অবাধে চলছে চিংড়ি রেণু আহরণ   

অবাধে চলছে চিংড়ি রেণু আহরণ   

নাছির উদ্দিন, মিরসরাই, চট্টগ্রাম  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০১ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২২:২৩ ২১ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় জোন, সমুদ্র উপকূলীয় ফেনী নদী এবং সাগরের মোহনায় অবাধে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ির রেণু আহরণ। 

রেণু আহরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ধ্বংস হচ্ছে হাজারো প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিষিদ্ধ মশারি ও ঠেলা জাল দিয়ে জেলেরা লাখ লাখ চিংড়ি রেণু আহরণ করে বিক্রি করছে স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে। ব্যাপারীরা সেগুলো দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন চিংড়ি ঘের মালিকদের কাছে। 

ফেনী নদীর মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের মিরসরাই এর সাহেরখালী, ডোমখালী, ইছাখালী, বানচন্দ খাল পর্যন্ত এবং ছোট ফেনী নদীর কাজীর হাট স্লুইচগেট থেকে দক্ষিণে সন্দ্বীপ চ্যানেল, ফেনী নদীর মুহুরী রেগুলেটরের দুই পাশে, চর খোন্দকার, সোনাগাজী সদর ইউপির জেলেপাড়া, সুজাপুর, থাক খোয়াজ লামছি, ছোট স্লুইচগেট, ভাঙ্গাবেড়ী, চর খোয়াজের লামছিসহ বেশ কিছু স্থানে গিয়ে চিংড়ির আহরণ ও মৎস্য প্রজাতির এ ধ্বংসলীলা দেখা যায় প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত। 

সাগরের মোহনায় অবাধে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ির রেণু আহরণ

অথচ প্রজনন মৌসুম থাকায় এ সময়টাতে নদীতে মাছ ধরার প্রতি রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। বিশাল উপকূলীয় এলাকায় প্রতিদিনই লাখ লাখ চিংড়ি পোনা আহরণ করা হচ্ছে। 

এতে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, মিরসরাই ও সোনাগাজী উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক শ’ মানুষ চিংড়ি পোনা আহরণ করছে।  

আকাশ ও সাগর নামের দুই জেলে জানান, চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ করতে দুই মাসের জন্য এ এলাকায় এসেছে। নদীতে মশারির জাল দিয়ে অন্য পোনাসহ চিংড়ির পোনাগুলো আহরণ করা হয়।  

স্থানীয় মহাজনের মাধ্যমে নদী থেকে এ পোনা আহরণ করে প্রতি পিস ২ টাকা ধরে বিক্রি করেন। দৈনিক প্রতিজনে প্রায় ১ হাজার চিংড়ি পোনা আহরণ করেন বলেও জানান তারা। 

স্থানীয়রা জানান, চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করার সময় কোরাল, কাঁকড়া, বাইলা, মলা, ডেলা, চেউয়া, তফসে, বাটা, চাপিলা, কুচিয়া, টেংরা, পোয়া, লইট্টা, ভেটকি, ইলিশ, কাচকিসহ আরো অনেক প্রজাতির পোনা আসে। তারা শুধু চিংড়ি পোনা রেখে বাকিগুলো ফেলে দেয়। 

সাগরের মোহনায় অবাধে চলছে গলদা-বাগদা চিংড়ির রেণু আহরণ

অনেকে অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই অবাধে চলছে এ রেণু সংগ্রহ। 

মিরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, চিংড়ির রেণু পোনা ধ্বংস করা অবৈধ। যদি কেউ এভাবে করে থাকেন, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। জনবল সংকট থাকলেও শীঘ্রই এই বিষয়ে মিরসরাই উপকূল ও মুহুরী নদীর মোহনায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

তবে পোনা আহরণের অধিকাংশ অংশ ফেনী এলাকায় হওয়ায় ফেনী মৎস্য বিভাগের জরুরি পদক্ষেপ বেশি প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। 

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একটি গলদা বা বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ করতে গিয়ে ৪৬৩ প্রজাতি মাছের রেণু পোনা ধ্বংস হয়। এটা সার্বিকভাবে দেশের মৎস্য সম্পদের জন্য বিশাল ক্ষতি। এটা কঠিনভাবে রোধ না করতে পারলে দেশের নদীগুলো ধীরে ধীরে মাছ শূন্য হয়ে যাবে। আর রোধ করা গেলে দেশের মৎস্য সম্পদ বাড়বে দিনকে দিন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে/