, অন্যদের কথা না হয় বাদই দিলাম নতুন নিয়মে মসীহ (আ.) এর মতো ধৈর্যশীল ও সহিষ্ণু ব্যক্তিকেও আমরা রাগ হতে দেখি। এমন ভাষাও ব্যবহার করতে শুনি যাকে পরিশীলিত বলা যায় না। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বড় চেয়ে বড় কোনো বিরোধীও কী এমন একটা ঘটনা দেখাতে পারবে? যে মুহাম্মাদ (সা.) তার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সেটি তার উপর প্রভাবশালী হয়ে পড়েছে। কোনোরূপ অপরিমার্জিত ভাষা তিনি ব্যবহার করেছেন, এমন ঘটনা কি কেউ বের করতে পারবে? তিনি যুদ্ধ বা শান্তি অবস্থায় কখনো কোনোরূপ শারিরিক বা মানসিক ব্যাধির আক্রমণে অচল হয়েছিলেন এ কথা কোনো বিরোধী কোথাও পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন... অমুসলিম মনীষীদের চোখে প্রিয়নবী (সা.) (২য় পর্ব)

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে