Alexa অবহেলায় লস্কর খানবাড়ি মসজিদ

অবহেলায় লস্কর খানবাড়ি মসজিদ

জাহিদুল হক মনির, ঝিনাইগাতী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৮:০৮ ১২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৮:১৩ ১২ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রায় দুই শতাধিক বছরের পুরনো মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীন নিদর্শন শেরপুরের ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া ‘লস্কর খানবাড়ি’ জামে মসজিদ। ১৯ বছর আগে মসজিদটিকে তত্ত্বাবধানে নেয় জাতীয় যাদুঘর ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। তবে ১৫ বছর ধরে মসজিদটির কোনো সংস্কার হচ্ছে না। ফলে পরিচর্যার অভাবে ভঙ্গুর দশা সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় মসজিদ দেখতে আসেন দর্শনার্থীরা। তাই সেটি সংস্কারে দাবি উঠেছে। 

স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন ঐতিহাসিক ‘লস্কর খানবাড়ি’র মসজিদটি ঝিনাইগাতীর হাতিবান্দা ইউপি ঘাগড়া লস্কর গ্রামে অবস্থিত। কালের আবর্তনে মসজিদটির নাম ঘাগড়া লস্কর খান মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মসজিদটি। মসজিদের গায়ে থাকা নিদর্শন অনুসারে ধারণা করা হয়, বক্সার বিদ্রোহীদের নেতা হিরোঙ্গি খাঁর বিদ্রোহের সময় মসজিদটি নির্মিত হয়। আজিমোল্লাহ খান সেটি নির্মাণ করেন।

মসজিদটির দরজার উপর মূল্যবান কষ্টি পাথরে খোদাই করে আরবি ভাষায় হিজরি ১২২৮ বা ইংরেজি ১৮০৮ লেখা রয়েছে। এর গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্পসমৃদ্ধ ও সুদৃশ্য। এক গম্বুজ বিশিষ্ট বর্গাকৃতির (২৭ ফুট বাই ২৭ ফুট) মসজিদটির ভেতর রয়েছে দুটি সুদৃঢ় খিলান। মাঝখানে বড় গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় বারটি মিনার। এর মধ্যে চারকোনায় রয়েছে চারটি। মসজিদের দরজা রয়েছে মাত্র একটি। ভেতরে মেহরাব ও দেয়ালে অঙ্কিত রয়েছে বিভিন্ন কারুকাজের ফুলদানি ও ফুল। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি চার ফুট প্রস্থ, যা চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথা। তৎকালীন খান বাড়ির লোকজনসহ গ্রামের অনেকে ৫৮ শতক জায়গার উপর মসজিদটি ওয়াকফ করেন। এর মধ্যে মসজিদটির মূল ভবন ও চেহান রয়েছে ১৭ শতকের উপর ও ৪১ শতক জমির উপর রয়েছে কবরস্থান।

বাইরে থেকে মসজিদটি বিশাল আকৃতির দেখা গেলেও ভেতরে খুব বেশি বড় নয়। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে দুটি জানালা। মসজিদের ভেতরে ইমাম বাদে তিনটি কাতারে ১২ জন করে ৩৬ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে মসজিদের বাইরের অংশে অর্থাৎ চেহানে আরো প্রায় অর্ধশত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদের আগে একটি সতর্কবাণী লাগানো। মসজিদের মেঝে দেবে যাচ্ছে। এছাড়া দেয়ালে ফাটল ধরেছে। তাছাড়া মসজিদের নিয়োগপ্রাপ্ত খাদেম মো. সাইফুল ইসলাম দুই বছর আগে বদলী হয়ে গেছেন। সেখানে এখন কোনো খাদেম নেই। 

স্থানীয় মামুন মিয়া বলেন, মসজিদটি দেখতে অনেকে দূর থেকে আসেন। তবে সঠিকভাবে দেখতে পারেন না। এখন মসজিদের অবস্থা ভালো না। তাই দ্রুত সংস্কার করে দর্শনার্থীদের উপযোগী করার দাবি জানাই। 

মসজিদের ইমাম মুফতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০০৪ সালের পর থেকে মসজিদটিতে কোনো চুনকাম করা হয়নি। মসজিদের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন অংশে শেওলা ধরে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও আস্তর খসে পড়ছে। মসজিদের চেহানের বিভিন্ন অংশে ফাটলের দেখা দিয়েছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি আফজাল খান বলেন, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তা পরিদর্শন করে মসজিদটি সংস্কারের আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাস এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। পরে আর কারো দেখা মেলেনি। 

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতির ইউএনও রুবেল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ