ওর গেঞ্জিতে লেখা ছিল মায়ের মোবাইল নম্বর 

ওর গেঞ্জিতে লেখা ছিল মায়ের মোবাইল নম্বর 

মাদারীপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২১ ১০ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৩ ১০ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুর থেকে অপহৃত হয় সাড়ে তিন বছরের শিশু আবদুল্লাহ। শিশুর পরনের গেঞ্জিতে লেখা ছিল তার মায়ের মোবাইল নম্বর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত শিশুটি কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে কাঁদতে থাকে। এ সময় গেঞ্জিতে লেখা ওর মায়ের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত হয় শিশুটি অপহরণের শিকার হয়েছে। 

অপহরণের দুই দিন পর মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরি ঘাট থেকে গ্রীস প্রবাসীর অপহৃত শিশু আবদুল্লাহকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, গাজীপুরের গাছার মধ্যপাড়া গ্রামে গ্রীস প্রবাসী আ. কাদেরের স্ত্রী সাজেদা আক্তার তার সাড়ে তিন বছরের এক মাত্র শিশু ছেলে আবদুল্লাহকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। মঙ্গলবার তার বাড়িতে এক নারী বাসা ভাড়া নেয়। বাসা ভাড়া নিয়েই বিভিন্ন জিনিসপত্র খাইয়ে ও আন্তরিক ব্যবহারে সাজেদার মন কেড়ে নেয় ওই নারী। 

বুধবার বেলা ১১ টার দিকে ওই নারী শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে বাজারে যেতে চাইলে মা আর না করে না। এক ঘণ্টার মধ্যেও ওই নারী শিশু সন্তানকে নিয়ে ফিরে না আসলে মা সাজেদা তাকে ফোন দেয়। সে বলে আমি ১০/১৫ মিনিট পর আসছি। এরপরও সে না ফেরায় আবারো আধা ঘণ্টা পর ফোন দিলে সে একই কথা বলে। কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারী সাজেদার কাছে সন্তানকে পেতে হলে সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। 

এরপর মঙ্গলবার রাতেই সাজেদা গাজীপুরের গাছা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও র‌্যাব মাঠে নামে। বারবার স্থান পরিবর্তন করে অপহরণকারীরা। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাত শিশুটি কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে কাঁদতে থাকে। পরে ওর পরনের গেঞ্জিতে লেখা ওর মায়ের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত হয় শিশুটি অপহরণের শিকার হয়েছে। 

শুক্রবার সকালে শিবচর থানা পুলিশ শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। 

শিশুটিকে নিতে আসা পারভীন আক্তার বলেন, সাজেদার বাড়িতে গিয়ে একদিনেই ওই নারী ওদের এত কিছু খাওয়ায় ও আবদুল্লাহকে অনেক আদর করে মন জয় করে নেয়। পরেরদিন বাজারে নেয়ার কথা বলে আবদুল্লাহকে অপহরণ করে ও সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। এ ঘটনায় গাছা থানায় অভিযোগ করি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শিবচর থানা থেকে পুলিশ ফোন দেয় ওকে পাওয়া গেছে।  

গাছা থানার এসআই উদয়ন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, বাড়ি ভাড়া নিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা বারবার জায়গা পাল্টায়। পরে একপর্যায়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে রেখে যায়। 

শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওর গেঞ্জিতে লেখা নম্বর দেখে ফোন দিয়ে জানতে পারি ও অপহৃত ছিল। ওর পরিবারের সদস্যরা এসেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে