অভিজ্ঞ ও তরুণদের সংমিশ্রণে হবে আওয়ামী লীগের কমিটি

সাক্ষাৎকারে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান

অভিজ্ঞ ও তরুণদের সংমিশ্রণে হবে আওয়ামী লীগের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:১৪ ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুর রহমান। ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান । ২০০৯ ও ২০১৪ সালে এমপি নির্বাচিত হন। ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া গ্রামে ১৯৫৪ সালে আব্দুর রহমানের জন্ম।

আওয়ামী লীগের আসন্ন ২১তম জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশ -এর সঙ্গে কথা বলেছেন আব্দুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জাফর আহমেদ

সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব আসবে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, প্রতিটা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বের কিছু পরিবর্তন হয়, এবারও হবে। এতে অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি তরুণদের সংমিশ্রণ থাকবে। চলমান শুদ্ধি অভিযানের আলোকে স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য, জনপ্রিয়, যোগ্য ও ত্যাগীরা স্থান পাবেন।

দল ও সরকার আলাদা করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি? এমন প্রশ্নে আব্দুর রহমান বলেন,  আসন্ন এ সম্মেলনের মাধ্যমে দল ও সরকারকে আলাদা করার প্রক্রিয়া অনেকখানি এগিয়ে যাবে। দলকে যুগোপযোগী করে সাঁজাবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবেই দল ও সরকার আলাদা করার বিষয়টি খুব জোরেশোরে আলোচনা হচ্ছে। কেননা, একজন মানুষ যদি একাধিক দায়িত্বে থাকেন, তাহলে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেজন্যই যারা দলের পদে থাকবেন তারা সরকারে দায়িত্ব পাবেন না, আর যারা সরকারের কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকবেন তাদের দলীয় পদ দেয়া হবে না—এমন আলোচনা হচ্ছে। 

দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলন ঘটেছে কতটা? এ বিষয়ে আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দৃঢ় নেতৃত্বে দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। সেজন্য তিনি বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। সে বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এটা যেমন সরকারে চলছে, তেমনি দলেও। এরইমধ্যে সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনে তার প্রতিফলন দেখা গেছে। এবারের সম্মেলনে অবশ্যই সেটার প্রতিফলন ঘটবে। শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে, এটা ধারাবাহিকভাবে চলবে।

বিএনপি বারবার বলে আসছে খালেদা জিয়ার জামিন সরকার দিচ্ছে না?  এ ব্যাপারে আব্দুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার দণ্ডিত হওয়া এবং জামিন দেয়া, না দেয়ার বিষয়টি একান্ত আদালতের। এই জায়গায় আওয়ামী লীগ সরকারের কিছুই করার নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকার এই মামলা করেনি। খালেদা জিয়া অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, যেটা প্রমাণিত হয়েছে আদালতে। তাই আদালত তাকে শাস্তি দিয়েছেন। বিএনপি খালেদা জিয়ার তিনবার জামিনের আবেদন করেছে, কিন্তু জামিন হয়নি। জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তাই আদালত থেকে আইনের মাধ্যমে তা সমাধান করতে হবে। এখানে আন্দোলনের নামে জ্বালাও পোড়াও করাটা আমাদের দল বরদাশত করবে না। যদি পরিস্থিতি এমন হয় তাহলে তাদের শক্তহাতে দমন করা হবে।

সম্প্রতি ভারতে সফর বাতিল করা সম্পর্কের কোনো টানাপড়েন কি না? সম্প্রতি ভারতীয় পার্লামেন্টে এনআরসি ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরে আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সম্পাদক বলেন, ভারতের পার্লামেন্টে যে আইন পাস হয়েছে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই। এক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে সম্পর্কে আমাদের কোনো টানাপড়েন নেই। দুই দেশের সম্পর্ক খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান আমরা অতীতেও করে এসেছি, সামনেও করবো।

বিএনপি নেতারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, যা বালাদেশের জনগণের মাধ্যমে স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ২৬ মার্চ বিদেশি পত্রিকাগুলো স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম লেখে। সুতরাং এখানে অন্য কারো নাম আসা বা অস্থিত্ব তুলে ধরা মূলত মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা। এটা একটি মিথ্যা; এর মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছ। এরইমধ্যে নতুন প্রজন্ম জানতে পেরেছে, স্বাধীনতার ঘোষক কে। যারা কোনদিন আওয়ামী লীগকে মেনে নিতে পারে না তারাই বিশ্বাস করবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি কেউ বিশ্বাস করবে না।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হতাশায় ভুগছে, সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তাদের জন্য কোনো বার্তা রয়েছে কি- এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে কোনো হতাশার জায়গা না, রাজনীতি একটা নিরন্তন পথ চলার জায়গা। রাজনৈতিক মিছিলে কর্মীর কর্মকাণ্ড কোথায় যাবে সেটা সময় বলে দিবে। দল যেখানে যে অবস্থায় রাখবে, সেভাবেই কাজ করতে হবে। সবাইকে  দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাজ করতে হবে। রাজনীতি ভোগ বিলাসের জায়গা না। রাজনীতিবিদের দিকে মানুষ তাকিয়ে থাকে। দেশের ১৬ কোটি মানুষের ভাবনা, জীবন-যাত্রা, অর্থনৈতিক -সামাজিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলাটাই হচ্ছে একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএএম