Alexa অভিশংসনের মামলায় ট্রাম্পের বেকসুর খালাস দাবি

অভিশংসনের মামলায় ট্রাম্পের বেকসুর খালাস দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৩২ ২১ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অভিশংসন মামলা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেকসুর খালাস দাবি করেছে তার আইনজীবীরা।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচার শুরু হওয়ার আগে এই দাবি জানালো তার আইনজীবীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসনের অভিযোগ সংবিধানের একটি বিপজ্জনক বিকৃতি। এদিকে বিচার শুরু হওয়ার আগে ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা দাবি করেছে, ট্রাম্প আগামী নির্বাচনে জালিয়াতির জন্য দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। 

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুর একটায় কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে শুরু হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি। তত্ত্বগতভাবে এই অভিশংসন বা বিচারে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন। কিন্তু ট্রাম্প সম্ভবত তা হবেন না কারণ সিনেটে রয়েছে তার দল রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ। তারাই সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ।

দেশটিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ঘুষ গ্রহণ, উচ্চ পর্যায়ের অপরাধ ও অশোভন আচরণের অভিযোগে একজন প্রেসিডেন্ট বা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বা কর্তকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার রীতি রয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দু’টি অভিযোগে অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছে।

প্রথম অভিযোগে মার্কিট প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগটিতে আগামী বছর মার্কিন নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদলীয় প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতি তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লদমায়ার জেলেনস্কির ওপর চাপ প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগ, নিম্নকক্ষে তার বিরুদ্ধে আনা অভিশংসনের অভিযোগ তদন্তে তিনি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে আহ্বান করা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি। 

ডেমোক্রেটদের অভিযোগ, এর মধ্য দিয়ে সিনেটে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প। কোনো অন্যায় করার কথা ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ও তার আইনি টিমের সদস্যরা বলছেন, তার বিরুদ্ধে যে ঠুনকো অভিযোগ আনা হয়েছে তা সংবিধানের মারাত্মক লঙ্ঘন। এক্ষেত্রে তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে স্পেশাল কাউন্সেল রবার্ট মুয়েলারের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন বলে যে অভিযোগ আছে, তার কোনো ভূমিকা নেই।

২০১৯ সালের আগস্টে একজন হুইসেলব্লোয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে এ নিয়ে তদন্ত হয়। পরবর্তীতে শুনানিও হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করার পক্ষে প্রস্তাব পাস হয় প্রতিনিধি পরিষদে। এই মাসে ওই প্রস্তাব সিনেটে পাঠানো হয়েছে। যদি সেখানে ভোটে হেরে যান ট্রাম্প, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হবে। সেক্ষেত্রে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে তেমনটি হওয়ার কথা নয়। কারণ সিনেটে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় তিনি রক্ষা পাবেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল আর দু’জন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে। ১৮৬৮ সালে এ অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট অ্যানড্রু জনসন। আর ১৯৯৯ সালে অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। তবে দু’জনেই রক্ষা পেয়েছেন।

এবার কিভাবে অভিশংসনের বিচার করা হবে তা নির্ধারণ করবেন দুজন ব্যক্তি। তারা হলেন সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিশ ম্যাকলেন এবং ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার। সিনেটে আসন আছে মোট ১০০ টি। এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৭ জন সিনেটর যে পক্ষে অবস্থান নেবেন অভিশংসন প্রস্তাবের ভবিষ্যত তাই হবে। যদি তারা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন তবে ক্ষমতার ইতি ঘটবে ট্রাম্পের।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ