Alexa অনিশ্চয়তায় সুয়ালকের মিনি হ্যাচারি

অনিশ্চয়তায় সুয়ালকের মিনি হ্যাচারি

কৌশিক দাশ, বান্দরবান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩০ ১৯ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বান্দরবান সদরের সুয়ালকে মিনি মৎস্য হ্যাচারি দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। হ্যাচারি থেকে পোনা না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৎস্য চাষিরা।

স্থায়ী প্রকল্প এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বান্দরবানের সুয়ালকে সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মিনি মৎস্য হ্যাচারির।

২০১৮ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই হ্যাচারিতে সরকারিভাবে পোনার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে প্রকল্পের কর্মচারীদেরও।

 

হ্যাচারির কর্মচারী ইতি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, কিছুদিন আগে শেষ হওয়া প্রকল্পে আমরা ভালোভাবে কাজ করেছি। প্রচুর পোনা উৎপাদন করে হ্যাচারি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও সরবরাহ করতাম। কিন্তু নতুন প্রকল্প না পাওয়ায় হ্যাচারির সব কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আরেক কর্মচারী মন্টু মারমা জানান, আমরা শিগগিরই নতুন প্রকল্প চালুর দাবি জানাচ্ছি। এতে দেশে মাছের উৎপাদন বাড়বে। আমরাও স্বভাবিক জীবনযাপন করতে পারবো।

উপজেলা মৎস্য কর্মকতার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ একর জমির উপর নির্মিত মিনি মৎস্য হ্যাচারিটি চালু হয় ২০১০ সালের ২৫ জুন। ন্যায্য দামে মাছের পোনা সরবরাহের লক্ষ্যে এখানে খনন করা হয় সাতটি পুকুর, নির্মাণ করা হয় চারটি হেচিং জার, দুটি ট্যাংক, একটি ওভারশেড ট্যাংক, একটি ডিপ টিউবওয়েল, পরীক্ষাগার। তবে সরকারিভাবে প্রকল্প না আসায় হ্যাচারির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। এ কারণে বিপাকে পড়েছে হ্যাচারির কয়েকশ শ্রমিক, স্থানীয় মাছ চাষি ও ব্যবসায়ীরা। অনেকেই মাছ চাষ ছেড়ে খুঁজছে নতুন কর্মসংস্থান।

মাছ চাষি আবদুল জলিল বলেন, মিনি হ্যাচারির কার্যক্রম দেখে আমি কয়েকটি পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। কিন্তু হ্যাচারির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় আমরা পোনা পাচ্ছি না। বেশি দামে চট্টগ্রাম, দোহাজারী, পটিয়া, চকরিয়া থেকে পোনা আনতে হচ্ছে। এতে আমাদের লাভ কম হচ্ছে।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, মিনি হ্যাচারিতে প্রকল্প চালু করার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছি। প্রকল্প চালু হলে আবারো মাছ চাষের সম্প্রসারণ হবে।

তিনি আরো বলেন, মিনি মৎস্য হ্যাচারির কার্যক্রম রাজস্ব খাতের আওতায় চললে এখানকার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পর্যাপ্ত বেতনসহ সব সুবিধা দেয়া যাবে। রেনু ও পোনা উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর