অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে বসতি

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে বসতি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:১৮ ৫ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ২২:২২ ৫ এপ্রিল ২০২০

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে বসতি

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ঝুঁকিতে বসতি

মানুষ যখন করোনা আতঙ্কে ঘরবন্দী তখন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যস্ত সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আওয়াল ও তার সহযোগীরা। 

সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে দিন-রাত এই অপকর্ম করেই যাচ্ছেন তারা। গড়ে তুলেছেন বালুর পাহাড়।    

জানা গেছে, বালির স্তূপের নিংড়ানো পানিতে দুর্ভোগে পড়েছে একশ পরিবার। এ কারণে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী তীর রক্ষা প্রকল্পের সিসি ব্লকে দেখা দিয়েছে ধস্। এতে করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও' র নিকট প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখছেন না অভিযুক্তরা।   

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার মেঘাই ঘাট এলাকায় যমুনা নদী থেকে বালি তুলে প্রায় চল্লিশ বিঘা ফসলী জমি দখল করে সেখানে রাখা হচ্ছে। এতে করে ওয়াপদা বাঁধের পাশে উত্তর মুসলিমপাড়া গ্রামের প্রায় একশ পরিবারের ঘরে বালির স্তূপের নিংড়ানো পানি প্রবেশ করছে। রান্না ঘরে পানি প্রবেশ করায় বিকল্প জায়গায় রান্না করছেন অনেকে। 

বাড়ির উঠানে পানিবন্দী বিমল, বিনয় ও গোবিন্দ নাথের পরিবারের লোকজন নিজেরা ঘরের পানি নিষ্কাষণের চেষ্টা করছেন। 

বিমল জানান, জায়গা জিরাত নেই। বাঁধের নিচে কোনমতে ঘর তুলে আছি। কিন্তু একমাস যাবৎ আমাদের তিন ভাইয়ের উঠোনে পানি। গতকাল রাতে শুয়ে আছি। মাঝরাতে বাইরে যাবার জন্যে জেগে দেখি ঘরের মেঝেতে পানি।

পাশের বাড়ির মঞ্জরিবালা নিজের রান্নাঘর দেখিয়ে বলেন, পানি ওঠায় আজ আর রান্না করতে পারিনি। ঘরে পানিবন্দী শহিদুলের স্ত্রী সখিনা বিবি জানান, কিছু বলতে গেলে ওরা কয়, তোরা ইহিনে থাকোস ক্যা?  (তোরা এখানে থাকিস কেন?) দেহোস না  (দেখিস না) আমাগোরে বালু রাইখতে অসুবিধা হচ্ছে!  তাই ভয়ে আর কিছু কই না। একই কথা জানান পানিবন্দী রবীন্দ্রনাথ, জুড়ান, সালাম, শহীদুলেরা। 

এদিকে বালির পানিতে ও ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে নদী তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সিসি ব্লকে অনেক স্থানে ধসে গেছে। এতে করে আসন্ন বর্ষায় ভাঙন পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। 

এ বিষয়ে আওয়াল মেম্বর মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, আমি ইজারাদার। ব্যবসা করতে গেলে এরকম কিছু হয়েই থাকে। তাছাড়া সেচ দিয়ে ওদের বাড়ির পানি বের করার ব্যবস্থা করেছি।

ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এসব বাড়ির কারণে অনেক বালি নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কাজিপুর ইউএনও জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, নির্দেশের পরও যদি আইন না মেনে বালি উত্তোলন করে তাহলে তাদের ইজারা বাতিল করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ