অবশেষে ১০০০ কোটি টাকা দিচ্ছে গ্রামীণফোন

অবশেষে ১০০০ কোটি টাকা দিচ্ছে গ্রামীণফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৪৪ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২২:০৪ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অবশেষে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এক হাজার কোটি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামীণফোন। আপিল বিভাগের নির্দেশে আগামী রোববার এই টাকা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

শুক্রবার গ্রামীণফোনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণফোন বাংলাদেশের আইনি পদ্ধতিকে সম্মান করে কোর্টের নির্দেশনা মেনে টাকা জমা দিচ্ছে। গ্রামীণফোন আশা করে, এরপর বাধা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে পারবে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, গ্রামীণফোনের সঙ্গে সরকারের কোনো বৈরী সম্পর্ক নেই। সরকার তার পাওনা চেয়েছে। পাওনা পরিশোধে গ্রামীণফোনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণফোনের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে আলোচনার পথ খোলাই থাকছে।

গ্রামীণফোনের টাকা দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খান বলেন, গ্রামীণফোনের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানায় বিটিআরসি। দেশের টেলিকম খাতের উন্নয়নে বিটিআরসি অপারেটরদের নিয়ে এক সঙ্গে কাজ করতে চায়।

এর আগে আপিল বিভাগের রায়ের পর বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, টাকা না দিয়ে গ্রামীণফোনের যাওয়ার আর কোনো জায়গা আছে বলে আমি মনে করি না। সে কারণে আমার যতখানি মনে হয় এবার তারা টাকাটা দিয়ে দেবে। আর টাকা না দিলে আইনানুসারে সোমবারের পর গ্রামীণফোনে প্রশাসক নিয়োগের আয়োজন শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।

গত বৃহস্পতিবার বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির পাওনা এক হাজার কোটি টাকা আগামী সোমবারের মধ্যে দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদুল হোসনসহ আপিল বিভাগের সাতজন বিজ্ঞ বিচারপতি গ্রামীণফোনের আবেদন শোনেন এবং সোমবারের মধ্যে বিটিআরসিকে এক হাজার কোটি টাকা দিতে আদেশ দেন।

আদালত গ্রামীণফোনের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, সোমবারের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে আসুন। এরপর বাকি বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে। দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধে গ্রামীণফোনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন আদালত। ওইদিন আদালত গ্রামীণফোনের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, বাংলাদেশের আদালতকে ছোট ভাববেন না। মনে রাখবেন, এটি দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনার মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দেন। এ আদেশ রিভিউ চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন।

গত বছরের ২ এপ্রিল বিভিন্ন খাতে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা দাবি করে বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে চিঠি দিলে গ্রামীণফোন ওই চিঠির বিষয়ে নিম্ন আদালতে মামলা করে। একই সঙ্গে ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়। পরে ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত গ্রামীণফোনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দিলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন। শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ অক্টোবর আদালত আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে টাকা আদায়ের ওপর দুইমাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন।

পরে গ্রামীণফোনের কাছে ওই টাকা দাবি আদায়ের ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত চেয়ে বিটিআরসি আপিল বিভাগে আবেদন করে। ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত বছর ২৪ নভেম্বর তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা দেয়ার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এ আবেদনের রিভিউ চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস