Alexa অপূর্ণতায় ভুগছে গল্লামারী স্মৃতিসৌধ

অপূর্ণতায় ভুগছে গল্লামারী স্মৃতিসৌধ

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৫ ৭ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অর্থাভাবে এক দশকেও পূর্ণতা পায়নি খুলনা মহানগরী সংলগ্ন গল্লামারী বধ্যভূমিতে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি। দুই কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্মৃতিসৌধটি ২০১১ সালে উদ্বোধন করা হলেও মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে প্রায় নয় কোটি টাকা প্রয়োজন।

কিন্তু স্থানীয় সরকার বা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় থমকে আছে নির্মাণ কাজ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ খুলনার মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন মহল।

স্বাধীনতা যুদ্ধে অকাতরে জীবন উৎসর্গ করা সব শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ও শ্রদ্ধা জানাতে দশ বছর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গল্লামারীতে নির্মিত হয় স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধের মূল স্তম্ভ। কিন্তু অর্থ সংকটে আজো নকশা অনুযায়ী সৌধের পূর্ণতা পায়নি। সীমানা প্রাচীরের অভাবে অবাঞ্ছিত লোকজনের পদচারণা ও অবাধে গরু-ছাগল বিচরণে নষ্ট হচ্ছে স্মৃতিসৌধের পবিত্রতা। নেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় প্রবেশ পথের কাঁচা সড়কটি।

তবে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ বলছে, শিগগিরিই স্মৃতিসৌধটির পূর্ণতা দেয়া হবে।  

জানা গেছে, ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে খুলনায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহুল গল্লামারীতে স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ নির্মাণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে খুলনা জেলা পরিষদ। সৌধটি নির্মাণে ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১১ কোটি টাকা। প্রকল্পে রয়েছে মূল স্তম্ভ নির্মাণ, স্বাধীনতা সৌধ অ্যাপ্রোচ রাস্তা এবং পার্কিং ইয়াড, সীমানা প্রাচীরসহ ফটক ও গার্ড/ওয়েটিং রুম ও রেস্টুরেন্ট এবং ম্যুরাল দিয়ে গেট নির্মাণ, বৃক্ষ রোপণ ও দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান তৈরি, চত্বরে পানির ফোয়ারা, বৈদ্যুতিকরণ ইত্যাদি। এরমধ্যে মূল স্তম্ভ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। 

সূত্রটি আরো জানায়, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর মূল স্তম্ভ নির্মাণে দুই কোটি বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অর্থ বরাদ্দের পর স্তম্ভ নির্মাণে দুই দফা দরপত্রের আহ্বান করে জেলা পরিষদ। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৩ জুন আহ্বানকৃত দরপত্রের প্রেক্ষিতে কাজটি পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজাদ-ইলোরা জেভি। যার ওয়ার্ক অর্ডার হয় ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর এবং মূল স্তম্ভ নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে।
 
এদিকে, ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর মাসে সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও তৎকালীন ডিসিসহ খুলনার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মেয়র সৌধের মাস্টারপ্লান অনুযায়ী অন্যান্য কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। এরপর ২০১১ সালের ১০ মার্চ নির্মিত ওই মূল স্তম্ভ পরিদর্শন করেন স্মৃতিসৌধের স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমন। পরিদর্শন শেষে তিনিও স্মৃতিসৌধটিকে পূর্ণতা দিতে মূল নকশা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ ও মূল নকশা অনুযায়ী স্মৃতিসৌধের পূর্ণতা দিতে ২০১১ সালের মার্চে স্থানীয় সরকার বিভাগে বাকি নয় কোটি টাকা বরাদ্দ পেতে পত্র প্রেরণ করে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদ।

তবে স্থানীয় সরকার বিভাগে বাকি অর্থ প্রদান না করে ওই বছরের এপ্রিল মাসে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অর্থ প্রদানে সুপারিশ ও নির্দেশনা দেয়। কিন্তু আজ অবধি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই অর্থ বরাদ্দ করেনি। ফলে সৌধটির পূর্ণতা না পেয়ে বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাস্টার প্লান অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় বিশেষ করে সীমানা প্রাচীর না থাকায় চত্বরে অবাঞ্ছিত/অনাকাঙ্খিত লোকজনের পদচারণায় সৌধের পবিত্র নষ্ট হচ্ছে। অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। 

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের খুলনা জেলা ইউনিট কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান বলেন, গল্লামারী স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সড়কটি এখনো কাঁচা। স্মৃতিসৌধ এলাকায় অবাধে গরু-ছাগল চরে বেড়ায়। এর সম্মান ও আবেদন রক্ষায় এটিকে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করা প্রয়োজন।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পূর্ণতা দিতে পারলে এটি হবে দৃষ্টিনন্দন স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ। মানুষ এখানে স্বাচ্ছন্দে শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। পাশাপাশি সৃষ্টি হবে মনোমুগ্ধকর বিনোদন ক্ষেত্র। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্মিলনীসহ নানা কর্মসূচি পালন সুযোগ তৈরি হবে।

প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার পর ১৯৯৫ সালে তৎকালীন ডিসি কাজী রিয়াজুল হক ও এসপি আওলাদ হোসেনের উদ্যোগে গল্লামারীর বধ্যভূমির এ স্থানে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। ১৯৯৫ সালের ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনাকারী কাজী রিয়াজুল হক বিজয় মঞ্চের উদ্বোধন করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম