Alexa অনাবাদি ৪২ হাজার হেক্টর জমি

অনাবাদি ৪২ হাজার হেক্টর জমি

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১১:২৬ ১৬ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১১:৩১ ১৬ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চলতি মৌসুমে নোয়াখালীর নয়টি উপজেলায় ইরি-বোরো ধান চাষ শুরু হয়েছে। তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা মাঠে ধান চাষের কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। ইরি ও বোরো চাষের কাজে বয়স্কদের সহযোগীতায় মাঠে নেমেছে পরিবারের শিশুরাও।

চলতি বছরে জেলায় ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের আওতায় আনা হলেও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, সেচ ও লবণাক্ততার কারণে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। এবার ইরি-বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ১৬২ মেট্রিক টন। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি বছর নোয়াখালী জেলার সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ধান ৪৭ হাজার ৭৯৭ হেক্টর ও উপসি ধান ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি। 

ডিসেম্বর মাসে নোয়াখালীতে ইউরিয়া সারের চাহিদা পত্র ৩ হাজার ২৭ মেট্রিক টন পাঠানো হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৬৩ মেট্রিক টন । টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) চাহিদা ১ হাজার ৭৭৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৩৩ মেট্রিক টন। 

এমওপির চাহিদা ১ হাজার ২২৩ মেট্রিক টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে ৩১ মেট্রিক টন। ডাই-এমোনিয়াম ফসফেট এর চাহিদা ১ হাজার ৫৫৬ মেট্রিক টন হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে ২৮ মেট্রিক টন। 

একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সময়টা ইরি-বোরো চাষের ভরা মৌসুম। প্রতিদিন সেই ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা মাঠে ধান চাষ ও জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। জ্বালানি তেল, সার ও শ্রমিক মজুরির অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে ধান উৎপাদনে তাদের খরচের পরিমাণ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। 

অন্যদিকে, অন্য জেলা থেকে আসা শ্রমিকের সংখ্যাও বর্তমানে কম। একজন শ্রমিক সকাল ৮ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করলে দুপুরের খাওয়ার ছাড়াই তাকে মজুরি  ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দিতে হয়। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। 

জানুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) মজুদ রয়েছে ৭৫৪ মেট্রিক টন, এমওপি রয়েছে ২০৬ মেট্রিক টন, ডাই-এমোনিয়াম ফসফেট রয়েছে ৩৫১ মেট্রিক টন। 

এবার প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ টন শুকনা (ধান)।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে