Alexa অপূর্ব সুন্দর এই পাখি বসলে বাদামি, উড়লে নীল 

অপূর্ব সুন্দর এই পাখি বসলে বাদামি, উড়লে নীল 

সাদিকা আক্তার  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৫৭ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৪:৩৫ ৮ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মাথার উপরের অংশ নীল। আবার শরীরের নিচের দিকটা নীল। এমনই এক পাখি নীলকণ্ঠ। চমৎকার এই পাখি বসে থাকলে গায়ের রং এক রকম, উড়লে অন্য রকম। কখনো ধূসর আবার কখনো হালকা সবুজ ও নীলের মিশেল দেখা যায়। প্রকৃতির এক অপূর্ব নিদর্শন এই পাখি। ডানা মেললে তার সৌন্দর্য যেন উপচে পড়ছে।

নীলকণ্ঠ ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করে। এক এলাকায় এক বা দুই জোড়ার বেশি থাকা তাদের মানা। আবার একে অন্যের এলাকায় পারতপক্ষে যায় না তারা। চাহনিতে সব সময় তাদের সতর্কতা ও ভয় ভয় ভাব। 

নীলকণ্ঠের সৌন্দর্যনীলকণ্ঠ পাখিকে ইংরেজিতে ইন্ডিয়ান রোলার বলা হয়। ২৫ সেমি. থেকে ৩৫ সেমি. লেজ সমেত। ওজন ৭০ গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম হয়। গায়ে রঙের ছড়াছড়ি, তার মধ্যে নীল রংই বেশি। দেখতেও চমৎকার নীলকণ্ঠ। কীট পতঙ্গ খেয়ে ফসলের উপকারও করে এই পাখি। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ প্রজাতির নীলকন্ঠ রয়েছে। সৌন্দর্য্য বিবেচনায় ইউরোপীয় নীলকন্ঠ সেরা। 

আমাদের দেশে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বেশি দেখা যায়। ভারতের আসাম ও মণিপুর এলাকায় এদের বিচারণ রয়েছে। এছাড়া নেপাল, ভুটান, ইরান ও আফগানিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলে নীলকন্ঠ পাখি রয়েছে।

এক জোড়া নীলকণ্ঠনীলকণ্ঠের বক্ষের রং বাদামি। শরীরের চেয়ে মাথা একটু বড় এবং ঘাড় খাটো। চোখ ও ঠোঁট কালো। ডানার উপরিভাগ গাঢ় নীল। ডানার প্রান্তভাগ নীলচে সবুজ। গলার নীচ থেকে বুক এবং ঘাড় বরাবর সাদাটে রেখা রয়েছে। লেজও অপেক্ষাকৃত বড়। লেজের প্রান্তভাগ নীলচে। পায়ে তীক্ষ্ণ শক্ত বাঁকানো নখ আছে।

এই পাখি বৈদ্যুতিক তার, খুঁটি, দালানের কার্নিশে বসে শিকারের ওপর নজর রাখে এবং সুযোগ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নীলকণ্ঠ কীটপতঙ্গ, গিরগিটি, টিকটিকি খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। তবে কখনো কখনো বড় ফুলের মধুও খেয়ে থাকে। 

সব রঙের মিশেল এই পাখির শরীরেক্র্যাক ক্র্যাক শব্দ করে পুরুষ নীলকণ্ঠ আকাশের দিকে উড়ে আবার ডানা গুটিয়ে মরার মত নীচে পড়ে। তবে এদের মধ্যে স্ত্রীর প্রতি মায়া মমতা বেশি। শিকার ধরে স্ত্রী পাখিকে খাইয়ে দেয়। 

পাহাড়, টিলা এবং গাছের গর্তে সামান্য খড়কুটো দিয়ে বাসা তৈরি করে তারা। স্ত্রী পাখি ৩ থেকে ৪টি ডিম দেয়। বাচ্চা ফোটাতে ২৪ থেকে ২৮ দিনের মত সময় লাগে। এভাবেই বছরে দুই বার বাচ্চা ফোটায় তারা। বাচ্চা হওয়ার সময় পুরুষ পাখিরা আনন্দে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পাখা ঝাঁপটায় এবং নাচানাচি করে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস