অবশেষে অধরার দেখা মিলল ডাবলিনে

অবশেষে অধরার দেখা মিলল ডাবলিনে

এস আই রাসেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:৩৯ ১৮ মে ২০১৯   আপডেট: ১৭:৫২ ১৮ মে ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতল বাংলাদেশ। অবশেষে অধরার দেখা মিলল ডাবলিনে। বৃষ্টি বাধায় দৈর্ঘ কমে আসা ম্যাচে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ৫ উইকেটের জয় পেল টাইগাররা ।ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়া ২১০ রান চেজ করে লাকি সেভেন ফাইনালে শিরোপা ঘরে তুললো বাংলাদেশ।

শুক্রবার ডাবলিনে টস জিতে উইন্ডিজকে ব্যাটে পাঠায় টাইগার দলপতি। দুই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান শাই হোপ ও সুনিল আম্ব্রিস তাণ্ডব আর বৃষ্টি বাধায় ১৫২ রানের সংগ্রহ গড়ে ক্যারিবীয়ানরা। জবাবে ৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। শিরোপা বোধহয় তাদের ব্রত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মাত্রে ৪.৫ ওভারে অর্ধশত রান ছুঁয়ে ফেলেন টাইগাররা। এর কিছুক্ষণ পরই দেখা দেয় ভাঙন। শ্যানন গ্যাব্রিয়লের বলে হোল্ডারের হাতে ক্যাঁচ তুলে দিয়ে শিরোপার দায় এড়ান তামিম ইকবাল। ফেরার আগে ১৩ বলে ১৮ রানের এক ইনিংস উপহার দেয় দলকে। দলে নেই ৩ নম্বর পজিশনে খেলা সাকিব আল হাসান। তার জায়গা পূরণের জন্য টাইগার অধিনায়ক পাঠান সাব্বির রহমানকে।

কিন্তু সাব্বির পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে মাত্র ০ রানে সেই গেব্রিয়েলের বলেই এলবি আউট হয়ে মুখ উঁচু করে শিবিরে ফিরে যান। সৌম্যর সঙ্গে দলের হাল ধরেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম। আজ জ্বলে উঠেছিল সৌম্য সরকার। তুলে নিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের ৯ তম অর্ধশত। দুই উইকেট চলে গেলেও রানের জায়গায় ঠিকই ছিল টাইগাররা। মুশফিককে সাথে নিয়ে দলীয় শতক পার করেন সৌম্য সরকার।

কিন্তু সুখ সইলো না সরকারের কপালে। রেইমন রেফারের বলে ৬৬ রানে বদলী নামা কটরেলের হাতে ক্যাঁচ তুলে দিয়ে ঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। সৌম্যর পরপর তারই পথ ধরলের মুশফিক। সাব্বিরের মতো এলবিতে ঘরে ফিরতে হলো এই ব্যাটসম্যানকে। তবে তা রেইমন রেফারের বলেই। ঘরের ফেরার আগে ২২ বলে ৩৬ রানের ইংনিস খেলেন তিনি। এবার ফেরেন মিথুন তবে শিকারি ফেবিয়ান এলেন। এলবির ফাঁদে ফেলে ১৭ রানে মিথুনকে ঘরে ফেরান এই ক্যারিবীয়ান।

মাহমুদউল্লাহ-মোসাদ্দেকে শিরোপার খরা কাটাল বাংলাদেশের। ২৪ বলে ৫২ রানের অপরাজিত এক অসাধারন ইংনিস খেললেন মোসাদ্দেক।যার জন্য এই জয়। মোসাদ্দেককে সাপোর্ট দিয়েছেন অপরাজিত মাহমুদউল্লাহ। যিনি ২১ বলে ১৯ রান করে দলের অন্য পাশের হাল ধরে ছিলেন। অবশেষে ৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় নিয়ে আয়ারল্যান্ড ছাড়বে টাইগাররা। আর ট্রফি নিয়ে যাবে বিশ্বকাপে। যা তাদের মনোবল আরো বাড়িয়ে দিবে।

প্রথমে উড়ন্ত শুরু করে দুই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান শাই হোপ ও সুনিল আম্ব্রিস।  দুইজনই নিজের নামের সঙ্গে যুক্ত করেন অর্ধশত রান। হঠাৎ করে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টিতে লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকে। আর এতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে নেমে এসেছে ২৪ ওভারে। 

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দুর্দান্ত ব্যাট করছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দেদারসে রান তুলেছে তারা। ২০ ওভার শেষে উইন্ডিজের রান সংগ্রহ ছিল ১২৫। ২১তম ওভারের ১ম বলে মেহেদী হাসান মিরাজের ডেলিভারিতে ছক্কা হাঁকান শাই হোপ। তাতে ২১.১ ওভারে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৩১ রান, কোনো উইকেট না হারিয়ে। এরপরই বৃষ্টি নামলে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। শাই হোপ ৬৮ ও সুনিল আমব্রিস ৫৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

খেলা মাঠে গড়ালে উইন্ডিজের সামনে থাকে ৩ ওভার ৫ বল। বাকী ওভারেই  উন্ডিজের সংগ্রহ ২১ রান। শেষ ওভারে মিরাজের বলে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাঁচ দিয়ে ফেরেন শাই হোপ। যখন তার রান ৬৪ বলে ৭৪। এরপর ব্রাভো ৩ বলে ৩ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে খেলা শেষ করেন। এতে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫২ রান। অপর পাশে সুনিল আম্ব্রিস ৬৯ রানে অপরাজিত ছিল।

এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলিয়ে এর আগে যে ৬টি ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ, প্রতিবারই মাঠ ছাড়তে হয়েছে হার নিয়ে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে এটা বাংলাদেশের সপ্তম ফাইনাল। মানে লাকি ফাইনাল। আর এই সপ্তম ফাইনালকেই ‘লাকি ফাইনালে’ পরিণত করল মাশরাফী বাহিনী। অপরদিকে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে কোন ম্যাচই জিততে পারেনি উইন্ডিজ দল।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস/আরএ