অবশেষে সেই কিশোরীর বিয়ের দাবি মেনে নিলেন ছেলের বাবা  

অবশেষে সেই কিশোরীর বিয়ের দাবি মেনে নিলেন ছেলের বাবা  

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:২৭ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধাড়ির ঝাড় মরাখানা গ্রামের সম্ভ্রমহারা সেই কিশোরী অনশন করে তার বিয়ের দাবি বাস্তবায়ন করেই ছাড়লেন।

শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউপির ভাঙ্গামোড় গ্রামের চা ব্যবসায়ী এহছান আলীর বাড়িতে অনশন চালিয়ে ওই কিশোরী যুবক সোহেল রানা মাসুদকে বিয়ে করেছেন। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে।

শুক্রবার রাতে সোহেল রানা মাসুদের বাবা এহছান আলী এছানসহ তার পরিবার ও কিশোরীর বাবা ও তার পরিবার সমঝোতায় পৌঁছায়। পরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়েতে ১ লাখ ৭০ হাজার দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর রাতেই ছেলে বর সেজে কনের বাড়িতে থেকে তাকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন।

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধাড়ির ঝাড় মরাখানা এলাকার এক কিশোরীর অসহায় বাবা জীবন বাঁচানোর তাগিদে বাড়ি-ঘর ফেলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চলে আসেন রাজশাহীর রেলপুকুর মাহেন্দ্রা বাজারের রহমান জুট মিলে। এখানে তিনি শুরু করেন সাপ্তাহিক মজুরিতে শ্রমিকের কাজ।

তার স্ত্রী,বড় মেয়ে ও ছোট মেয়ে কিশোরী মিলে পরিবারের চার সদস্য মিলেই রহমান জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করেই জীবন চালান তিনি। জুট মিলে কাজ করার সময় ওই মিলের সোহেলা রানা মাসুদ নামে এক শ্রমিক ওই কিশোরীর উপর কুনজর পড়ে। ওই শ্রমিকের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউপির ভাঙ্গামোড় গ্রামে। সে ওই গ্রামের এহছান আলীর ছেলে।

বিভিন্ন সময় সোহেলা রানা মাসুদ কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে কিশোরী রাজী না হওয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখাতে থাকে সোহেল রানা মাসুদ। এতেও কিশোরী রাজি হয়নি। এরমধ্যে গত ৩ ফেব্রুয়ারি কিশোরী শারীরিক অসুস্থতার কারণে জুট মিলে না গিয়ে বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছিল। 

এ খবর সোহেল রানা মাসুদ জানতে পেরে কিশোরীর বাসার আশপাশে ওঁৎ পেতে থাকে। সন্ধ্যায় কিশোরী বাথরুমে গেলে ওঁৎপেতে থাকা সোহেল রানা মাসুদ বাথরুমের দরজা বন্ধ করে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সোহেল রানাা মাসুদকে আটক করে। এ সময় সোহেল রানা মাসুদ কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে উপস্থিত লোকজনের সামনে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিয়ে পড়াতে বলে। তার কথামতো বিয়ে পড়ানো হয়।

পরে সোহেল রানা মাসুদ তার কর্মস্থল রহমান জুট মিলের পাশের একটি কক্ষে কিশোরীকে নিয়ে রাতযাপন করেন। পরদিন সকালে সোহেল রানা মাসুদ কিশোরীর জন্য স্বর্ণের নাক ফুল কিনে আনার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে পালিয়ে তার বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউপির ভাঙ্গামোড় গ্রামে আসে।

পরে কিশোরীর বাবা তার মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে রাজশাহীর জুট মিলের নিজের কাজ বন্ধ করে সোহেল রানা মাসুদের বাড়িতে আসে। কিশোরীর বাবা সোহেল রানা মাসুদের পরিবারকে সব ঘটনা খুলে বলেন। কিন্তু মাসুদের পরিবার তার কথার গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো তাকে তাড়িয়ে দেয়।

পরে শুক্রবার সোহেল রানা মাসুদের বাড়িতে দিনব্যাপী বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে ওই কিশোরী।

কিশোরী বলেন, সোহেল রানা মাসুদ আমাকে স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেছে। সে আমাকে স্বীকৃতি দেয়ায় আমি স্বামীকে পেয়ে আজ আমি আনন্দিত। আমার জীবন সংসার সুখের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।

সোহেল রানা মাসুদের বাবা এহছান আলী ওরফে এছান বলেন, আমার ছেলে সোহেল রানা তার দোষের কথা স্বীকার করায় আমি মেয়ে-ছেলের বিয়েতে রাজি হয়েছি। বিয়ে হয়েছি। ওরা এখন সুখে থাকুক এ আমার কামনা।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়ের দাবিকে সোহেল রানা মাসুদ ও তার পরিবার স্ত্রীর মর্যাদা দেয়ায় আমি খুশি হয়েছি। এখন মেয়ে জামাইয়ের সুখের জন্য আমি অভিভাবক হিসেবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ