Alexa অবৈধ ইটভাটায় সয়লাব

অবৈধ ইটভাটায় সয়লাব

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৯:০৫ ২১ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০৯:০৯ ২১ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ইটভাটা বন্ধে অভিযানের নামে শুরু হয়েছে টম অ্যান্ড জেরি খেলা। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের পরও বন্ধ হচেছ না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় তালিকাভুক্ত ৮১টি ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে ৩৯ টির ইট পোড়ানোর লাইসেন্স আছে। বাকি ৪১ টির লাইসেন্স নেই। এছাড়া এক লাইসেন্সে একাধিক ভাটা পরিচালনা করায় প্রকৃত ইটভাটার সংখ্যা ১১২তে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে দূষণের কবলে পড়েছে পুরো এলাকা। 

আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমিতে এসব ইটভাটা গড়ে ওঠায় হ্রাস পেয়েছে শস্য উৎপাদন। নষ্ট হচ্ছে ক্ষেতের ফসল, বসতবাড়ির ফলজ-বনজ গাছপালা। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। 

ইট তৈরির প্রধান উপকরণ বিপুল পরিমাণ মাটির যোগান দিতে প্রতিবছরই ৫/৬ শ বিঘা ৩ ফসলি জমি জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে। 

উপজেলার চান্দহর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ ইউপির ২০টি ইটভাটার মধ্যে শুধু রিফায়েতপুর মৌজায় রয়েছে ১১ টি ইটভাটা। যার ১০ টি ভাটারই ইট পোড়ানোর লাইসেন্স নেই।

এছাড়া ধল্লা ইউপির ধলেশ্বরী নদীর বুকেও রয়েছে ৩ টি ইটভাটা। সরেজমিনে দেখা গেছে , বলধারা ইউপিতে রয়েছে ৩৫ টি ভাটা। এ ইউপির এবিসি এবং এএবি এক লাইসেন্সের বিপরীতে একাধিক ভাটা পরিচালনা করছেন। 

অপরদিকে, চারিগ্রাম ইউপির চারগাঁও মৌজায় এএইচএম ভাটাটি খাল দখল করে একটি লাইসেন্স দিয়ে দু’টি ভাটা পরিচালনা করছে। 

জামির্ত্তা ইউপির সুদক্ষিরা-জাইল্যা মৌজায় স্কুলের অদূরে আবাসিক এলাকা ঘেঁষে বৈদ্যুতিক লাইনের নিচে ঝুকিপূর্ণভাবে সুপার ব্রিকস নামের ভাটাটি ইট পুড়িয়ে যাচ্ছে। 

সূত্রমতে, আর্থিক সুবিধা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর ভাটাগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। 

২৬ নভেম্বর পরিবেশ দূষণরোধে ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার সমস্ত অবৈধ ইটভাটা ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। 

হাইকোর্টের এ নির্দেশের পর সিংগাইর ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাহেলা রহমত উল্লাহ ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. হামিদুর রহমান ৯ ডিসেম্বর ধল্লা ইউপির আরসিএল, চান্দহর ইউপির মোল্লা ও বলধারা ইপির এমকে ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করেন। 

সেই সঙ্গে মালামাল সরিয়ে নিতে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে মালিক পক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হয়। এর আগে ২ ডিসেম্বর বলধারা ইউপিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মেসার্স খোলাপাড়া ব্রিকসের মালিক মো. রফিকুল ইসলামকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। উচ্ছেদ হওয়া চারটি ভাটার মধ্যে ৩ টি ভাটা চলছে পুরোদমে। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার অতি সন্নিকটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় শতাধিক বৈধ-অবৈধ ইভাটার আগ্রাসনে প্রতিদিনই কমছে কৃষি জমি। 

২১৭.৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ উপজেলার ১১টি ইউপিতে শতাধিক ইটভাটা গড়ে ওঠেছে। ভাটা নির্মাণ ও পরিচালনা আইনকে তোয়াক্কা না করে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা গ্রামবেষ্টিত আবাসিক এলাকায় ৩ ফসলি জমিতে অবাধে নির্মাণ করছেন ভাটাগুলো। 

যা ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ৮ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।  

প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা পোড়ানো হচ্ছে ওইসব ভাটায়। যার বিরুপ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় পরিবেশ, কৃষি ও প্রাণীজগতসহ  রাজধানী ঢাকাতেও। 

পরিবেশবাদীরা মনে  করছেন, অতিদ্রুত এ এলাকার ভাটাগুলো উচ্ছেদ হওয়া জরুরি।
 
সিংগাইর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ভাটা মালিক সমিতির আওতাধীন ৮০ টি ইটভাটা রয়েছে। সরকারি দিবসগুলো পালনে স্থানীয় প্রশাসনকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে থাকি। তবে অবৈধ ভাটা মালিকেরা ভাটা চালানোর ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থে প্রশাসনকে ম্যানেজ করা সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। 

মানিকগঞ্জের পরিবেশ অধিদফতরের ইন্সপেক্টর রুহুল আমীন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে দ্রুত আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হামিদুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। উচ্ছেদ হওয়া ভাটাগুলো চালু হয়ে থাকলে তাদেরকে জেল-জরিমানা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে