Alexa অনিয়মের পাহাড়ে ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক

অনিয়মের পাহাড়ে ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী, দিনাজপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৫৯ ২০ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২০:৫৯ ২০ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম, সংস্থার নাম করে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনিয়ম ও স্বৈরাচারী আচরণের কারণে কয়েকটি ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলারের বিরুদ্ধে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সুব্রত মজুমদার ডলার। দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েই স্বৈরাচারী আচরণ ও সংস্থার নাম করে আর্থিকভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে কলুষিত করেন। সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের ক্ষমতাবলে গত কয়েক বছরে ১২টি ক্লাবের এফিলিয়েশন বাতিল করেন, যা গঠনতন্ত্র ও নিয়ম বহির্ভূত বলে অভিযোগে জানানো হয়।
 
দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যে ক্লাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করে আসছিল সেগুলোকে কোনো কারণ ছাড়াই বা নিয়ম না মেনেই নিজের ইচ্ছেমত এফিলিয়েশন বাতিল করেন। তার মধ্যে দিনাজপুরের সুপরিচিত সানফ্লাওয়ার ক্লাব, শতদল ক্লাব, চাঁদেরহাট সমিতি, নবীন সংঘ, ফ্রেন্ডস ক্লাব, সবুজ সংঘ, কালিতলা ক্রিকেট ক্লাব, মুন্সিপাড়া ভলিবল ক্লাবসহ মোট ১২টি ক্লাবের এফিলিয়েশন বাতিল করা হয়, যা গঠনতন্ত্র ও সংস্থার নিয়মবহির্ভূতভাবে করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুব্রত মজুমদার ডলার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়ে শুধু এসব ক্লাবের এফিলিয়েশন বাতিলই করেননি বরং নতুন নতুন অস্তিত্বহীন অনেক ক্লাব ও নিজের ভোট বৃদ্ধির জন্য স্ত্রী, ভগ্নিপতি, ভাগনি ও ভাইকেও সংস্থার ভোটার বানিয়েছেন। এরমধ্যে ১২টি বাস্কেটবল ক্লাব তৈরি দেখিয়ে এফিলিয়েশন দিয়ে ভোটার বানিয়েছেন। যাদের দিনাজপুরে কোনো অস্তিত্ব নেই। এছাড়াও হ্যান্ডবল ১৬টি, ভলিবল ১৬টি, খো খো ক্লাব ১২টির এফিলিয়েশন দিয়ে নিজের ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন।

শুধু তাই নয়, এই সাধারণ সম্পাদক নিজের ক্ষমতাবলে এবং স্বেচ্ছাচারিতার নামে বেনামে অস্তিত্বহীন শতাধিক ক্লাবকে এফিলিয়েশন দিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আর্থিকভাবেও সুবিধা নিয়েছেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, এর আগে বিসিবির মনোনীত ক্রিকেট কোচ ডিএসএর নির্বাহী সদস্য আবু সামাদ মিঠুর বিরুদ্ধে নারী ক্রিকেটারকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠে। কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ওই কোচের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিসিবিকে ভুল তথ্য দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে বিসিবির তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে কোচ আবু সামাদ মিঠুকে প্রমাণ সাপেক্ষে কোচ থেকে অব্যাহতি দেয়।

সুব্রত মজুমদার ডলারের বিরুদ্ধে যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তা ক্ষতিয়ে দেখছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটি দল। আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ গেমস দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ১২টি ইভেন্টস এ প্রায় ১১ লাখ টাকা প্রদান করে। জেলায় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতার নামে ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, ১৩টি উপজেলায় বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা দেখিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা, ১৩ উপজেলায় ব্যাটমিন্টন খেলা দেখিয়ে ৭৭ হাজার টাকা, বক্সিং, ভারোত্তোলন, শরীর চর্চা, কাবাডি, হ্যান্ডবল, হকি খেলা দেখিয়ে কয়েক লাখ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় জেলা পরিষদ, স্থানীয় এমপি ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে বিভিন্ন ক্লাব ও ক্লাব সংস্কারের নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়। শুধু আর্থিক বরাদ্দই নয় বরং কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মত বাজেটও তিনি পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ক্রীড়া পরিষদ, যুবক্রীড়া মন্ত্রণালয় বা ডিসি কর্তৃক এসব বিষয়ে অডিট করলেই আসল সত্য ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়গুলোর শতভাগ সত্যতা পাওয়া যাবে।

দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলারের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জানুয়ারি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাহমুদাকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মন্ত্রণালয় নিয়োগ করেছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলারের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাহমুদা। তবে এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মাহমুদা বর্তমানে কথা বলতে রাজি হননি।

দিনাজপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সানফ্লাওয়ার ক্লাবের সভাপতি গোলাম নবী দুলাল অভিযোগ করে বলেন, জেলা ক্রীড়া সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করেছি তার সত্যতা আমাদের কাছে আছে। এ বিষয়ে তদন্ত এরমধ্যেই শুরু হয়েছে। আমরা এরপর আইনি প্রক্রিয়ায় যাবো।

অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মজুমদার ডলার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করেছে সেগুলো সবই মিথ্যা ও বানোয়াট। যারা আমার সঙ্গে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন তারাই এসব অভিযোগ করেছে। তদন্ত চলছে। এরমধ্যে এসব অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। বাকিটা তদন্ত শেষ হলেই সবাই জানতে পারবে।

দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও ডিসি মো. মাহমুদুল আলম বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় সাধারণ সম্পাদকের নামে স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অনিয়মের কথা উঠে এসেছে। আমরা ক্রীড়া সংস্থাকে চাঙ্গা করতে যোগ্য লোক দিয়ে পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা করছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জেলা ক্রীড়া সংস্থা চাঙ্গা হবে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা এসেছিলেন। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম