অবৈধ স্থাপনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলমুক্ত করার নির্দেশ

অবৈধ স্থাপনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দখলমুক্ত করার নির্দেশ

চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫ ১১ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৯:৫০ ১১ আগস্ট ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সাগরিকা মোড় থেকে নয়া বাজার পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাতের ওপর বসানো দোকানপাট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

মঙ্গলবার সকালে সাগরিকা মোড় থেকে নয়াবাজার পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং সড়ক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চসিক প্রশাসক হওয়ার আগ থেকে এই সড়কের হালচিত্র আমাকে ব্যথিত করেছে। তাই দায়িত্ব নেয়ার পর পোর্ট কানেকটিং সড়ক কাজ তড়িৎ গতিতে সম্পন্ন করার প্রতিজ্ঞা করেছি। পুরো নগরীর মধ্যে এই সড়কটি অতি গুরুত্বপূর্ণ, অথচ অদৃশ্য কারণে এতদিন যাবত এই কাজ সম্পন্ন হলো না।

তিনি আরো বলেন, আমি রাত-দিন এই সড়কে থাকবো, আমি দেখতে চাই এখানে বাধা কোথায়? যেখানে বাধা-সেখানেই লড়াই। ছাত্র রাজনীতি করে এ পর্যায়ে এসেছি। রাস্তায়-ই আমার রাজনীতি, রাস্তাতেই থাকবো এবং সমাধান আনবো।

সড়কের দুই পাশে অবস্থিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যারা অবৈধভাবে চসিকের ড্রেন দখল করে জনচলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যে চসিক প্রশাসক বলেন, আজকে আপনাদের একজন হয়ে বলে গেলাম, নিজ দায়িত্বে এসব অপসারণ করেন। নয়তো আগামীকাল আমাকে দেখবেন প্রশাসকের ভূমিকায়। এসব অবৈধ স্থাপনা না সরালে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও জরিমানা গুনতে হবে।

এ সময় ব্যবসায়ীরা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রশাসককে।

চসিক প্রশাসক পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনসাধারণ ও পথচারীদের সঙ্গে তাদের সমসাময়িক দুর্ভোগ ও সমস্যার বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন। পোর্ট কানেকটিং সড়কের কোথায় কি পদক্ষেপ নিলে বা কি ধরনের কাজ করলে ভালো হয় সে বিষয়েও অনেকের কাছে পরামর্শ নেন।

তিনি বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে তা আর সহ্য করা হবে না। এখন শুধু কাজ আর কাজ। এই দুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এ সময় উপস্থিত শত শত এলাকাবাসী জড়ো হয়ে প্রশাসক সুজনের এহেন পদক্ষেপের জন্য সাধুবাদ জানান। প্রশাসক ও ঠিকাদার এলাকাবাসীকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন সড়ক উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

ঠিকাদার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারি ও মৌসুমী বৃষ্টির কারণে সড়ক উন্নয়ন কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে এলাকাবাসীসহ সড়ক ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন নতুন প্রশাসক যেভাবে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন সেভাবে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ সময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন সেন, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ, মোরশেদ আলম, মোহাম্মদ বাবুল, আতিকুর রহমান, ফেরদৌস আলমগীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে